রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই শহর ও শহরতলির পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে বিজেপি প্রশাসন। বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে নোংরা পরিবেশ, অবৈধ দখল এবং নাগরিক শৃঙ্খলার অভাব নিয়ে সরব হতে দেখা যাচ্ছে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে। সম্প্রতি কলকাতার গড়িয়াহাট বাজারে আচমকা পৌঁছে যান তিনি। বাজারের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিজেদের দোকানের সামনের অংশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তাঁদেরই নিতে হবে। পাশাপাশি বাজারে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে একাধিক নির্দেশও জারি করা হয়।
গড়িয়াহাট পরিদর্শনের সময় অগ্নিমিত্রা পাল জানান, কোথাও নোংরা দেখা গেলে জরিমানা করা হবে। শুধু তাই নয়, বাজারের দোকানগুলির অবৈধ সম্প্রসারণ সরিয়ে ফেলতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দোকানে ডাস্টবিন রাখা বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে। এর আগেও তিনি জানিয়েছিলেন, রাস্তাঘাটে আবর্জনা ফেলা, প্রকাশ্যে থুতু ফেলা বা প্রস্রাব করার মতো কাজের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসনের এই অবস্থান ইতিমধ্যেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই আবহেই বিষয়টি নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করে অগ্নিমিত্রা পালের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন শ্রীলেখা। পোস্টের শুরুতেই তিনি লেখেন, “আমি আপনাকে বহু বছর ধরে চিনি, তাই কয়েকটি ব্যক্তিগত কথা বলতে চাই। এরা এমন মানুষ, যারা এই ব্যবস্থার মধ্যেই জন্মেছে ও বড় হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে তাদের শেখানো হয়েছে যে এটাই স্বাভাবিক জীবনযাপন। এখন যেন তাদের অস্তিত্বই একটি রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে শহরকে পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি এবং নাগরিক সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে। তবে তাঁর মতে, এত বড় পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়।
পোস্টে শ্রীলেখা আরও লেখেন, “মানুষের কাছে শিক্ষা, টেকসই জীবিকা এবং দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে একটি জীবন নিশ্চিত করতে হবে, তারপরই তাদের কাছ থেকে আচরণগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা যায়। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে থাকা মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করার আগে অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। রাস্তার ধারে থুতু ফেলার জন্য শুধু জরিমানা করলেই হবে না, বরং কেন এই ধরনের আচরণ তৈরি হয়েছে, সেই কারণগুলিও খতিয়ে দেখা দরকার।” তাঁর বক্তব্য, সমস্যার মূল কারণগুলি বোঝার চেষ্টা না করে শুধুমাত্র শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিলে দীর্ঘমেয়াদে সমাধান আসবে না।
একজন নারী হিসেবে আরেকজন নারীর কাছে আবেদন জানিয়ে শ্রীলেখা লেখেন, “একজন নারী হিসেবে আরেকজন নারীকে আমার অনুরোধ, মানুষকে বোঝার চেষ্টা করুন এবং তাদেরও বোঝাতে সাহায্য করুন। কিন্তু বোঝাপড়ার শুরু হয় শিক্ষা থেকে, আর শিক্ষার ভিত্তি হল এমন একটি জীবন যেখানে প্রতিদিন বেঁচে থাকার চিন্তায় জর্জরিত থাকতে হয় না।” তাঁর মতে, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত না হলে সচেতনতার বার্তাও সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাবে না। তাই শিক্ষা এবং আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
আরও পড়ুনঃ একি কাণ্ড! এক ঢিলে মা’রলেন তিন পাখি? একদিকে দীর্ঘদিনের প্রেমিক, অন্যদিকে প্রযোজকের বিশেষ ঘনিষ্ঠতা, তার মাঝেই নামী নায়কের সঙ্গে বাড়ছে সখ্য! টলিপাড়ার এই অভিনেত্রীর রঙিন প্রেমকে ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা!
পোস্টের শেষ অংশে বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহরের উদাহরণ টেনে শ্রীলেখা লেখেন, “আমরা বিদেশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাস্তা দেখে মুগ্ধ হই এবং ভাবি আমাদের দেশে কেন তা সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের বাস্তবতা আলাদা। জনসংখ্যার ঘনত্ব, প্রতিদিনের সংগ্রাম এবং আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি এক নয়। অর্থনীতির উন্নতি অবশ্যই দরকার, তবে তা যেন ধনী ও গরিবের মধ্যে ব্যবধান আরও না বাড়ায়। আসুন, সেই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করি। দরিদ্রদের আরও প্রান্তিক করে না দিয়ে, তাদের শিক্ষিত করি, ক্ষমতায়ন করি এবং উন্নতির সুযোগ করে দিই। আশা করি, আপনি আমার কথার মর্মার্থ বুঝতে পারবেন।” তাঁর এই খোলা চিঠি ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।






