কয়েকদিন আগেই মস্তিষ্কে র’ক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বাংলা ছবির বর্ষীয়ান পরিচালক সুজিত গুহ। সেই সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছিল অনুরাগী মহলে। পরে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন বলেই জানা যায়। কিন্তু সম্প্রতি আবারও তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। সেই জল্পনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই পরিচালকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে শুরু হয় নতুন আলোচনা। বিষয়টির সত্যতা জানতে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সামনে আসে অন্য তথ্য। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তিনি হাসপাতালে নন, নিজের বাড়িতেই রয়েছেন।
তবে এখনও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় তাঁকে নিয়মিত নজরে রাখা হচ্ছে। পরিচালকের নম্বরে ফোন করা হলে সেটি রিসিভ করেন তাঁর বোনপোর স্ত্রী। তিনি সুজিত গুহর বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। তাঁর কথায়, “উনি বাড়িতে রয়েছেন। হ্যাঁ, দু’বার ভর্তি হয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু এখন বাড়িতেই আছেন। এখন আগের থেকে ভাল আছেন।” তিনি আরও জানান, সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য দু’বার হাসপাতালে ভর্তি হতে হলেও এখন তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় স্থিতিশীল। ফলে আবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর সঠিক নয়।
পরিবার এখন তাঁর চিকিৎসা এবং সুস্থতার দিকেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে। ধীরে ধীরে তিনি সুস্থতার পথে এগোচ্ছেন বলেও আশাবাদী পরিবারের সদস্যরা। এদিকে পরিচালক অর্কদীপ নাথ সমাজমাধ্যমে সুজিত গুহকে নিয়ে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি পরিচালকের চিকিৎসার স্বার্থে সাহায্যের আবেদন জানান। টলিউডের পরিচিত চারজন বিধায়ককে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, “পরিচালক সুজিত গুহ হাসপাতালে ভর্তি। আমি আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির চারজন বিধায়ক কে অনুরোধ করব যদি কোনোভাবে তাকে পিজি তে উডবার্ন বা অন্তত নরম্যাল পেয়িং বেড়ে স্থানান্তরিত করা যায়। কেপিসি থেকে আবেশ ব্যানার্জি, প্রিয়দর্শিনী হাকিমরা পাশ করে।
কাজেই ওই হাসপাতালে চিকিৎসা ছাড়া বাকি সব কিছু হয়। আমরা অর্থ সাহায্য করতেই পারি সবাই। কিন্তু সে অর্থের সঠিক ব্যবহার হবে না ওই হাসপাতালে। তার থেকে সরকারি জায়গায় থাকলে আমরা নিশ্চিন্ত থাকব। আর খরচটা কম হবে।” তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা শুরু হয়। তবে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের সাহায্যের আবেদন সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিচালকের বোনপোর স্ত্রী বলেন, “না, এই ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না। কারণ আমাদের কাছে এমন কোনও খবর নেই।
মামা সোমবার ছাড়া পেয়েছেন। তাঁকে নিয়েই আমরা ব্যস্ত এখন। উনি আগের থেকে ভালA থাকলেও এখনও কিছু সমস্যা তো রয়েছেই।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বাড়িতেই রয়েছেন সুজিত গুহ। যদিও কিছু শারীরিক সমস্যা এখনও রয়েছে, তবু আগের তুলনায় তিনি অনেকটাই ভাল আছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। আপাতত তাঁর বিশ্রাম এবং চিকিৎসাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, সুজিত গুহ বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় পরিচালক। তিনি বিয়ে করেননি এবং দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে নিজের দিদি ও জামাইবাবুর সঙ্গে বসবাস করেছেন।
আরও পড়ুনঃ টিআরপিতে বড় চমক! ফের সিংহাসন ছিনিয়ে নিল ‘জোয়ার ভাঁটা’, ‘পরিণীতা’কে আরও কোণঠাসা করছে স্টার জলসার মেগা! জেনে নিন, দুই চ্যানেলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এই সপ্তাহে সেরা পাঁচে জায়গা পেল কারা?
বর্তমানে তাঁদের মৃত্যুর পর বোনপো ও বোনপোর স্ত্রীর সঙ্গেই থাকেন তিনি। তাঁরাই এখন পরিচালকের দেখভালের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। আশির দশক থেকে একের পর এক সফল ছবি উপহার দিয়েছেন সুজিত গুহ। তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘অমর সঙ্গী’, ‘মনের মানুষ’, ‘ঝংকার’, ‘আশা ও ভালোবাসা’-র মতো জনপ্রিয় সিনেমা। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, তাপস পাল, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, জিৎ, দেব এবং কোয়েল মল্লিকের মতো বহু তারকা তাঁর পরিচালনায় কাজ করেছেন। বাংলা চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অবদান আজও বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।






