বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের পতনের পর, টলিউডের একাধিক তারকাকে ঘিরে নানা বিতর্ক সামনে আসছে। কখনও আর্থিক অনিয়ম, কখনও ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক, আবার কখনও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা অভিযোগ নিয়ে চর্চা চলছে সর্বত্র। ফলে কোনও জনপ্রিয় অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে নিয়ে সামান্য মন্তব্যও এখন মুহূর্তের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। সম্প্রতি ঠিক তেমনই একটি মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা, যেখানে অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায় তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু অঙ্কুশ হাজরাকে নিয়ে একটি মন্তব্য করেন। আর সেই মন্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের পাশাপাশি সঞ্চালনা ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়কে অঙ্কুশ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “অঙ্কুশ ভুল পথে প্রচুর টাকা ইনকাম করেছে, রিসেন্টলি আমার কাছে খবর আছে।” বিক্রমের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
ভিডিয়োটি দেখার পর থেকেই নেটমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে শুরু করেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, বিক্রম কি সত্যিই কোনও গোপন তথ্য জানালেন? আবার অনেকে ভাবতে শুরু করেন, অঙ্কুশকে নিয়ে কি নতুন কোনও বিতর্ক সামনে আসতে চলেছে? অভিনেতার এমন মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বাড়তে থাকে দর্শক ও অনুরাগীদের মধ্যে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে পুরো ঘটনার আসল প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বিক্রম চট্টোপাধ্যায় আদতে কোনও অভিযোগ করেননি বা অঙ্কুশের বিরুদ্ধে কোনও বেআইনি আয়ের ইঙ্গিতও দেননি। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকেই তিনি সম্পূর্ণ রসিকতা করে এই মন্তব্য করেছিলেন। অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল হালকা মেজাজের এবং সেখানে উপস্থিত সকলেই বিষয়টিকে মজার অংশ হিসেবেই নিয়েছিলেন। বন্ধুদের মধ্যে যেমন খুনসুটি বা ঠাট্টা-মশকরা হয়, বিক্রমের মন্তব্যও ছিল সেই ধরনেরই একটি মুহূর্ত।
আরও পড়ুনঃ উত্তমকুমারের ঠোঁটে যে কণ্ঠ একসময় ছিল অবিচ্ছেদ্য, সেই হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গানই তাঁর ছবিতে হঠাৎ কেন বন্ধ হয়েছিল? যাঁদের যুগলবন্দি বাংলা চলচ্চিত্রকে দিয়েছিল অসংখ্য কালজয়ী গান, কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনার জেরে চিড় ধরেছিল এই দুই কিংবদন্তির সম্পর্কে?
ঘটনার সম্পূর্ণ ভিডিও এবং প্রসঙ্গ সামনে আসার পর বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যায়। বিক্রম ও অঙ্কুশের বন্ধুত্ব বহু বছরের, আর সেই সম্পর্কের কারণেই একে অপরকে নিয়ে এমন মজার মন্তব্য করতে দেখা যায় তাঁদের। ফলে সামাজিক মাধ্যমে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। বরং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই জনপ্রিয় অভিনেতার বন্ধুত্ব এবং তাঁদের সহজ-সরল সম্পর্কই আরও একবার সামনে এসেছে। তাই বিক্রমের ওই মন্তব্যকে কোনও গুরুতর অভিযোগ হিসেবে নয়, বরং দুই বন্ধুর মজার খুনসুটির অংশ হিসেবেই দেখছেন অধিকাংশ মানুষ।






