“ওরা আমাকে বের করে দিয়েছিল…স্ক্রিন টেস্ট ও তিনটে শিডিউল শুট করিয়ে বলল, আমি অভিনয় পারি না” টলিউডে ‘পিআর রাজনীতি’র শি’কার হয়েছিলেন অর্জুন চক্রবর্তীও? সহ্য করতে হয়েছে অনেক অপমান? দীর্ঘদিন পর্দা থেকে দূরে, অবশেষে ফিরতেই কাদের নিশানা করলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা?

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তী (Arjun Chakrabarty) দীর্ঘ অভিনয় জীবনে একাধিক ওঠাপড়ার সাক্ষী থেকেছেন। রাজস্থানের উদয়পুর থেকে শুরু হওয়া তাঁর জীবনযাত্রা পরে পৌঁছয় মুম্বই এবং সেখান থেকে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয় জীবন, স্ট্রাগল, অপমান, ইন্ডাস্ট্রির অলিখিত রাজনীতি এবং দীর্ঘ বিরতির পর ফের বড়পর্দায় প্রত্যাবর্তন নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন অভিনেতা। তাঁর কথায় উঠে এল এমন কিছু অভিজ্ঞতা, যা আজও তাঁকে ভিতর থেকে নাড়া দেয়। অর্জুন জানান, কেরিয়ারের শুরুতেই তাঁকে বড় ধাক্কার মুখে পড়তে হয়েছিল।

ছবিতে কাজ শুরু করার পর আচমকাই তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। অভিনেতার কথায়, “ওরা আমাকে বের করে দিল অভিনয় পারি না বলে, তখন আমি বললাম, একটা স্ক্রিন টেস্ট এবং তিনটে শিডিউল করার পরে আপনি বুঝতে পারলেন যে আমি অভিনয় পারি না?” তাঁর দাবি, সেই সময় তিনি ইতিমধ্যেই গুলজারের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন এবং কামাল হাসানের সঙ্গে ‘জরাসি জিন্দেগী’ ছবিতেও অভিনয় করেছেন। তবু তাঁকে অপমানিত হতে হয়েছিল। অভিনেতার অভিযোগ, তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পিছনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং ইন্ডাস্ট্রির তথাকথিত ‘পিআর’-এর বড় ভূমিকা ছিল।

তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তিনি কোনওদিন জোর করে সম্পর্ক তৈরি করে কাজ আদায় করার মানুষ নন। অভিনেতার কথায়, “আমি যাকে পছন্দ করি তার সঙ্গে আড্ডা মারি। কাজ পাব বলে কারও সঙ্গে মিশতে পারব না।” সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অর্জুন আরও বলেন, তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য অভিনেতাকে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে সেই সময়ই ঘটে যায় বড় ট্র্যাজেডি। অভিনেতার ভাষায়, “ওটা ওদের কাল হলো যে আমাকে বাদ দিয়ে অন্য একজনকে নিল।” তখন মহুয়া আত্মহত্যা করেন অর্থাৎ জনপ্রিয় অভিনেত্রী মহুয়া মিত্র সেই সময় প্রয়াত হয়, এবং ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইটের যুগ শেষ হয়।

তাঁর দাবি, সেই ছবিও শেষ পর্যন্ত ভীষণভাবে ব্যর্থ হয় এবং প্রযোজক-পরিচালকরা কার্যত হারিয়ে যান ইন্ডাস্ট্রি থেকে। অভিনয় জীবনের কঠিন সময় নিয়েও অকপট ছিলেন অর্জুন। তিনি জানান, একসময় টানা ছ’বছর কাজ থেকে দূরে ছিলেন। যদিও অফার আসত, কিন্তু মনের মতো চরিত্র পাচ্ছিলেন না। তাঁর কথায়, “একটা মন খারাপের জায়গা তো ছিলই। আমি যেরকম রোল চাইছিলাম, সেরকম আসছিল না কেন সেটা ভাবতাম।” তবে এই সময় নিজেকে ভেঙে পড়তে দেননি তিনি। গান, কবিতা, উপন্যাস লেখা সবকিছুর মধ্যেই নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলেন। সাক্ষাৎকারে উঠে আসে পরিচালক তাপস সিনহার সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাতের ঘটনাও।

অর্জুন জানান, একদিন সাহস করে পরিচালকের বাড়িতে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তখন তাঁকে কার্যত অপমান করেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অভিনেতার কথায়, “উনি জানালা দিয়ে মুখ বার করে বললেন, কী চাই? কেন দেখা করতে এসেছেন? কোনও কাজ নেই, যান এখান থেকে।” সেই ঘটনায় তাঁর চোখে জল চলে এসেছিল বলেও জানান অভিনেতা। যদিও পরে তপন সিংহ নিজেই ফোন করে তাঁকে ছবির প্রস্তাব দেন এবং ‘অন্তর্ধান’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। অর্জুনের কথায়, বাংলা ছবির জগতে টিকে থাকতে গেলে প্রতিভার পাশাপাশি মানসিক শক্তিও ভীষণ জরুরি। একদিকে রাতভর শুটিং, অন্যদিকে সকালেই অন্য ছবির কাজে যোগ দেওয়া এইভাবেই একসময় দিন কাটিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “১৮ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে, আমার শুটিং আটকাতে…” স্বরূপ বিশ্বাস ও পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে গু’ণ্ডারাজ, হুম’কির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পরিচালক বাবাই সেনের! বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুনদের দমিয়ে রাখতেই এতদিন কেমন ‘গিল্ড রাজ’ চলত? কোন ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন তিনি?

অভিনেতা বলেন, “হোল নাইট শুটিং করে সকালে আবার অন্য ছবির সেটে চলে যেতাম। এরকমও করেছি।” দীর্ঘ বিরতির পর এবার ফের বড়পর্দায় ফিরছেন তিনি ‘ফুলপিশি’ ছবির মাধ্যমে। এই চরিত্র তাঁকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে বলেই জানিয়েছেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, “একটা আর্টিস্টের খিদে থাকে একটা ভালো রোলের জন্য। এই রোলটার মধ্যে আমি সেই জিনিসটা পেয়েছি।” নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের কাজ দেখেও তিনি মুগ্ধ। তাঁদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন বলেও স্বীকার করেছেন। সবশেষে দর্শকদের উদ্দেশে অর্জুনের বার্তা, “এই ছবিটা আপনারা বারবার দেখবেন। আমি হলফ করে বলতে পারি, ছবিটা খুব ভালো হয়েছে।” দীর্ঘ সংগ্রামের পর ফের নতুন উদ্যমে ফিরছেন অভিনেতা। আর তাঁর এই লড়াইয়ের গল্প আজও অনুপ্রেরণা দেয় বহু মানুষকে।

You cannot copy content of this page