এসভিএফের ধারাবাহিক মানেই জুটির ঝামেলা! যশ-মধুমিতা, দিব্যজ্যোতি-স্বস্তিকা, জিতু-দিতিপ্রিয়ার পর এবার শুভ্রজিৎ-দীপান্বিতার অশান্তি! নায়ক-নায়িকার টানাপোড়েন ঘিরে বিতর্কে সরগরম টেলিপাড়া! একই প্রযোজনা সংস্থায় বারবার একই ঘটনা কেন? প্রশ্ন ছোটপর্দার দর্শকদের!

স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শুধু তোমারই জন্য’ ঘিরে নতুন বিতর্ক এখন টেলিপাড়ার অন্যতম আলোচনার বিষয়। কিছুদিন আগেও জিতু কমল ও দিতিপ্রিয়া রায়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে চর্চা হয়েছিল দর্শকমহলে। এবার সেই তালিকায় উঠে এসেছে আরও এক অনস্ক্রিন জুটির নাম। ধারাবাহিকের নায়ক রাহুল চরিত্রে অভিনয় করা শুভ্রজিৎ সাহা এবং নায়িকা রাহি চরিত্রে অভিনয় করা দীপান্বিতা রক্ষিতকে ঘিরে নানান গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। পর্দায় তাঁদের রসায়ন দর্শকদের মন জয় করলেও, বাস্তব জীবনে তাঁদের সম্পর্ক নাকি খুব একটা স্বাভাবিক নয় বলেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই কারণেই ফের একবার প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দর্শকদের একাংশের দাবি, এই ধরনের ঘটনা ওই সংস্থার ধারাবাহিকগুলিতে বারবার দেখা যাচ্ছে।

ধারাবাহিক জনপ্রিয় করার জন্য সাধারণত নায়ক-নায়িকারা নিজেদের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় একসঙ্গে ছবি বা ভিডিও পোস্ট করেন। এর মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে সিরিয়াল নিয়ে আগ্রহও বাড়ানো হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে শুরু থেকেই একটি বিষয় অনেকের নজরে পড়েছে। দীপান্বিতা নিয়মিতভাবে ধারাবাহিকের প্রচারে জুটির ছবি পোস্ট করলেও শুভ্রজিতের প্রোফাইলে সেই ধরনের প্রচার খুব একটা দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আগেই কিছু দর্শক প্রশ্ন তুলেছিলেন। সম্প্রতি সেই জল্পনা আরও বেড়ে যায় যখন দেখা যায়, দীপান্বিতা নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে শুভ্রজিতের সঙ্গে তোলা বেশ কয়েকটি ছবিও সরিয়ে দিয়েছেন। এরপর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

এরই মধ্যে আরও একটি ঘটনা এই বিতর্ককে বাড়িয়ে দিয়েছে। শুভ্রজিতের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা মিত্র নিজের সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে শুভ্রজিতের সঙ্গে ধারাবাহিকের খলনায়িকা তিতলি চরিত্রে অভিনয় করা মন্দিরার ছবি দেখা যায়। সেই পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, “এই জুটিকে বেশ ভালো মানায়!” এই একটি মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় নতুন জল্পনা। অনেকেই মনে করতে শুরু করেন, শুভ্রজিৎ ও দীপান্বিতার মধ্যে হয়তো সত্যিই কোনও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিনেতা বা অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবুও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা থামার নাম নিচ্ছে না।

এই ঘটনার পর সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফও। দর্শকদের একাংশের অভিযোগ, তাদের ধারাবাহিকগুলিতে নায়ক-নায়িকার ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমস্যা যেন নতুন কিছু নয়। অতীতেও এমন একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’ ধারাবাহিকের যশ দাশগুপ্ত ও মধুমিতা সরকারের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছিল। একইভাবে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ধারাবাহিকের দিব্যজ্যোতি দত্ত ও স্বস্তিকা ঘোষকেও ঘিরে নানা জল্পনা শোনা গিয়েছিল। এছাড়াও ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকে জিতু কমল ও দিতিপ্রিয়া রায়ের মনোমালিন্যের খবরও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে শেষ পর্যন্ত দিতিপ্রিয়া ধারাবাহিক ছেড়ে দেন।

আরও পড়ুনঃ “পর’কীয়া তো সুস্থতার লক্ষণ, আটকানোর কোনও প্রয়োজন নেই” বিতর্কিত মন্তব্য অপরাজিতা আঢ্যের! ‘একজন শিল্পীর মুখে এই কথা মানায়?’ ‘সম্পর্ক ভাঙার যন্ত্র’ণাটা যারা ভোগ করেছে তারাই জানে’, জীবনে একবার প্রতা’রণার শি’কার হলে বুঝতেন, কথাটা কতটা অসংবেদনশীল!’ নেটিজেনদের কটাক্ষের মুখে অভিনেত্রী!

বারবার একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় অনেক দর্শক এখন প্রশ্ন তুলছেন, এই পরিস্থিতিতে প্রযোজনা সংস্থার কোনও দায় রয়েছে কি না। তাঁদের মতে, একের পর এক ধারাবাহিকে নায়ক-নায়িকাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসছে, যা দর্শকদের মধ্যেও প্রভাব ফেলছে। এমনকি কিছু দর্শক সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, রাহুল চরিত্রে শুভ্রজিতের পরিবর্তে অন্য কাউকে নেওয়া হোক। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্মাতাদের তরফে কোনও সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে শুভ্রজিৎ ও দীপান্বিতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে দর্শকমহলের।

You cannot copy content of this page