বিগ বস বাংলার ঘরে অনুষ্কা ঘোষকে ঘিরে বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে প্রবেশের পর থেকেই একের পর এক সমীকরণে হস্তক্ষেপ করেছেন তিনি। বিশেষ করে রাজবীর দে ও নন্দিনী দত্তের সম্পর্ক নিয়ে তাঁর মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছিল চর্চা। এবার সেই অনুষ্কাকেই সরাসরি নিশানা করলেন অভিনেত্রী আয়েন্দ্রী রায়। সামাজিক মাধ্যমে নতুন পোস্ট করে ফের নন্দিনীর খেলার প্রশংসা করেছেন তিনি। শুধু প্রশংসাই নয়, অনুষ্কার বর্তমান ভূমিকা নিয়েও বেশ কড়া মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিগ বস অনুরাগীদের মধ্যে ফের শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
অনুষ্কা ঘরে ঢোকার পর থেকেই রাজবীর ও নন্দিনীর সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। রাজবীরকে সতর্ক করে তিনি বলেছিলেন, অন্য কারও প্রভাবে যেন নিজের খেলা নষ্ট না করেন। নন্দিনীর সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলে জানতে চেয়েছিলেন, কেন তিনি রাজবীরকে ঘিরেই খেলছেন। এমনকি বিগ বসের ঘর প্রেম করার জায়গা নয় বলেও নন্দিনীকে কটাক্ষ করেছিলেন অনুষ্কা। রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্ককে নকল বলেও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় এবং অনুষ্কা ও নন্দিনীর মধ্যে ব্যক্তিগত আক্রমণও শুরু হয়। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় নন্দিনীকে ‘নোংরা মেয়ে’ বলেও আক্রমণ করার অভিযোগ উঠেছে অনুষ্কার বিরুদ্ধে।
শুধু নন্দিনীর সঙ্গে বচসাতেই থেমে থাকেনি অনুষ্কাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। সম্প্রতি রাজবীরের সঙ্গেও টাস্কের সময় তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। সেই ঝামেলায় নন্দিনীর প্রসঙ্গও উঠে আসে এবং কথার লড়াই ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছয়। অন্যদিকে, নন্দিনীকে ঘিরে অনুষ্কার মন্তব্যের জেরে বাইরে ‘বয়কট নন্দিনী’ ট্রেন্ড নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ‘দাদার দরবার’-এ এই প্রসঙ্গ উঠে এলে নন্দিনী দাবি করেন, অনুষ্কা তাঁকে বাইরের নেতিবাচক ট্রেন্ডের কথা জানিয়েছিলেন। অনুষ্কা অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ঘরের পরিস্থিতি দেখেই তিনি কথা বলেছেন। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার আয়েন্দ্রীর নতুন পোস্টে অনুষ্কাকে নিয়ে আরও এক নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আয়েন্দ্রী এবার লিখেছেন, “দুঃখিত! অনুষ্কা, তুমি এখানে রাণী হিসেবে ব্যর্থ হয়েছ। এখানে নন্দিনী দত্তের রাজত্ব চলছে। প্রতিদিনের ঘটনা, প্রতিটা টাস্ক এমনকি তার ঝগড়াগুলোও তাকে আকর্ষণীয় করে তুলছে।” অর্থাৎ, অনুষ্কা ঘরে এসে যে প্রভাব তৈরি করার চেষ্টা করছেন, আয়েন্দ্রীর চোখে তার চেয়ে নন্দিনীর উপস্থিতিই এখন বেশি নজর কাড়ছে। প্রতিদিনের ঘটনা থেকে শুরু করে টাস্ক এবং ঝগড়া, সবকিছুর মধ্যেই নন্দিনীর উপস্থিতি আয়েন্দ্রীর কাছে আকর্ষণীয় বলে মনে হয়েছে। এর আগেও অনুষ্কা আসার পর নন্দিনীর খেলা তাঁর ভালো লাগছে বলে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তখন তিনি বলেছিলেন, নন্দিনী সূক্ষ্মভাবে খেলছেন এবং রাজবীরের ঝগড়ায় আর জড়াচ্ছেন না। এমনকি নন্দিনীর মিষ্টি ব্যবহার তাঁর চোখে পড়ছে এবং তাঁকে স্মার্ট খেলোয়াড় বলেও প্রশংসা করেছিলেন। এবার সেই মত আরও স্পষ্ট করে অনুষ্কার বিপরীতে নন্দিনীকে দাঁড় করালেন আয়েন্দ্রী।
নন্দিনীকে নিয়ে আয়েন্দ্রীর এই সমর্থন অবশ্য একেবারে নতুন নয়। কয়েকদিন আগেই অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, অনুষ্কা আসার পর থেকে নন্দিনীর খেলা তাঁর বেশি ভালো লাগছে। তাঁর দাবি ছিল, নন্দিনী নিজের মতো করে খেলছেন এবং রাজবীরকে কেন্দ্র করে আর আগের মতো জড়িয়ে পড়ছেন না। সেই সময় আয়েন্দ্রী আরও বলেছিলেন, নন্দিনী এখন গেম নিয়ে ডিলের কথা বলছেন এবং দেখতে তাঁকে বেশ স্মার্ট লাগছে। এমনকি সরাসরি মন্তব্য করেছিলেন, “ও নিশ্চিত ফাইনালিস্ট!” অর্থাৎ, নন্দিনীর খেলার প্রতি আয়েন্দ্রীর আস্থা ক্রমশই প্রকাশ্যে আসছে। এবার সেই নন্দিনীর প্রশংসার পাশাপাশি অনুষ্কাকে ‘রাণী হিসেবে ব্যর্থ’ বলায় তাঁর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে গেল।
আরও পড়ুনঃ “অশুভ মহালয়া! নারীদের য’ন্ত্রণায় উল্লাস করে…ঘৃণার আ’গুনে পু’ড়ছে প্রতিদিন” “শুধু মূর্তিতে নয়, মনের অসুরদের নিধন এসো মা!” যারা মা রূপে পুজো করে, তারাই অন্য মেয়েকে কেন ক’ষ্ট দিয়ে আনন্দ পায়? মহালয়ায় বি*স্ফোরক পোস্ট মৌমিতা পণ্ডিতের! রাহুল অরুণোদয়ের সঙ্গে প্রেম বিতর্কের মাঝেই কাদের বিরুদ্ধে সরব অভিনেত্রী?
তবে আয়েন্দ্রীর এই মন্তব্যের মধ্যেই বিগ বস বাংলার বর্তমান সমীকরণের ছবিটাও ধরা পড়ছে। একদিকে রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্ক নিয়ে এখনও দর্শকদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ রয়েছে। অন্যদিকে অনুষ্কার প্রবেশের পর সেই সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন, ঝগড়া এবং ভুল বোঝাবুঝি আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নন্দিনীর সঙ্গে অনুষ্কার ব্যক্তিগত বচসা এবং রাজবীরের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত ঝামেলাও সেই সমীকরণকে আরও জটিল করেছে। এখন আয়েন্দ্রী প্রকাশ্যে বলছেন, অনুষ্কার বদলে নন্দিনীর রাজত্বই তাঁর চোখে বেশি আকর্ষণীয়। ফলে নন্দিনীর অনুরাগীরা এই মন্তব্যকে স্বাভাবিকভাবেই সমর্থন করছেন বলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আয়েন্দ্রীর সঙ্গে দর্শকরাও কি একমত, নাকি অনুষ্কার খেলাতেই তাঁরা বেশি আগ্রহী, এখন সেটাই দেখার।






