স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘কুমকুম’ (Kumkum) শুরু হওয়ার আগেই দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। ‘মিঠাই’ ধারাবাহিকে উচ্ছেবাবু চরিত্রে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর আদৃত রায়কে প্রথমবার এই চ্যানেলের পর্দায় দেখতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন অনুরাগীরা। গতকাল থেকে শুরু হয়েছে এই নতুন ধারাবাহিকের সম্প্রচার। প্রথম পর্বেই দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে কুমকুমের কঠিন জীবনসংগ্রাম, তার প্রতিদিনের লড়াই এবং সমাজের নানান অবহেলার মুখোমুখি হওয়ার গল্প। তবে গল্পের আবেগঘন দিকের পাশাপাশি একটি বিশেষ দৃশ্য নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
ধারাবাহিকের শুরুতেই দেখা যায়, অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই দিন কাটাচ্ছে কুমকুম। সংসারের সব কাজ সামলেও তাকে প্রতি মুহূর্তে অপমান সহ্য করতে হচ্ছে। কিন্তু প্রথম পর্বে যে ঘটনাটি দর্শকদের সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে, তা হলো তার শ্বশুরের আচরণ। একটি দৃশ্যে দেখা যায়, চায়ে চিনি কম হয়েছে এই অভিযোগ তুলে কুমকুমের দিকে গরম চা ছুঁড়ে মারেন তিনি। শুধু তাই নয়, চায়ের কাপও ছুড়ে দেওয়া হয় তার দিকে। এরপর একের পর এক কটূক্তি করে তাকে “অলক্ষ্মী” এবং “অপয়া” বলেও অপমান করা হয়।
ঘটনাটি দেখার পর থেকেই দর্শকদের একাংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে কেউ লিখেছেন, “এটা আবার কেমন ধরনের শ্বশুর? এতটা নিষ্ঠুর মানুষ সত্যিই হয় নাকি?” আবার অন্য একজনের মন্তব্য, “চায়ে চিনি কম হয়েছে বলে একজন মানুষকে এভাবে অপমান করা দেখাটা খুব কষ্টের ছিল।” অনেকেই মনে করছেন, প্রথম পর্বেই এমন মাত্রার মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন দেখানো হবে, তা তাঁরা আশা করেননি। ফলে ধারাবাহিকের এই অংশ ঘিরে সমালোচনা ক্রমশ বাড়ছে।
দর্শকদের আরও একটি বড় প্রশ্ন, পরিবারের একজন প্রবীণ সদস্য হিসেবে শ্বশুরের ভূমিকা সাধারণত রক্ষক এবং অভিভাবকের মতো হওয়ার কথা। সেখানে কুমকুমের প্রতি তাঁর আচরণ একেবারেই উল্টো ছবি তুলে ধরেছে। এমনকি এক পর্যায়ে জুতো হাতে নিয়েও তাকে মারতে যাওয়ার দৃশ্য অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর লেগেছে। দর্শকদের মতে, একজন পুত্রবধূকে মেয়ের মতো সম্মান ও স্নেহ দেওয়ার বদলে তাকে প্রতিনিয়ত অপমানিত করা হচ্ছে। সেই কারণেই প্রথম পর্ব সম্প্রচারের পর থেকেই কুমকুম চরিত্রটির প্রতি সহানুভূতি তৈরি হয়েছে দর্শকদের মধ্যে।
আরও পড়ুনঃ মস্তিষ্কে র’ক্তক্ষ’রণ, আশ’ঙ্কাজনক অবস্থায় ফের হাসপাতালে ভর্তি ‘অমর সঙ্গী’-র পরিচালক সুজিত গুহ! আর্থিক অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না ঠিক মতো? সামাজিক মাধ্যমে জল্পনা ছড়াতেই বড় বার্তা পরিবারের! কেমন আছেন এখন বর্ষীয়ান শিল্পী?
তবে সমালোচনার পাশাপাশি অনেকেই মনে করছেন, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কুমকুম নিশ্চয়ই নিজের লড়াই চালিয়ে যাবে। কারণ প্রথম পর্ব থেকেই তাকে একজন আত্মসম্মানী এবং সংগ্রামী নারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাই দর্শকদের একাংশ এখন অপেক্ষা করছেন, কবে এই অপমানের জবাব মিলবে এবং কবে কুমকুম তার প্রাপ্য সম্মান ফিরে পাবে। আদৃত রায়ের নতুন ধারাবাহিকের প্রথম পর্ব ঘিরে এই আলোচনা ইতিমধ্যেই বেশ জোরালো হয়েছে। এখন দেখার, আগামী পর্বগুলিতে গল্প কোন দিকে মোড় নেয় এবং কুমকুমের জীবনের এই কঠিন অধ্যায় কীভাবে বদলায়।






