অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর অনেক লেখা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। বিশেষ করে কিছু পোস্টে তাঁর বয়স, মৃত্যুর সময় ও পরিস্থিতি মিলে যাওয়ায় নেটিজেনদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। মনে হচ্ছে, মাসখানেক আগে করা একটি পোস্টেও তিনি যেন নিজের শেষের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এবার সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে তাঁর অভিনীত ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের কিছু দৃশ্য, যেখানে রাহুলের সংলাপ অনেকের চোখে পড়েছে।
ভাইরাল পোস্টে দেখা গেছে, ধারাবাহিকের একাধিক সংলাপে “জলের ধারে,” “পৃথিবী ছেড়ে বিদায়,” “আমার যাবার সময় হলো” ইত্যাদি লাইন রয়েছে। পোস্টটি শেয়ার করেছেন একজন দর্শক, যিনি লিখেছেন, “এই সংলাপগুলো আমাদের রাতের এপিসোড দেখার সময় অস্থির করে তুলেছে। এমন মনে হচ্ছে যেন অভিনেতা তাঁর কথাগুলো সংলাপের মাধ্যমে আগে থেকেই বলছেন।” তিনি আরও লিখেছেন, ধারাবাহিকের এই সংলাপ এবং রাহুলের বাস্তব জীবন একসাথে মিলছে, যা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল ও দুঃখ তৈরি করেছে।
রাহুলের মৃত্যুর পর তাঁর একটি পোস্টও ভাইরাল হয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি লিখেছিলেন, “সূর্যাস্ত ও অরুণোদয় একসাথে দেখার শেষ সুযোগ।” এই পোস্ট পরে মৃত্যুর আলোকে অনেকের কাছে বিশেষ অর্থ বহন করতে শুরু করেছে। অনেকে লিখেছেন, এমনভাবে শেষ কথা লিখে অভিনেতা কি সত্যিই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। ছবিতে দেখা যায় রাহুল একটি নৌকার মধ্যে দাঁড়িয়ে দূরের নদীর দিকে তাকাচ্ছেন। তার হেলান দেওয়া অবস্থান, প্রিন্টেড শার্ট ও রোদচশমা সহ পুরো দৃশ্যটি অনেককে মুগ্ধ করেছে।
View this post on Instagram
তাঁর লেখা গল্পও এই মিলকে আরও গভীর করেছে। ২০১৮ সালে আর্টিস্ট ফোরামের জন্য লেখা একটি গল্পে প্রধান চরিত্রটির বয়স ৪২ বছর। চরিত্রটি নদীতে পা পিছলে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মারা যায়। এই গল্পের চরিত্রের অনেক বৈশিষ্ট্যই রাহুলের সঙ্গে মিলে যায়। তার মৃত্যুর সময় এবং গল্পের পরিস্থিতি এতটাই মিলছে যে নেটিজেনরা অবাক। ২৯ মার্চ, তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-এর শুটিং চলাকালীন হঠাৎ নদীতে পড়ে অভিনেতার মৃত্যু ঘটে।
আরও পড়ুনঃ রাহুলের অকালপ্র’য়াণে অনিশ্চয়তা! ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’য় অভিনেতার শেষ দৃশ্যে ব্যবহার হবে এআই? দর্শকদের আপত্তি সত্ত্বেও হচ্ছে নায়কের মুখ বদল? বড় সিদ্ধান্তের মুখে নির্মাতারা, ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ কী জানালেন পরিচালক?
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে শেষকৃত্য করা হয়েছে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে। তাঁর ছেলে সহজ তাঁকে দাহ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তরা তাঁকে স্মরণ করছেন এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। অভিনেতার অভিনয়, লেখা এবং সংলাপ মানুষের মনে চিরদিন থাকবে। অনেকেই এখনো ভাবছেন, এই সমস্ত মিল কাকতালীয় নাকি তাঁর পূর্বজ্ঞানের ইঙ্গিত ছিল। তবে রাহুলের অভিনয় ও সৃষ্টিশীলতার স্মৃতি সবসময় দর্শকদের মনে জীবিত থাকবে।






