ধারাবাহিকের চরিত্ররা সব জানে, সব বোঝে, শুধু ফিজিক্স আর কমন সেন্স ছাড়া! সাম্প্রতিক স্টার জলসার ‘গৃহপ্রবেশ’ (Grihoprobesh) -এর এক পর্বে দেখা গেল শুভলক্ষ্মী (Ushasi Ray)ফোন ফেলে আসে মিস্টার সেনের বাড়িতে, আর ভাগ্যের ফেরে সেটি গিয়ে পড়ল আদৃতের (Sushmit Mukherjee) হাতে। রুদ্ধশ্বাস ভাবে ছুটতে থাকে সে ফোনটি ফেরত দেওয়ার জন্য শুভর গাড়ি পেছনে। কিন্তু ফোনের স্ক্রিন খোলা থাকলেও আয়ান ওরফে আদৃত একবারও তাকিয়ে দেখলেন না! কেন?
কারণ তাকালেই তো ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যেত, অতীতের স্মৃতি উথলে উঠত, দর্শকের সময় নষ্ট করা যেত না! ঠিক একইভাবে ফোনটি ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব নেয় মোহনা কিন্তু সেও একবার ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকায় না! অথচ শুভলক্ষীর সামনে দাঁড়িয়েই সে ফোনটা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকে। ভাবুন তো, আপনি একটা ফোন হাতে পেলেন, স্ক্রিন জ্বলছে, অথচ একবারও দেখলেন না? এটা কি অদেও গ্রহণযোগ্য?
এই সিচুয়েশন এতটাই অস্বাভাবিক যে দর্শকদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে! সমাজ মাধ্যমে একজন লিখেছেন, “এতদিন শুধু মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অগ্রাহ্য হত, এবার কমন সেন্সও বাদ!” অন্যজন লিখেছেন, “ফোন হাতে পেয়েও স্ক্রিন না দেখা? এমন ধৈর্য রামায়ণ-মহাভারতেও কেউ দেখায়নি!” সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ফোনের ওয়ালপেপারেই রয়েছে শুভ আর আদৃতের ছবি! অর্থাৎ, যদি একবারও নজর পড়ত, তাহলে পুরো কাহিনির মোড় ঘুরে যেত।
কিন্তু না! পরিচালকের তো আর গল্প এত সহজে শেষ করার ইচ্ছে নেই। তার চাইতে ধীরে ধীরে টানটান নাটকীয়তা, আর তার জন্যই বাস্তবতাকে বুস্টার ডোজ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। এদিকে, দর্শকরা এডিটিং আর গল্পের লজিক নিয়ে রীতিমতো মজা নিচ্ছেন। কেউ বলছেন, “এই সিরিয়ালের চরিত্ররা হয়ত ফোন ধরে চোখ বন্ধ করে থাকে!” আরেকজন লিখেছেন, “এতদিন জানতাম সিরিয়ালে আইন-কানুনের বালাই নেই,
আরও পড়ুনঃ “পরমদা দারুণ চুমু খায় পুরো ইমরান হাশমির মতো!” ‘কিলবিল সোসাইটি’র দৃশ্যে প্রেমিক বনি না-খুশ! তবে কি বনি-কৌশানীর সম্পর্কের বাঁধন ঢিলে হওয়ার ইঙ্গিত?
এখন দেখছি দৃষ্টিশক্তিও নেই!” এমনকি মজা করে অনেকে বলছেন, “এই সিরিয়ালের জন্য বিজ্ঞানীরা এবার নতুন থিওরি আনবেন!” সব মিলিয়ে ‘গৃহপ্রবেশ’-এর এই দৃশ্য আবারও প্রমাণ করল, ধারাবাহিকের লজিক দর্শকদের লজিকের চেয়ে আলাদা! গল্প যতই নাটকীয় হোক, এমন ‘টেলি-সায়েন্স’ দেখে দর্শকরা যে ট্রোলিং থেকে বিরত থাকবেন না, সেটা একেবারেই নিশ্চিত!