বহুদিন পর ছোটপর্দায় আবার নায়িকা হিসেবে ফিরলেন ‘শ্বেতা মিশ্র’ (Sweta Mishra)। দর্শকেরা তাঁকে এর আগে বিভিন্ন মাধ্যমে দেখেছেন। কখনও বড়পর্দায়, কখনও ওয়েব সিরিজে, আবার কখনও টেলিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর নতুন ছবি ‘মন মানে না’, আর তারপরেই সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুযোগ। স্টার জলসার ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের দ্বিতীয় অধ্যায়ে মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ছোটপর্দায় এই ফেরা তাঁর কেরিয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় বলেই মনে করছেন অনেকে।
কারণ, নায়িকা হিসেবে তাঁকে শেষ দেখা গিয়েছিল প্রায় সাত বছর আগে! তারপর থেকেই মূলত পার্শ্ব চরিত্র এবং নেতিবাচক চরিত্রেই অভিনয় করেছেন ছোটপর্দায়। গত দু’বছর টেলিভিশনে তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়েনি। তবে কাজ থেকে তিনি দূরে ছিলেন না। বরং অন্যান্য মাধ্যমে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। শ্বেতার মতে, কাজের মাধ্যমের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল কাজের মান। যে চরিত্রই হোক, সেটাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
তাই তিনি পর্দার ধরন নিয়ে খুব বেশি ভাবেন না, বরং চরিত্রের গভীরতা তাঁকে বেশি টানে। ওয়েব সিরিজ ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’এ তাঁর অভিনীত দীপা চরিত্রটি এখনও দর্শকের আলোচনায় আসে। সেই কাজ তাঁর অভিনয়জীবনে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে বলেই মনে করা হয়। যদিও শ্বেতার নিজের বিশ্বাস, এর আগেও কিছু চরিত্র তাঁর কেরিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। বিশেষ করে ‘ইচ্ছে পুতুল’ এবং ‘ধুলোকণা’ ধারাবাহিকের চরিত্র তাঁর অভিনয়ের দিক পরিবর্তনে সাহায্য করেছিল।
সেই সময় থেকেই নেতিবাচক চরিত্রের বাইরে এসে নতুন ধরনের ভূমিকায় কাজ করার সুযোগ বাড়তে শুরু করে। দীর্ঘ সময় তিনি খলনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয়ের পরিসর বাড়ালেও, একই ছাঁচে আটকে থাকতে চাননি তিনি। এখন নানান রকম চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়ে তিনি সন্তুষ্ট। এই পরিবর্তন তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে এবং নিজের অভিনয় নিয়ে আরও সচেতন করেছে।
আরও পড়ুনঃ “যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকি, ক্ষমা করে দেবেন!” আনন্দের মাঝেই হঠাৎ পোস্ট, বিয়ের পরই এই বার্তা কেন দিলেন রণজয়? নব দম্পতির সুখের মুহূর্তে কী এমন ঘটল?
ফলে ছোটপর্দায় নায়িকা হিসেবে ফেরা তাঁর কাছে শুধুই প্রত্যাবর্তন নয়, বরং নতুন সম্ভাবনার দরজা। টিআরপি বা সাফল্যের অঙ্ক নিয়ে এই মুহূর্তে বিশেষ চিন্তিত নন শ্বেতা। তাঁর বিশ্বাস, মন দিয়ে কাজ করলে তার ফল মিলবেই। দর্শকের সঙ্গে সংযোগটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। তাই নতুন ধারাবাহিক বা ছবির সাফল্য নিয়ে আগে থেকে ভাবার বদলে তিনি নিজের প্রস্তুতি আর চরিত্রের প্রতি দায়বদ্ধতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। আপনাদের কী মত? নেতিবাচক চরিত্রের বাইরে, মুখ্য চরিত্রে কেমন মানাচ্ছে শ্বেতাকে?






