ভোটের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ অভিনেত্রী সোনামনি সাহা! শাসক দলকে সমর্থন করে কনটেন্টের মুখ তিনি! ‘ঠিক এগোচ্ছেন, এভাবে চললে তবেই টিকিট মিলবে!’—অভিনেত্রীকে তীব্র কটা’ক্ষ নেটপাড়ার!

বাংলা বিনোদন জগতের ছোট পর্দা হোক কিংবা বড় পর্দা—অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও নাম লিখিয়েছেন বহু তারকা। গত কয়েক বছরে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। কেউ সরাসরি ভোটে প্রার্থী হচ্ছেন, কেউ আবার রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে উপস্থিত থেকে সমর্থনের বার্তা দিচ্ছেন। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মনে করেন, তারকারা রাজনীতিতে এলে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হয়। আবার অন্য একটি অংশের দাবি, জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েই অনেকেই রাজনীতির মঞ্চে আসেন।

এই পরিস্থিতিতেই প্রশ্ন উঠছে—বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ সোনামনি সাহাও কি এবার সেই তালিকায় নাম লেখাতে চলেছেন? মালদার মেয়ে সোনামণি সাহা ছোট পর্দার পরিচিত মুখ। শেষবার তাঁকে দেখা গিয়েছিল জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শুভ বিবাহ’-তে। এর আগে ‘মোহর’ ও ‘এক্কা দোক্কা’-র মতো একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের কাছে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। ধারাবাহিক জগতে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং পরিচিতির কারণে রাজনৈতিক মহলেও তাঁর নাম ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে।

টেলিভিশনের পর্দায় নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে বহুদিন ধরেই দর্শকদের মনোরঞ্জন করে আসছেন সোনামনি। বিভিন্ন ধারাবাহিকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের কাছে আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। কখনও শান্ত, কখনও দৃঢ়চরিত্র—বিভিন্ন রূপে তাঁকে দেখেছেন দর্শক। সেই কারণেই সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা কম নয়। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব এবং সহজাত আচরণের জন্যও অনেকেই তাঁকে পছন্দ করেন।

সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে, শাসক দলের সমর্থনে একটি ডিজিটাল কনটেন্টে দেখা যেতে পারে সোনামনিকে। সেই কনটেন্টের শুটিংও নাকি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তাঁকে ‘দিদি’অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব স্নেহ ও সম্মানের সঙ্গে ডাকেন, সেই আমন্ত্রণেই তিনি উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেই বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, রাজনীতি সম্পর্কে তিনি খুব বেশি ওয়াকিবহাল নন। যদিও ভবিষ্যতে যদি মালদা থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব আসে, তখন বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিনেত্রী।

আরও পড়ুনঃ “কেউ মা’রা গেলে ফুর্তি করে মালা পরাতে প্রথম দেখলাম!” “মনে হচ্ছে বিয়ে বাড়িতে এসেছে…শো’ক প্রকাশ না করুন, গম্ভীর তো থাকা যায়!” মুখে একগাল হাসি আর হাতে সাদা মালা, তমাল রায়চৌধুরীর শেষ বিদায়ে সুদীপ্তা চক্রবর্তীর আচরণ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়!

এই ঘটনার পর থেকেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—রাজনৈতিক দলের সমর্থনে কনটেন্ট তৈরি করা কি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত? আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এটি শুধুই একটি কাজের অংশ। এর আগেও অনন্যা গুহ, সুদীপা বক্সীসহ একাধিক পরিচিত মুখকে শাসক দলের পক্ষে কনটেন্ট তৈরি করতে দেখা গিয়েছে। ফলে সোনামণির ক্ষেত্রেও জল্পনা আরও বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি সত্যিই রাজনীতির ময়দানে নামবেন কি না, সেই উত্তর ভবিষ্যতই দেবে—তবে আপাতত এই নিয়েই সরগরম নেটপাড়া।

You cannot copy content of this page