‘প্রিয়জন’ থেকে ‘প্রয়োজন’ হওয়ার সফরে নিজের আত্মসম্মান কখনও হারাননি! বছর দুই আগে হারিয়েছেন মাকে, তারপরই বিচ্ছেদ! দরকার ফুরোতেই কি বদলে যায় সম্পর্কের সমীকরণ? কোন কষ্টের অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন অভিনেত্রী তন্বী লাহা রায়?

বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ ‘তন্বী লাহা রায়’ (Tonni Laha Roy) আবারও আলোচনায়। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ধারাবাহিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বহুবার চর্চা হয়েছে। গত কয়েক বছরে জীবনের নানা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। মাকে হারানোর শোক যেমন রয়েছে, তেমনই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণাও তাঁর জীবনের অংশ। তবে এসব বিষয় নিয়ে খুব একটা প্রকাশ্যে কথা বলতে দেখা যায় না তাঁকে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে তিনি এমন কিছু কথা বলেছেন, যা অনেকের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।

বিশেষ করে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন নিয়ে তাঁর মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তন্বীকে শেষবার দর্শকরা দেখেছিলেন ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকে মীরার চরিত্রে। সেই চরিত্রটি দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই ধারাবাহিক থেকে চরিত্রটির উপস্থিতি বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে তখন দর্শকদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছিল। অভিনেত্রী নিজেও আশা করেছিলেন, আরও কিছুদিন হয়তো মীরাকে পর্দায় দেখা যাবে। কিন্তু কী কারণে চরিত্রটি বন্ধ হয়ে গেল, তা বুঝে ওঠার আগেই তাঁর কাছে কলটাইম আসা বন্ধ হয়ে যায়। সেই অভিজ্ঞতা নিয়েও তিনি কখনও সরাসরি বিতর্কে জড়াননি।

আরও পড়ুন: গভীর রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে, চুপিসারে একি করতে দেখা গেল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে? পদ্মশ্রী পাওয়ার পরই বদলে গেল সব! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল শোরগোল নেটপাড়ায়!

বরং নিজের কাজ এবং ব্যক্তিগত ভাবনাগুলিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় তন্বী মাঝেমধ্যেই নিজের অনুভূতি এবং জীবনের নানা উপলব্ধি ভাগ করে নেন। এবারও একটি ভিডিও বার্তায় তিনি সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেছেন। সেখানে অভিনেত্রী বলেন, “কখনও খেয়াল করে দেখেছেন, যে মানুষগুলোর কাছে আপনি প্রিয়জন ছিলেন, আজ তাঁরাই প্রয়োজন ছাড়া আপনাকে মনে করে না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, সময়ের সঙ্গে অনেক সম্পর্কের গুরুত্ব বদলে যায়। একসময় যাঁরা খুব কাছের ছিলেন, প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তাঁদের আচরণও বদলে যেতে পারে।

সেই অভিজ্ঞতা যে কষ্ট দেয়, সেটাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। ভিডিওতে তন্বী আরও বলেন, “হ্যাঁ এটা দেখে কষ্ট হয় যে মানুষের দরকার ফুরিয়ে গেলে কথার সুর আর গুরুত্ব দুটোই বদলে যায়।” তবে তিনি শুধু আক্ষেপের কথা বলেননি, দিয়েছেন একটি ইতিবাচক বার্তাও। তাঁর কথায়, “কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখবেন, মোমবাতির খোঁজ হয় অন্ধকারেই।” অর্থাৎ মানুষের প্রকৃত মূল্য অনেক সময় কঠিন পরিস্থিতিতেই বোঝা যায়। সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও নিজের গুরুত্ব এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য অনেকের কাছেই জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন বলে মনে হয়েছে।

তন্বীর মতে, অন্যের প্রয়োজনে পাশে থাকা কোনও ভুল নয়। কিন্তু নিজেকে শুধুমাত্র একটি বিকল্প হিসেবে মেনে নেওয়া ঠিক নয়। সেই কারণেই তিনি বলেন, “নিজেকে এতটা দামি করে তুলুন যাতে আপনার উপস্থিতি কারও জন্য আশীর্বাদ হয়। আর আপনার অনুপস্থিতি কারও জীবনের সবথেকে বড় আফসোস।” পাশাপাশি তিনি আরও যোগ করেন, “এই প্রিয়জন থেকে প্রয়োজন হওয়ার সফরে নিজের আত্মসম্মান কখনওই হারাবেন না।” অভিনেত্রীর এই বার্তা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর অনুরাগীদের একাংশ মনে করছেন, জীবনের নানা অভিজ্ঞতা থেকেই এমন উপলব্ধির জন্ম হয়েছে। আর সেই কারণেই তাঁর কথাগুলি অনেকের কাছেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page