স্টার জলসার ‘চিরসখা’ (Chiroshokha) শুরু থেকেই অন্যরকম সম্পর্কের গল্প বলার চেষ্টা করেছিল। মধ্যবয়সী দুই মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, ভরসা আর মানসিক নির্ভরতার জায়গাটাকে গুরুত্ব দিয়ে গল্প এগোচ্ছিল। অনেক দর্শকের কাছেই এই বিষয়টা নতুন লেগেছিল, কারণ এখানে প্রেম নয় বরং এক গভীর মানবিক সম্পর্কই ছিল মূল আকর্ষণ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ধারা বদলে গিয়ে গল্পে প্রেমের রং গাঢ় হয়, আর সেখান থেকেই শুরু হয় একাংশ দর্শকের অস্বস্তি। কমলিনী ও স্বতন্ত্রর সম্পর্ক যখন বন্ধুত্বের জায়গা ছেড়ে দাম্পত্যে পৌঁছায়, তখনই প্রথম ধাক্কা লাগে অনেকের কাছে।
তার উপর মৃ’ত স্বামীর ফিরে আসা, বিচ্ছেদ, তারপর নতুন করে বিয়ে, সবকিছু মিলিয়ে গল্পের মোড় অনেকটাই পাল্টে যায়। পরবর্তীতে সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন, এমনকি ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখানোতেও অনেকে বিরক্তি প্রকাশ করেন। তবু, গল্প এগোচ্ছিল নিজের মতো করেই। এরই মধ্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে একটি শিশুকে (মেঘমালা) কেন্দ্র করে। সকালে ইনস্টিটিউটে যাওয়ার আগে স্বতন্ত্র জানতে পারে, এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। চায়ের দোকান চালানো এক মহিলার চতুর্থ কন্যাসন্তান হওয়ায় তার স্বামী তাকে মা’রধর করছে।
এমনকি শিশুটিকেও আ’ঘাত করতে চেয়েছে। সেই অসহায় মা বাচ্চাটিকে বাঁচানোর জন্য স্বতন্ত্রর কাছে সাহায্য চায়। ঘটনাটি সামনে আসতেই স্বতন্ত্রর আশেপাশের মানুষজন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করে। এই নিয়ে প্রত্যেকের মত আলাদা। মিঠি মনে করে কোনও এনজিওর সাহায্য নেওয়া উচিত, যাতে বিষয়টি নিয়ম মেনে সমাধান হয়। অন্যদিকে বর্ষা ঝামেলার ভয়ে সরাসরি জড়াতে চায় না। কমলিনী আবার নিজের মতো করে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করে।
সে প্রস্তাব দেয় বাচ্চাটিকে এমন কোনও দম্পতির কাছে দেওয়া হোক, যারা সন্তানহীন এবং তাকে ভালোভাবে বড় করতে পারবে। এই তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এবার গল্পে প্রবেশ করে ভোর। সে একেবারে বাচ্চাটিকে নিয়ে স্বতন্ত্রর বাড়িতে হাজির হয় এবং তাকে মানুষ করার জন্য অনুরোধ জানায়। প্রথমে সে বলে সাময়িকভাবে দেখাশোনা করবে, কিন্তু পরে স্পষ্ট করে জানায় যে সে বাচ্চাটিকে দত্তক নিতে চায়। তবে এখানেই চমক! সে চায় স্বতন্ত্রও এই দায়িত্বে যুক্ত থাকুক, এমনকি অভিভাবক হিসেবে তার নাম থাকুক।
এই প্রস্তাব শুনে স্বতন্ত্র স্পষ্টভাবে আপত্তি জানায় এবং বলে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। শেষ পর্যন্ত কমলিনী নিজেই বাচ্চাটিকে নিজের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও পরিবারের সকলের সমর্থন সে পায় না, তবুও সে পিছিয়ে যায় না। স্বতন্ত্র তার পাশে দাঁড়ায় এবং জানায়, স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তারা একসঙ্গে এই দায়িত্ব নেবে। এই সিদ্ধান্তে গল্পে এক নতুন অধ্যায় শুরু হলেও, দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কিন্তু একেবারেই একরকম নয়। বরং অনেকেই এই ঘটনায় বিরক্তি প্রকাশ করছেন। তাঁদের মতে, গল্পকে জোর করে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ “নিজেকে আর ক্লাসিক্যাল সিঙ্গার বলি না”, দাবি কৌশিকী চক্রবর্তীর! তাহলে কি গানের জগৎ বিদায় জানাচ্ছেন তিনিও? “১৫-৩০ সেকেন্ডের রিলস মানুষের মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে” সোশ্যাল মিডিয়ার দাপটে বদলে যাচ্ছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সংজ্ঞা? একরাশ ক্ষোভ নিয়ে, কী জানালেন তিনি?
অনেকেই কটাক্ষ করে বলছেন, এই বয়সে এসে কমলিনীর মাতৃত্বের ইচ্ছা দেখানোটা অপ্রয়োজনীয়। আবার কেউ মনে করছেন, আগের কোনও প্লট বদলে দেওয়ার ফলেই এই নতুন ট্র্যাক আনা হয়েছে। এমনও মন্তব্য শোনা যাচ্ছে, এই শিশুই ভবিষ্যতে আরও সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। যেমন, “দিদা, ঠাম্মি হওয়ার বয়সে কমলিনীর এখন মা হওয়ার স্বাদ জেগেছে! প্রথমে মিঠির অবৈধ সন্তানকে দত্তক নেবে ভেবেছিলো, কিন্তু সেই গল্প টিআরপির অভাবে বদলে দিতেই এই গল্প হাজির হয়েছে। বাচ্চাটির আবার নাম দিয়েছে মেঘমালা, এই বাচ্চাই পড়ে অশান্তির কারণ হবে মিলিয়ে নেবেন!” এবার গল্পই বলবে কী হবে ভবিষ্যতে।






‘অন্যায় দেখলে রুখে দাঁড়ায়, দরকারে গলা তোলে!’ ‘সকলে গিরগিটির মতো রং বদলে ফেলল…তোমরা কি ওঁকে ভয় পাচ্ছো?’ সামাজিক মাধ্যমে লাগাতার সমালোচনা ও কটাক্ষের মাঝেই, স্বামী ভরতের ‘বিগ বস’-এর ক্যাপ্টেন্সির প্রশংসা করেই কাদের বিঁধলেন গর্বিত স্ত্রী জয়শ্রী?