বিনোদন জগতে পর্দার সামনে তারকা-অভিনেতা-অভিনেত্রীদের যতটা চেনা যায়, পর্দার আড়ালের সম্পর্কের সমীকরণ কিন্তু সবসময় ততটা স্পষ্ট নয়। ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব যেমন থাকে, তেমনই কারও সঙ্গে কারও মনোমালিন্য বা তিক্ত অভিজ্ঞতাও তৈরি হতে পারে। আবার পর্দায় কোনও অভিনেতাকে যে ধরনের চরিত্রে বারবার দেখা যায়, দর্শকের মনে অনেক সময় সেই চরিত্রের সঙ্গে অভিনেতার বাস্তব ব্যক্তিত্বেরও একটা যোগ তৈরি হয়ে যায়। খল, ধূসর বা নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীদের ক্ষেত্রে এই ধারণা আরও বেশি চোখে পড়ে। একইভাবে, দীর্ঘদিন ধরে ইতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়েও দর্শকের মনে আলাদা একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়। তবে পর্দার চরিত্র আর বাস্তব জীবনের মানুষ যে এক নয়, সেই পার্থক্যই ফের সামনে এনে দিয়েছে দুই প্রবীণ অভিনেত্রী অনামিকা সাহা ও সন্ধ্যা রায়কে ঘিরে পুরনো এক প্রসঙ্গ।
বাংলা সিনেমার দর্শকদের কাছে অনামিকা সাহা নামটি উঠলেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে তাঁর একাধিক দাপুটে নেতিবাচক ও ধূসর চরিত্র। বিশেষ করে ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ ছবির সেই দজ্জাল শাশুড়ির চরিত্র তাঁকে দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে দিয়েছিল। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে কখনও কঠোর, কখনও রাগী, কখনও বা নেতিবাচক চরিত্রে তাঁকে দেখতে দেখতে একটা সময় তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলিই যেন তাঁর সঙ্গে মিশে যায় দর্শকের ভাবনায়। ‘বিন্দু মাসি’র মতো চরিত্রও তাঁর জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে অনামিকা সাহার কথা উঠলেই অনেকের আগে মনে পড়ে তাঁর অভিনীত সেই নেগেটিভ বা ধূসর চরিত্রগুলির কথা। কিন্তু অভিনেত্রীর নিজের কথাতেই, পর্দায় তিনি যে ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, বাস্তব জীবনের তাঁর ব্যক্তিত্বকে তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়। আর সেই জায়গা থেকেই এবার ফের সামনে এসেছে সন্ধ্যা রায়কে ঘিরে তাঁর পুরনো অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অনামিকা সাহা সন্ধ্যা রায়ের সঙ্গে তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনেন। অভিনেত্রীর দাবি, সন্ধ্যা রায়ের কাছ থেকে তিনি একসময় অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার পেয়েছিলেন এবং সেই অভিজ্ঞতার কথাই তিনি আগে প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই মন্তব্যের পর তাঁকে প্রবল ট্রোলিংয়ের মুখে পড়তে হয়। অনামিকার বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক মহিলা তাঁকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁর কী যোগ্যতা রয়েছে সন্ধ্যা রায়ের মতো একজন অভিনেত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করার? এমনকী, সন্ধ্যা রায়ের সমতুল্য তিনি কোনওদিন হতে পারবেন কি না, সেই নিয়েও তাঁকে কটাক্ষ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন অনামিকা। অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার মূল জায়গায় ছিল দুই অভিনেত্রীর অভিনয়জীবনের পরিচিতি ও দর্শকের তৈরি করা ভাবমূর্তির পার্থক্য।
সেই বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলেই অনামিকা সাহা জানান, সন্ধ্যা রায়কে নিয়ে তিনি একবার যা বলেছিলেন, তা কোনও অনুমান বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য ছিল না, বরং তাঁর নিজের মুখোমুখি হওয়া একটি অভিজ্ঞতার কথাই তিনি জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, সন্ধ্যা রায় পর্দায় দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ইতিবাচক ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ফলে দর্শক ও অনুরাগীদের একটা বড় অংশের চোখে তাঁর ইমেজও অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু অনামিকা সাহার ক্ষেত্রে ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এমন সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেগুলি ছিল নেতিবাচক, কঠোর কিংবা ধূসর। সেই কারণেই বাস্তব জীবনে তাঁকে নিয়েও অনেকের মনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, একজন শিল্পী পর্দায় যে চরিত্রে অভিনয় করেন, সেই চরিত্রের ভিত্তিতে বাস্তব মানুষটিকেও বিচার করা উচিত নয়।
আরও পড়ুনঃ “শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের ছেলে আমার যাদবপুরের ব্যাচমেট, নিজের মেধায় মাস্টার্স করে বড় সংস্থায় কর্মরত” “মায়ের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব পড়তে দেয়নি জীবনে” দাবি অরিত্র দত্ত বণিকের! যে যাদবপুরের পড়ুয়াদের পরিচয় নিয়েই বারবার প্রশ্ন তোলেন বিজেপি নেত্রী, ‘গুণ্ডা’, ‘সন্ত্রা*সবাদি’র মতো শব্দ ব্যবহার করেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়েই নিজের ছেলেকে পড়ালেন? সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই কেন বারবার কাঠগড়ায় তোলেন তিনি? দ্বিচারিতা ঘিরে প্রশ্ন নেটপাড়ার!
অনামিকা সাহার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ফের আলোচনায় দুই প্রবীণ অভিনেত্রীকে ঘিরে সেই পুরনো বিতর্ক। একদিকে রয়েছে সন্ধ্যা রায়ের দীর্ঘ অভিনয়জীবন এবং ইতিবাচক চরিত্রের জন্য তৈরি হওয়া দর্শক-ভাবমূর্তি, অন্যদিকে রয়েছে অনামিকা সাহার অসংখ্য স্মরণীয় ধূসর ও নেতিবাচক চরিত্র। ফলে অভিনেত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন পর্দায় একজন শিল্পীকে যে চরিত্রে দেখা যায়, বাস্তব জীবনেও কি দর্শক অজান্তেই তাঁকে সেই একই চোখে দেখতে শুরু করেন? অনামিকা সাহার সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই পুরনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। তবে সন্ধ্যা রায়কে নিয়ে অনামিকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দাবি তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে, এই বিষয়ে সন্ধ্যা রায়ের পাল্টা বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া এখানে উল্লেখ করা হয়নি।






