যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন, পড়ুয়াদের আন্দোলন এবং রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে টানাপোড়েন বিভিন্ন সময়ে এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিজেপি নেত্রী তথা বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়েও সম্প্রতি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিয়ে তাঁর মন্তব্য এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ অরিত্র দত্ত বণিক, প্রায় সময়ই বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন।
সমাজ মাধ্যম থেকে শুরু করে সাক্ষাৎকার বিভিন্ন মাধ্যমে সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে তাঁর বক্তব্য সামনে এসেছে। এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে চলা বিতর্কের প্রসঙ্গেই শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অরিত্র তাঁর ব্যক্তিগত পরিচিতির একটি প্রসঙ্গও সামনে আনেন। অরিত্রের দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যখন বিতর্ক চলছিল এবং শর্বরী মুখোপাধ্যায় সেখানে গিয়েছিলেন, তখন তিনি সমাজ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে লিখেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শর্বরীর নিজের ছেলে একসময় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন এবং তিনি নিজেও সেই ছাত্রের ব্যাচমেট ছিলেন।
অরিত্র বলেন, তাঁর সেই পরিচিত ব্যক্তি নিজের মেধা ও যোগ্যতায় যাদবপুরে পড়াশোনা শেষ করে মাস্টার্স করেন এবং বর্তমানে একটি বড় সংস্থায় কর্মরত। তবে তাঁর নাম প্রকাশ করতে চাননি অরিত্র, যাতে তাঁর পরিচিত ওই ব্যক্তিকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে না হয়। এই প্রসঙ্গ তুলেই শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের যাদবপুরের পড়ুয়াদের নিয়ে মন্তব্যের সঙ্গে তাঁর ছেলের শিক্ষাজীবনের বিষয়টি তুলনা করেন অরিত্র। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন রাজনৈতিক নেত্রীর নিজের সন্তান যদি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে সেখান থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন।
তাহলে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য পড়ুয়াদের সম্পর্কে এমন মন্তব্য কেন করা হবে। অরিত্রের বক্তব্যে শর্বরীর রাজনৈতিক পরিচয় এবং তাঁর ছেলের ব্যক্তিগত শিক্ষাজীবনের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্যও উঠে আসে। সাক্ষাৎকারে অরিত্র আরও বলেন, তিনি শর্বরীর ছেলেকে কখনও তাঁর মায়ের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে দেখেননি। বরং তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তি নিজের যোগ্যতায় পড়াশোনা করে কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। একই সঙ্গে যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে শর্বরীর মন্তব্যের বিরোধিতা করে অরিত্র নিজের প্রশ্নও সামনে রাখেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেউ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে পারলে, সেই প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য পড়ুয়াদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করা কতটা যুক্তিসঙ্গত।
আরও পড়ুনঃ “খেলুক না ওরা নিজেদের মতো, দাদার কাজ হচ্ছে খেলাটাকে খেলানো…যাতে মানুষ পছন্দ করে সেটাও তো দেখতে হবে!” বকাঝকা করলেই কী সব ঠিক হয়ে যাবে? বিগ বস বাংলার প্রতিযোগীদের কেন শাসন করতে নারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়? “নন্দিনীর ক্রমাগত খারাপ ব্যবহার, সৃজলাকে র*ক্তাক্ত করাই তো দেখতে চাই আমরা! আপনি কোমরে হাত দিয়ে সাবাসি দিন” দাদাকে কটা’ক্ষ নেটিজেনদের!
এই মন্তব্য ঘিরেই ফের আলোচনায় এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের পুরনো বিতর্ক। ভিডিওটির কমেন্ট বক্সে লক্ষ্য করা গেছে নেটিজেনদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া। কেউ অরিত্রকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, “বাহ অরিত্র দারুন , তোমাকে যত শুনি আর যত দেখি বয়েসে তুমি অনেকটা ছোটো হলেও তোমার প্রতি সম্মান অনেক বেড়ে যায়।” অন্যজনের কথায়, “পদ্ম ফুল কিন্তু পাঁক থেকে জন্ম হয়, তাই উনার ছেলে প্রতিষ্ঠিত ও শিক্ষিত হওয়াতে আশ্চর্য হওয়া স্বাভাবিক কিন্তু গোবরে পদ্ম, পাঁকে পদ্ম হয়। এটা ব্যতিক্রমী ঘটনা। উনার ছেলের উপর যেন পূর্বসুরির কোনো খারাপ কাজের প্রভাব না পড়ে।”






