‘দেবলীনা অসুস্থ…বন্ধুর পাশে দাঁড়ালে, হাসপাতালে ক্যামেরা তুলে ভ্লগ করতে হয় না!’ ‘জীবন-মৃ’ত্যু কনটেন্ট বানিয়ে, কি শেখাচ্ছি বাচ্চাদের?’ ‘৭৮টা ও’ষুধ’ বিতর্কে, নতুন প্রজন্মের জন্য ভয়ং’কর বার্তা! হাসপাতালের ভ্লগ থেকে ওষুধ-চর্চার বিরুদ্ধে সরব মানসী সেনগুপ্ত!

গত সপ্তাহে রবিবার, হঠাৎ করে ‘দেবলীনা নন্দী’র (Debolina Nandy) আ’ত্মহ*ত্যার চেষ্টার খবর ছড়িয়ে পড়তেই যেভাবে ঘটনাটিকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতে আসল জায়গাটা যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষ দেবলীনার মানসিক অবস্থা বা তিনি কেমন আছেন, সেই প্রশ্নে আগ্রহী না হয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তিনি ঠিক কতটা ঘুমের ওষু’ধ খেয়েছিলেন, এই সংখ্যার দিকেই! এই প্রবণতাই ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে অভিনেত্রী ‘মানসী সেনগুপ্ত’কে (Manosi Sengupta)। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে নিজের বক্তব্য রাখেন।

মানসীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে এক প্রকার দায়িত্বের কথা। একজন অভিনেতা বা ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে প্রতিদিন যাঁরা সমাজ মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করেন, তাঁদের কথাবার্তা যে বহু মানুষ দেখেন এবং অনুসরণ করেন আর সেটাই তাঁর মূল উদ্বেগ! তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেবলীনাদের ব্যক্তিগত জীবনে ঠিক কী ঘটেছে, তা জানার মতো অবস্থায় তিনি নেই। এমনকি সেই বিষয়ে মন্তব্য করতেও চান না। কিন্তু যে বিষয়টি তাঁকে সবচেয়ে বেশি বিচলিত করছে, তা হল ঘুমের ওষুধ খাওয়ার ঘটনাটিকে যেভাবে ‘হেডলাইন’ বানিয়ে ফেলা হয়েছে।

অভিনেত্রীর প্রশ্ন, ‘এই ধরনের খবর সমাজকে কী বার্তা দিচ্ছে?’ ছোট ছোট শিশুরাও তো আজকাল সারাক্ষণ ফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখছে। তাদের সামনে যদি বারবার দেখানো হয় যে কোনও সমস্যার সমাধান হিসেবে ঘুমের ওষুধ খেয়ে নেওয়াই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, তাহলে সেটা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, সেই ভাবনাটাই তাঁকে আতঙ্কিত করছে। মানসীর মতে, এতে যেন ইঙ্গিত যাচ্ছে যে আইন, কাউন্সেলিং বা মানসিক সহায়তার কোনও গুরুত্ব নেই, সবকিছুর একমাত্র সমাধান নিজেকে শেষ করে দেওয়া!

আরও এক জায়গায় মানসী প্রশ্ন তুলেছেন, হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও। তাঁর কথায়, একজন মানুষ যখন মানসিকভাবে এতটা ভেঙে পড়ে এমন একটি সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়ায়, তখন তার প্রয়োজন চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞর পরামর্শ। সেখানে দাঁড়িয়ে তাঁর কিংবা, শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভ্লগ বানানো বা ক্যামেরা অন করে কনটেন্ট তৈরি করার প্রবণতা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। সত্যিকারের পাশে থাকা মানে ক্যামেরা বন্ধ রেখে কথা বলা, সমস্যার গভীরে যাওয়া, এই জায়গাগুলোই আজ যেন উপেক্ষিত বলেন অভিনেত্রী।

আরও পড়ুনঃ নতুন বছরে টিআরপি লড়াই জমজমাট! তালিকায় শীর্ষে ফের দাপট দেখল ‘পরশুরাম’! ‘তারে ধরি ধরি’ নিয়ে ফিরেই বাজিমাত পল্লবী শর্মার! টিআরপি যুদ্ধে নতুন সমীকরণে কারা এগিয়ে, কারা হলো নিশ্চিহ্ন?

এদিন মানসী সেনগুপ্তর প্রতিক্রিয়া আসলে সমাজ মাধ্যমের বর্তমান মানসিকতার বিরুদ্ধে একটি প্রশ্নচিহ্ন। কার দোষ, কীভাবে সমাধান হবে, কীভাবে একজন অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করা যায়, এই আলোচনা না হয়ে কেন কেবল সংখ্যাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, সেটাই তাঁর মূল আক্ষেপ। অতিরঞ্জিত আবেগ নয়, বরং সংবেদনশীলতা আর দায়িত্ববোধ দিয়ে এমন ঘটনাকে দেখার আহ্বানই তিনি রাখতে চেয়েছেন তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে। আপনারাও কি একমত? আপনাদের কী মতামত এই বিষয়ে?

You cannot copy content of this page