ফের বিয়ের পিঁড়িতে ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’র বাস্তব মিসেস চ্যাটার্জি! সন্তান ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ের পরে, নতুন সংসারে পা রাখলেন সাগরিকা! কঠিন সময় পেরিয়ে কার হাত ধরলেন তিনি?

মাতৃত্বের দীর্ঘ সংগ্রাম পেরিয়ে জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন ‘সাগরিকা চক্রবর্তী’ (Sagarika Chakraborty)। একসময় যাঁর জীবনের গল্প বলিউডে পৌঁছে গিয়েছিল ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ (Mrs. Chatterjee vs Norwa) নামে, সেই সাগরিকার জীবনে আবার ফিরে এল প্রেম, বন্ধন ও আনন্দ। সম্প্রতি কলকাতার বিরাটিতে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন তিনি। দীর্ঘদিনের একাকিত্বের পর জীবনের এমন এক নতুন মোড় অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণাদায়ক।

সাগরিকার জীবনের অন্যতম কঠিন সময় আসে ২০১২ সালে চাইল্ড কাস্টডির বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। নরওয়ে সরকার তাঁর সন্তানদের থেকে তাঁকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় ‘অযোগ্য মা’র অভিযোগে। সেই ঘটনার পর সাগরিকা কেবল সন্তানদের ফিরে পাওয়ার লড়াইয়েই নিজেকে উজাড় করে দেননি, বরং তিনি লড়েছেন একা, কারণ তাঁর স্বামী তখনও তাঁর বিপক্ষেই অবস্থান নিয়েছিলেন।

একদিকে মাতৃত্বের অধিকারের জন্য বিদেশি সরকারের সঙ্গে যুদ্ধ, অন্যদিকে দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ— সবটাই একাই সামলেছিলেন তিনি। শেষমেশ তিনি জিতেছিলেন। সন্তানদের কাছে ফিরে পেয়েছিলেন, পেয়েছিলেন ন্যায়বিচার। কিন্তু সেই জয়ের পরেও সাগরিকার জীবনে শান্তি আসেনি সহজে। শুরু হয় নতুন করে জীবনের জন্য লড়াই। আর্থিক দিক থেকে, সামাজিক দিক থেকে, একক মায়ের মতো সংগ্রাম করে নিজেকে গড়ে তোলা।

বিয়ের দিন বেগুনি লেহেঙ্গায় সেজে উঠেছিলেন সাগরিকা, আর তাঁর স্বামী প্রশান্ত বেছে নিয়েছিলেন বেগুনি শার্টের সঙ্গে নীল ব্লেজার— এক কথায় চোখধাঁধানো ‘টুইনিং’। বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন সাগরিকার দুই সন্তান, যাঁদের জন্য একসময় গোটা দুনিয়ার সামনে লড়াই করতে হয়েছিল তাঁকে। ছিলেন সাগরিকার মা-বাবাও। এই শুভ মুহূর্তের অন্যতম সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাম নেত্রী বৃন্দা কারাটও।

আরও পড়ুনঃ শরীর ভালো নেই, বিচ্ছেদের পরই অসুস্থ সুস্মিতা! সমাজ মাধ্যমের ভিডিওতে ধরা পড়েছে শারীরিক কষ্ট! ভিডিও বার্তায় কী জানালেন তিনি?

যা সাগরিকাকে ঘিরে এই অনুষ্ঠানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুললো। আজ সেই সব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সাগরিকা নতুন জীবন শুরু করেছেন প্রশান্তের সঙ্গে। হাসিখুশি, আত্মবিশ্বাসী, আর আগামীর স্বপ্নে বিভোর। একদিকে ব্যক্তিগত জীবনের নতুন সূচনা, অন্যদিকে প্রমাণ করে দিলেন— একটি মেয়ে, একটি মা, একজন যোদ্ধা চাইলেই জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসও গৌরবের সঙ্গে শুরু করতে পারেন।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত মতামত, মন্তব্য বা বক্তব্যসমূহ সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি মাত্র। এটি আমাদের পোর্টালের মতামত বা অবস্থান নয়। কারও অনুভূতিতে আঘাত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, এবং এতে প্রকাশিত মতামতের জন্য আমরা কোনো প্রকার দায়ভার গ্রহণ করি না।