“হঠাৎ করেই না জানিয়ে ‘রক্তকরবী’ থেকে বাদ দিয়েছিল, সেই সময়ে থিয়েটার চালিয়ে যাওয়াও প্রায় অসম্ভব ছিল!” ২০২১ সাল ছিল দুঃস্বপ্নের মতো, একের পর এক কাছের মানুষদের হারিয়ে শোকে ডুবে গিয়েছিলেন চৈতি ঘোষাল! প্রতিকূলতায় না থেমে, কীভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন তিনি?

বিনোদন জগৎ সবসময়ই তার গৌরব এবং জনপ্রিয়তার পাশাপাশি অনিশ্চয়তা এবং চ্যালেঞ্জের জন্যও পরিচিত। কখনোই কেউ নিশ্চিত থাকতে পারে না যে আজকের সাফল্য আগামীকালও থাকবে কি না। অভিনেতা বা অভিনেত্রী হঠাৎ কোনো প্রজেক্ট থেকে বাদ পড়তে পারেন, কিংবা দর্শকরা তাদের নতুন রূপে গ্রহণ করবেন কি না, তা অনিশ্চিত থাকে। এই অনিশ্চয়তার মাঝে যারা দৃঢ় মনোবল নিয়ে এগিয়ে যান, তারাই দীর্ঘদিন এই জগতে টিকে থাকতে পারেন।

বাংলা অভিনয় জগতের এক অসামান্য ব্যক্তিত্ব চৈতি ঘোষাল ছোটবেলায়ই অভিনয় শুরু করেছিলেন। তৃপ্তি মিত্রের পরিচালনায় ডাকঘরের অমল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রথমবার দর্শক মহলে পরিচিত হন। শম্ভু মিত্রের সঙ্গে কাজ করে তার অভিনয় প্রতিভা দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। এরপর তিনি থিয়েটার থেকে সিনেমা এবং টেলিভিশনের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসেন, যেখানে তিনি নানা ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন।

চৈতি ঘোষালের অসাধারণ কাজের মধ্যে রক্তকরবীতে নন্দিনীর চরিত্রটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়েছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি এই নাটক থেকে বাদ পড়েন। সিনেমার কাজের ব্যস্ততার কারণে থিয়েটারে সময় দেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে যায়। তবুও তিনি থিয়েটার এবং সিনেমার মধ্যে সমানভাবে মনোযোগ দিয়ে কাজ চালিয়ে যান, এবং অপর্ণা সেন, গৌতম ঘোষের মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান।

চৈতি ঘোষাল জানিয়েছেন, “রক্তকরবী থেকে হঠাৎ করে বাদ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দর্শকদের ভালোবাসা আমাকে আবার ফিরিয়ে এনেছে।” এই কঠিন সময়ে তিনি থিয়েটার চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব মনে করেছিলেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তাঁরও অনেক দুঃখের মুহূর্ত এসেছে। ২০২১ সালে তিনি মা এবং বন্ধুসম ভগ্নিপতি হারান, আর ছোটবেলায় পিশেমশাইকে হারিয়েছেন। এই সমস্ত অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনবোধকে আরও গভীর করে তোলে।

আরও পড়ুনঃ ‘রোশনাই’ ছাড়ার পর লম্বা বিরতি! দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকার পর, আবার নায়িকা হয়ে ফিরছেন ‘গাঁটছড়া’র বনি অনুষ্কা গোস্বামী! কবে থেকে, কোথায় দেখা যাবে তাঁকে?

চৈতি ঘোষাল আজও দর্শকদের মনোরঞ্জন করে চলেছেন। তিনি মনে করান যে, অনিশ্চয়তা এবং ব্যর্থতা জীবনের অংশ, তবে ধৈর্য এবং কঠোর পরিশ্রম সবসময়ই মূল্যবান। তার মাধবী চরিত্র ‘এক আকাশের নিচে’ সিরিয়ালে আজও সমাদৃত। অভিনেত্রী দর্শকদের অনুপ্রেরণা জোগাতে চান, এবং জানান যে নিজের লক্ষ্যকে অচল করা নয়, বরং প্রতিকূলতা কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়াই জীবনের প্রকৃত অর্থ।

You cannot copy content of this page