টলিউডে অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ‘কোয়েল মল্লিক’ (Koel Mallick) এখন নিঃসন্দেহে নেটপাড়ার হট টপিক। ‘টলি কুইন’ হঠাৎ করে রাজনীতির ময়দানে পা রাখছেন, গত শুক্রবার এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই চর্চার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বিস্মিত, কারণ এতদিন তাঁকে কখনও রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি। ফলে তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে স্বাভাবিকভাবেই। কেউ বলছেন, অভিনয়ের জগতে প্রতিষ্ঠিত একজন শিল্পীর এভাবে রাজনীতিতে আসা ঠিক হলো কি না। আবার কেউ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত তার ভবিষ্যৎ কেরিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে অতীতে এমন অনেক তারকার উদাহরণ রয়েছে, যাঁরা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পেশাগত জীবনে ধাক্কা খেয়েছেন, এই যুক্তিও উঠে আসছে আলোচনায়। এই জল্পনার মাঝেই সম্প্রতি তার পারিবারিক একটি মুহূর্ত আরও কৌতূহল বাড়িয়েছে। কয়েকদিন আগে ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’ গিয়েছিলেন কোয়েলের বাবা, বর্ষীয়ান অভিনেতা ‘রঞ্জিত মল্লিক’-এর বাড়িতে। সেই সাক্ষাতের পর থেকেই নানান গুঞ্জন শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ধরা হয়েছিল অভিনেতাই হয়তো রাজনীতিতে নাম লেখাচ্ছেন।
পরে জানা যায়, রাজ্যসভার সাংসদ পদে প্রার্থী হিসেবে কোয়েলের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আগের ঘটনার সঙ্গে এই ঘোষণার যোগসূত্র টানতে শুরু করেন অনেকেই। যদিও পরিবার বা অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে এই নিয়ে খুব বেশি প্রকাশ্য মন্তব্য শোনা যায়নি, তবু রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থামেনি। এর মধ্যেই আজ সকালে কোয়েলকে দেখা গেল কালীঘাট মন্দির প্রাঙ্গণে। একেবারে সাধারণ পোশাকে, মেরুন রঙের আনারকলি পরে তিনি পৌঁছেছিলেন পুজো দিতে। সঙ্গে ছিলেন তার সন্তান এবং বাবা।
মেয়েকে কোলে নিয়েই তিনি মন্দিরে প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত অনেকেই তাঁকে দেখে ভিড় করলেও, পুরো সময়টায় তিনি শান্তভাবেই পুজো সারেন। তাঁকে এদিন বলতে শোনা যায়, তার ছোট্ট সন্তানও পুজো দিয়েছে। মন্দিরে আসার আগে একটু অস্থির থাকলেও পরে সব ঠিক হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে মন্দিরে গিয়ে আশীর্বাদ নেওয়াকে কেউ কেউ নতুন শুরুর প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন।
আরও পড়ুনঃ “স্ত্রী হিসেবে সব সুবিধা নেবে, কিন্তু স্বামীর কাছে যাবে না, এ কেমন মহানতা?” দায়িত্ব নেবে স্বতন্ত্র, দূরত্ব রাখবে কমলিনী! অন্য কারও কাছে গেলেই আপত্তি, অথচ নিজে দূরে! কমলিনীর আচরণে ভ’ণ্ডামিতে ভাঙনের মুখে সম্পর্ক, চরম অসন্তোষ দর্শকমহলে!
যদিও কোয়েল নিজে এই নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি, তবু সময়ের মিল খুঁজে অনেকেই নানান ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। রাজনীতিতে ধর্মীয় স্থানে গিয়ে প্রার্থনা করার রীতি নতুন কিছু নয়। তাই তার এই পদক্ষেপও অনেকের কাছে স্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছে। আবার সমালোচকদের একাংশ এটাকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তবে, শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য কতটা ইতিবাচক বা চ্যালেঞ্জিং হবে, তা সময়ই বলবে। আপনাদের কী মতামত? পর্দার মতো রাজনীতিতেও কি বাজিমাত করতে পারবেন টলি কুইন?






