টলিউডে আবার উত্তেজনার পারদ চড়ছে। মেগাস্টার দেব এবং ফেডারেশনের টানাপোড়েন যেন নতুন মাত্রা পাচ্ছে এক সাহসী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। আগামী ২০২৬ সালের পুজোয় শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেবের নতুন ছবির ঘোষণা আগেই দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়েছিল। এবার সেই ছবিকে ঘিরেই এল আরও বড় চমক। সূত্রের খবর, এই ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে দেখা যাবে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে। যাঁকে দীর্ঘদিন ধরে ফেডারেশনের বিরোধিতার কারণে কার্যত কাজ থেকে দূরে রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেবের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ইন্ডাস্ট্রিতে আলোচনার ঝড় তুলেছে। অনেকেই এটিকে দেখছেন একপ্রকার প্রকাশ্য প্রতিবাদ হিসেবে, যেখানে ক্ষমতার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মতের দৃঢ়তা প্রমাণ করছেন অভিনেতা।
অনির্বাণ ভট্টাচার্য বর্তমানে টলিউডে একরকম নিষিদ্ধ নাম বললেই চলে। ফেডারেশনের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে বহু প্রযোজক এবং পরিচালক তাঁকে কাস্ট করতে সাহস পাননি। ফলে প্রতিভাবান এই অভিনেতা কাজের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। ঠিক সেই জায়গাতেই দেবের এই সিদ্ধান্ত অনেকের চোখে আশার আলো হয়ে উঠছে। দেব যেন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন যে প্রতিভার বিচার রাজনীতি বা সংগঠনের সীমারেখায় আটকে রাখা উচিত নয়। শিল্পের স্বাধীনতা এবং যোগ্যতার স্বীকৃতি দেওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেব শুধু একটি চরিত্র নির্বাচন করেননি, বরং ইন্ডাস্ট্রির প্রচলিত নিয়মকানুনকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
এর আগেও দেব একাধিকবার নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রজাপতি ছবিতে অভিনয় করে তিনি দলের একাংশের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। এমনকি স্ক্রিনিং কমিটির বৈধতা নিয়ে ভোটাভুটির সময় নোটা দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে অন্যায্য চাপ বা খবরদারিতে তিনি বিশ্বাসী নন। সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই এবার অনির্বাণকে কাস্ট করার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে দেবের ব্যক্তিত্বেরই প্রতিফলন। তিনি বারবার দেখিয়েছেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তার চাপ নয় বরং নিজের বিবেক এবং যুক্তিকেই গুরুত্ব দেন। এই মনোভাবই তাঁকে ইন্ডাস্ট্রির অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
দেবের এই পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন টলিউডের একাংশ। অনেক শিল্পী এবং টেকনিশিয়ান মনে করছেন, এমন সাহসী সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও অনেকের পথ খুলে দিতে পারে। একইসঙ্গে প্রশ্নও উঠছে, ফেডারেশন কি এই ঘটনার পর নিজেদের অবস্থান বদলাবে, নাকি সংঘাত আরও গভীর হবে। দেবের মতো প্রভাবশালী তারকা যখন প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন, তখন সেটির প্রভাব গোটা ইন্ডাস্ট্রিতেই পড়ে। তাই এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ছবির কাস্টিং নয়, বরং টলিউডের শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার ইঙ্গিতও বহন করছে।
আরও পড়ুনঃ ‘চব্বিশ বছর পরেও, আমার দ্বিতীয় মা অনন্যা চট্টোপাধ্যায়!’ ‘সুবর্ণলতা’র সেটেই গড়ে উঠেছিল মা-মেয়ের সম্পর্ক, অনন্যাদিকে আজও ‘মা’ বলেই ডাকেন ইপ্সিতা! অভিনেত্রীর জন্মদিনে, আবেগে ভাসলেন পর্দার মেয়ে!
সব মিলিয়ে, দেব বনাম ফেডারেশনের এই দ্বন্দ্ব এখন টলিপাড়ার সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। দর্শকদের কৌতূহল যেমন ছবির গল্প এবং অভিনয় নিয়ে, তেমনই নজর থাকছে এই সিদ্ধান্তের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার দিকেও। অনির্বাণের প্রত্যাবর্তন কি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে, নাকি বিতর্ক আরও তীব্র হবে, তা সময়ই বলবে। তবে একথা নিশ্চিত, দেবের এই সাহসী সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করল যে তিনি শুধু পর্দার নায়ক নন, বাস্তব জীবনেও নিজের বিশ্বাসে অটল এক শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব।






