“বহ্নির মতো এমন খলনায়িকা বাংলা সিরিয়ালে খুব কমই এসেছে!” “এমন স্ক্রিন প্রেজেন্স সত্যিই বিরল, আজও ভুলতে পারিনি!” নেতিবাচক চরিত্র হয়েও তিনিই ছিলেন গল্পের প্রাণ! আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে ‘মিলন তিথি’তে দেবযানী চক্রবর্তীর অভিনয়! একটি ধারাবাহিকের পর কেন আর দেখা গেল না তাঁকে? আপনাদের কেমন লাগত অভিনেত্রীকে?

টেলিভিশনের পর্দায় এমন কিছু চরিত্র থাকে, যেগুলো ধারাবাহিক শেষ হয়ে যাওয়ার বহু বছর পরেও দর্শকের মনে একইভাবে বেঁচে থাকে। অনেক সময় নায়ক বা নায়িকার থেকেও কোনও একটি পার্শ্বচরিত্র কিংবা খলনায়ক বেশি আলোচনায় চলে আসে। বাংলা টেলিভিশনের ক্ষেত্রে ‘মিলন তিথি’র (Milon Tithi) বহ্নি তেমনই একটি চরিত্র। এই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী দেবযানী চক্রবর্তী (Debjani Chakraborty)। আজও সামাজিক মাধ্যমে পুরনো ধারাবাহিকের প্রসঙ্গ উঠলেই বহু দর্শক তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, একটি শক্তিশালী ভিলেন চরিত্র কীভাবে পুরো গল্পের আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে, বহ্নি তারই অন্যতম উদাহরণ।

দেবযানীর অভিনয়ের অন্যতম বড় শক্তি ছিল তাঁর স্বাভাবিক অভিব্যক্তি এবং পর্দায় উপস্থিতি। বহ্নি চরিত্রটি ছিল গল্পের প্রতিপক্ষ, কিন্তু সেই চরিত্রই অনেক সময় দর্শকের নজর সবচেয়ে বেশি কেড়ে নিত। দৃশ্য অনুযায়ী রাগ, কূটবুদ্ধি কিংবা আত্মবিশ্বাস, প্রতিটি আবেগই তিনি এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন যে চরিত্রটি আজও অনেকের মনে গেঁথে রয়েছে। ‘মিলন তিথি’তে উষসী রায় মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করলেও দর্শকদের বড় একটি অংশের আলোচনায় সমান জায়গা করে নিয়েছিলেন দেবযানী। বহ্নি পর্দায় এলেই গল্পে যেন নতুন উত্তেজনা তৈরি হতো, আর সেই কারণেই চরিত্রটি এত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

আশ্চর্যের বিষয়, এত প্রশংসা পাওয়ার পরও দেবযানী চক্রবর্তীকে আর নিয়মিত টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়নি। দর্শকদের অনেকেই ভেবেছিলেন, এই অভিনয়ের পর নিশ্চয়ই আরও বড় বড় ধারাবাহিকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। জানা যায়, ‘মিলন তিথি’র পর তিনি আর নতুন ধারাবাহিকে কাজ করেননি। অভিনয় থেকে পুরোপুরি নিজেকে সরিয়ে না নিলেও ধীরে ধীরে ক্যামেরার সামনে তাঁর উপস্থিতি কমে যায়। পরবর্তীকালে মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সেখান থেকেও একসময় আড়ালে চলে যান তিনি।

আজও বিভিন্ন ফ্যান পেজ কিংবা পুরনো ধারাবাহিক নিয়ে আলোচনায় দেবযানী চক্রবর্তীর নাম উঠে আসে। অনেকেই লিখে থাকেন, বাংলা টেলিভিশনে এমন শক্তিশালী নেগেটিভ চরিত্র এখন খুব কমই দেখা যায়। দর্শকদের মতে, তাঁর অভিনয় দক্ষতা আরও অনেক বড় সুযোগ পাওয়ার যোগ্য ছিল। মাত্র একটি উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিক করেই তিনি যে ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন, তা খুব কম অভিনেতার ভাগ্যেই জোটে। তাই তাঁর হঠাৎ পর্দার আড়ালে চলে যাওয়াটা এখনও অনেকের কাছেই বড় আফসোসের বিষয় হয়ে রয়েছে।

অভিনয় জগতের পথ সবসময় একরকম হয় না। কেউ দীর্ঘদিন কাজ করেন, আবার কেউ অল্প সময়েই দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন। দেবযানী চক্রবর্তীর ক্ষেত্রেও যেন সেটাই ঘটেছে। তিনি কেন অভিনয় থেকে দূরে সরে গেলেন, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও জানা যায়নি। সেই উত্তর একমাত্র অভিনেত্রীই দিতে পারবেন। তবে দর্শকদের কৌতূহল আজও কমেনি। তাঁরা এখনও জানতে চান, এত প্রতিভাবান একজন শিল্পী কেন হঠাৎ আলো থেকে দূরে চলে গেলেন। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে যায়, কিন্তু ভালো অভিনয় কখনও পুরোনো হয় না।

actress comeback

আরও পড়ুনঃ “জনসংখ্যা সাং’ঘাতিক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, সন্তানজন্মের সময় যে ধর্ম বা জাতেরই হোন না কেন…” “আমি ম্যাসাজকে পেশা করে বাঁচতে রাজি, কিন্তু ৩৪ বছর ও পরের ১৫ বছর আশা করেছিলাম…” রাজনৈতিক মিছিলে হাঁটতে নারাজ! শিল্পী নয়, মানুষ হিসেবে নতুন সরকারকে নিয়ে কী বিশ্বাস করেন শিলাজিৎ মজুমদার?

‘মিলন তিথি’র বহ্নি চরিত্রটি তারই প্রমাণ। আজও অনেক দর্শক মনে করেন, দেবযানী চক্রবর্তীর মতো শিল্পীর আবারও টেলিভিশনের পর্দায় ফিরে আসা উচিত। বিশেষ করে একটি শক্তিশালী নেগেটিভ চরিত্রে তাঁকে আবার দেখতে চান বহু মানুষ। তাঁদের বিশ্বাস, এমন স্ক্রিন প্রেজেন্স এবং অভিনয় দক্ষতার শিল্পীকে বাংলা টেলিভিশন আরও অনেক বড় চরিত্রে ব্যবহার করতে পারত। এখনও সেই প্রত্যাশা রয়ে গেছে, একদিন হয়তো আবার নতুন কোনও চরিত্রে দর্শকদের সামনে ফিরবেন দেবযানী চক্রবর্তী।

You cannot copy content of this page