বাংলা আধুনিক গানের জগতে বহু দশক ধরে নিজের স্বতন্ত্র গায়কির জন্য শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন কিংবদন্তি শিল্পী হৈমন্তী শুকলা (Haimanti Shukla)। তাঁর কণ্ঠে অসংখ্য জনপ্রিয় গান আজও সমানভাবে প্রিয়। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলা সঙ্গীত জগতে সক্রিয়। সম্প্রতি তাঁর সঙ্গীত জীবনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কলকাতায় বিশেষ অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়, যেখানে তাঁর বহু স্মরণীয় গান আবার মঞ্চে পরিবেশিত হয়।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি বারবার বলেছেন, গান শুধুমাত্র বিনোদন নয়, বরং মানুষের মানসিক শক্তির বড় উৎস। বিশ্ব সঙ্গীত দিবসের এক অনুষ্ঠানে তিনি সঙ্গীতকে “একটি উৎকৃষ্টমানের থেরাপি” বলেও উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর মতে, জীবনে যতই সমস্যা থাকুক না কেন, সঙ্গীত মানুষের মনকে শান্ত করতে পারে। তাই আজও নিয়মিত রেওয়াজ এবং সঙ্গীতচর্চাকেই তিনি শিল্পীর মূল শক্তি বলে মনে করেন।
নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারে বহু কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে মান্নাদে-র সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে আজও অমূল্য স্মৃতি। সেই সময়ের গায়কদের মধ্যে গানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং কঠোর অনুশীলনের কথা তিনি প্রায়ই স্মরণ করেন। তাঁর মতে, সেই সময়ে গান শেখা এবং গাওয়ার মধ্যে ছিল এক ধরনের সাধনা, যা আজকের দিনে অনেকটাই বদলে গেছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান যুগের সঙ্গীত রেকর্ডিং পদ্ধতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, আগের দিনে শিল্পীরা একটি গান গাওয়ার আগে সেটি সম্পূর্ণভাবে আত্মস্থ করতেন। কিন্তু এখন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, রেকর্ডিংয়ের সময় গায়করা কেবল দু’ লাইন শিখেই গেয়ে ফেলেন। এমনকি অনেক সময় ‘প্যাচ রেকর্ডিং’-এর মাধ্যমে আলাদা আলাদা অংশ রেকর্ড করে গান তৈরি করা হয়। তাঁর মতে, এতে গানের আবেগ এবং প্রাণ অনেকটাই হারিয়ে যায়
আরও পড়ুনঃ বড়পর্দার আগেই রাজনৈতিক মঞ্চে আত্মপ্রকাশ? ইন্ডাস্ট্রির মেগাস্টারের পুত্রের গলায় ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি! ভোটমুখী বাংলায় গেরুয়া শিবিরে যোগের ইঙ্গিত? তৃষাণজিৎকে ঘিরে সরগরম নেটমাধ্যম!
হৈমন্তী শুক্লার মতে, একটি গান তখনই সম্পূর্ণ হয় যখন শিল্পী পুরো গানটির ভাব বুঝে গাইতে পারেন। তিনি বলেন, আগে গুরুজনেরা বলতেন—একটি গান শিখে সাত দিন ধরে অনুশীলন করো, তবেই গলায় তার আসল রং আসবে। কিন্তু এখন অনেকেই শুধু দু’ লাইন গেয়ে রেকর্ড করে দেন। তাঁর প্রশ্ন, পুরো গানটাই যদি না গাওয়া হয়, তবে সেই অনুভূতি শিল্পীর ভিতর থেকে আসবে কীভাবে? অভিজ্ঞ এই শিল্পীর মতে, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, গানের আসল শক্তি শেষ পর্যন্ত শিল্পীর সাধনা এবং অনুভূতির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।






