মধুমন্তী মৈত্র, নামটা শুনলেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে দূরদর্শনের সেই পরিচিত কণ্ঠস্বর। দীর্ঘদিন সংবাদ পাঠিকা হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সঞ্চালিকা, বাচিক শিল্পী এবং ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপিকা হিসেবেও তিনি নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে রবীন্দ্রভারতী, বিশ্বভারতী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেছেন তিনি। আবার কলকাতা মেট্রোর ঘোষণার নেপথ্য কণ্ঠ হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। এক কথায়, বহু প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটি বছরের পর বছর নিজের কাজ দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।
টেলিভিশনের পর্দা হোক কিংবা কোনও বড় সাংস্কৃতিক মঞ্চ, মধুমন্তী মৈত্রর উপস্থিতি বরাবরই নজর কাড়ে। তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণ, মার্জিত উপস্থাপনা এবং আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্ব তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। সংবাদ পাঠের গাম্ভীর্যের পাশাপাশি সঞ্চালনায়ও তিনি সমান সাবলীল। বহু গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান তিনি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। সেই কারণেই বাংলা সাংস্কৃতিক জগতের পরিচিত মুখদের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছেন তিনি। তবে এত বছরের অভিজ্ঞতার পরেও তাঁর জীবনে কিছু অভিমান যে থেকে গিয়েছে, তারই ইঙ্গিত মিলল সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে।
একটি সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এক পুরনো অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মধুমন্তী এমন একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন, যা শুনে অনেকেই অবাক হয়েছেন। তিনি জানান, এক সময় বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় এক ক্রিকেটার এবং তাঁর স্ত্রী, যিনি নিজেও একজন পরিচিত নৃত্যশিল্পী, তাঁদের একটি নাচের স্কুল প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মধুমন্তীকে এবং আরও এক সঞ্চালিকাকে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লতা মঙ্গেশকরের মতো কিংবদন্তি শিল্পীও। দুই সঞ্চালিকাই সমান দায়িত্ব নিয়ে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছিলেন। একজন একটি অংশ সামলেছেন, অন্যজন অন্য অংশ সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটাই হয়েছিল সুন্দর সমন্বয়ের মাধ্যমে।
কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরের দিনই ঘটে অন্য ঘটনা। বাংলার অন্যতম বড় সংবাদমাধ্যমে সেই অনুষ্ঠান নিয়ে বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে লতা মঙ্গেশকর, অমিতাভ বচ্চন-সহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন তারকার ছবি ও প্রশংসায় ভরে ওঠে গোটা পাতা। প্রতিবেদনের শেষে লেখা হয়, অনুষ্ঠানটির অসাধারণ সঞ্চালনার দায়িত্বে যে সঞ্চালিকা ছিলেন তারও নাম ছিল। কিন্তু মধুমন্তীর নামের কোনও উল্লেখই ছিল না। অথচ তিনিও সমান দায়িত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছিলেন। সাক্ষাৎকারে সেই অভিমানের কথাই যেন খানিক আড়াল ভেঙে সামনে আনেন তিনি। তাঁর কথায় স্পষ্ট ছিল, বিষয়টি তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ রণজয়ের কাঁধে হঠাৎ কাম’ড় অভীকার! অফস্ক্রিন মুহূর্ত ভাইরাল হতেই, অভিনেতার স্ত্রী শ্যামৌপ্তিকে টেনে কটা’ক্ষে সরব নেটপাড়া!
যদিও সাক্ষাৎকারে তিনি কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবুও অনেকের অনুমান তিনি সম্ভবত সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গেই ইঙ্গিত করেছেন। কারণ, অতীতে তাঁদের একটি নৃত্য বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে লতা মঙ্গেশকরের উপস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট চর্চা হয়েছিল। এছাড়াও যে সংবাদমাধ্যমের কথা তিনি বলেছেন, সেটিও সেই সময় বাংলার অন্যতম বড় দৈনিক হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে নাম না নিয়েও মধুমন্তী যেন বুঝিয়ে দিয়েছেন, দীর্ঘ পেশাগত জীবনে প্রশংসার পাশাপাশি উপেক্ষার অভিজ্ঞতাও তাঁকে ছুঁয়ে গিয়েছে। তবুও কোনও তিক্ততা নয়, বরং শান্ত গলায় নিজের অনুভূতির কথাই ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। আর সেই কারণেই তাঁর এই সাক্ষাৎকার এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।






