অভাব আর নিঃসঙ্গতার মধ্যেই নীরবে চলে গেলেন অভিনেতা অমল কুমার চৌধুরী। অশোকনগরের বাসিন্দা এই মানুষটিই একসময় দূরদর্শনের পর্দায় ‘মহিষাসুর’ চরিত্রে দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছিলেন। বুধবার, ১৪ জানুয়ারি নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় জগতের বাইরে ছিলেন তিনি, কিন্তু মানুষের মনে তাঁর স্মৃতি রয়ে গেল নানা চরিত্রের জন্য।
একসময় এলাকার অসংখ্য ছেলেমেয়েকে আঁকা শেখাতেন অমলবাবু। সবাই তাঁকে চিনত ‘আঁকার মাস্টার’ নামে। শিল্পচর্চা ছিল তাঁর নেশা ও ভালোবাসা। অভিনয়ের প্রতি খুব একটা আগ্রহ না থাকলেও ভাগ্যের টানে রুপোলি পর্দার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। শক্ত চেহারার গড়ন তাঁকে এনে দেয় মহিষাসুরের চরিত্র। প্রথম কাজেই দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি, যা তাঁর জীবনের স্মরণীয় সাফল্য হয়ে থাকে।
দূরদর্শনে অসুর রূপে তাঁকে দেখার পর থেকেই এলাকায় সবাই স্নেহে ডাকত ‘অসুর কাকু’। শুধু মহিষাসুর নয়, যমরাজ কিংবা অসুর বাহিনীর সেনাপতির চরিত্রেও তাঁকে দেখা গিয়েছে। অল্প কাজ হলেও তাঁর অভিনয় ছিল বিশ্বাসযোগ্য ও প্রাণবন্ত। ছোট পর্দায় তাঁর উপস্থিতি দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল, যা আজও অনেকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিনয় দুনিয়া থেকে দূরে সরে যান অমল চৌধুরী। বিগত দেড় থেকে দুই দশক ধরে তাঁকে আর পর্দায় দেখা যায়নি। নিত্য অভাব আর অনটন তাঁর নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। প্রায় তিন বছর আগে এই দুর্দশার কারণেই সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিলেন তিনি, কিন্তু পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি।
আরও পড়ুনঃ “একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ভালো লাগা তৈরি হলেও, সময়ের সঙ্গে সবকিছুর মানে বদলায়” সাহেবের বেগম হচ্ছেন সুস্মিতা! মঞ্চেই না, এবার বাস্তবের অর্ধাঙ্গিনী হতে চলেছেন অভিনেত্রী? প্রেমের মরশুমে, কীসের ইঙ্গিত দিলেন জুটি?
নীরব জীবনযাত্রার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত নীরব বিদায় নিলেন এই মানুষটি। আলো ঝলমলে দুনিয়ার আড়ালে থেকে যাওয়া এক শিল্পীর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় শিল্পীদের লড়াই আর বাস্তবতার কঠিন মুখ। অমল চৌধুরীর স্মৃতি থেকে যাবে তাঁর অভিনয় আর এলাকার মানুষের ভালোবাসার মধ্যেই।






