“আমি এর শেষ দেখব…” ক্ষোভ প্রকাশ মিমি চক্রবর্তীর! ‘লগ্নজিতা স্ক্রিপ্টটা মিলল না, এখানে হে’নস্থা কোথায়?’ ‘ব্যর্থতা ঢাকতে নাটক, প্রশাসনিক নিয়ম না মানার দায় কার?’ মঞ্চ বিতর্কে লগ্নজিতা প্রসঙ্গ টানতেই সমালোচনায় সরব নেটিজেনরা?

মঞ্চে শিল্পীদের সঙ্গে অ’সভ্য আচরণের ঘটনা নতুন নয় আর এই নিয়ে ইতিমধ্যেই অনেক তর্ক হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই বনগাঁর একটি অনুষ্ঠানে ‘মিমি চক্রবর্তী’র (Mimi Chakraborty) অভিজ্ঞতা সামনে আসতেই বিষয়টি দ্রুত বড় আকার নেয়। অভিনেত্রীর বক্তব্য, মঞ্চে গান গাওয়ার সময় হঠাৎ একজন উঠে অনুষ্ঠান থামিয়ে তাঁকে নেমে যেতে বলেন, যা তিনি সরাসরি অপমান হিসেবেই দেখেছেন। তাঁর ক্ষোভ স্পষ্ট, “আমার কেরিয়ারে এটা প্রথমবার, অনুষ্ঠানের ডাক পেয়ে শিল্পীরা মঞ্চে উঠলেই অনেকে তাদের কেনা মনে করে… আমি এর শেষ দেখব!”

এই মন্তব্যের পরই তিনি থানায় অভিযোগও জানান। তবে, এই ঘটনার ব্যাখ্যা অন্য দিক থেকেও এসেছে। আয়োজকদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছেছিলেন মিমি! পুলিশি অনুমতি

ছিল রাত ১২টা পর্যন্ত, আর অভিনেত্রী পৌঁছন প্রায় ১১:৩০-এর পর। তাই প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানাতে হয়েছিল। তাঁদের আরও বক্তব্য, এত রাত পর্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অনুষ্ঠান চালানো কঠিন, দর্শকদেরও সমস্যা হতে পারে। এমনকি তাঁরা সম্মান জানাতে মঞ্চে উঠতে চেয়েছিলেন বলেও দাবি, কিন্তু দেহরক্ষীদের বাধায় সেটা সম্ভব হয়নি।

পরিস্থিতি বোঝানোর আগেই বাধ্য হয়ে পরিবেশনার মাঝেই হস্তক্ষেপ করতে হয়, এমনটাই বলছেন আয়োজক পক্ষ। ঘটনাটি এখানেই থামেনি, বরং নতুন মাত্রা পেয়েছে অন্য এক তুলনার কারণে। সম্প্রতি গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তীর একটি শো-এ বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে আনাকে, মিমির সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা বলছেন অনেকে! তাদের মতে, দুই ঘটনার প্রকৃতি এক নয়। নেটিজেনদের একাংশের বক্তব্য, লগ্নজিতার ক্ষেত্রে ধর্মীয় অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, আর এখানে মূল সমস্যা সময় ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ।

তাই একই পাল্লায় মাপা ঠিক হচ্ছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, “লগ্নজিতা স্ক্রিপ্টটা ঠিক জমলো না!” “যেখানে সময় দেওয়া হয়েছিল দশটা, নিজে নির্ধারিত সময় পৌঁছাতে না পারাটা ব্যর্থতা! সেটাকে ঢাকতে অন্যকে দোষারোপ করাটা আরও বড় অপরাধ!” দর্শকদের একটি বড় অংশ সরাসরি বলছেন, বিষয়টিকে ‘হেনস্থা’ হিসেবে দেখানোটা বাড়াবাড়ি। তাঁদের মতে, কাউকে স্টেজ থেকে নামতে বলা অস্বস্তিকর অবশ্যই, কিন্তু নিজের দায় এড়ানো যায় না। আবার অন্য অংশ বলছে, পদ্ধতিটাই ছিল অসম্মানজনক, কথা বলে বিষয়টি সামলানো যেত।

আরও পড়ুনঃ “ছোটবেলা থেকেই বাসন মাজতে ভালোবাসি, ওটা করেই আমি সবচেয়ে শান্তি পাই!” শৈশবের অভ্যাস আজও ধরে রেখেছেন মিমি চক্রবর্তী! জনপ্রিয়তার শিখরেও সাধারণত্বে বিশ্বাসী অভিনেত্রী!

ফলে বিতর্কটা এখন দুই পক্ষের মধ্যে চরমে। একদিকে শিল্পীর সম্মান এবং নিরাপত্তা, অন্যদিকে দর্শকের সময় আর আয়োজকদের নিয়ম মেনে চলার বাধ্যবাধকতা। সমাজ মাধ্যমের যুগে যেখানে তারকারা দর্শকের খুব কাছের মানুষ হয়ে উঠেছেন আর সেই কাছাকাছি আসাই হয়তো প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার সংঘাত বাড়াচ্ছে। এই ঘটনায় কে কতটা ঠিক, তার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে দায়িত্ব, সময়নিষ্ঠা আর পারস্পরিক সম্মানের সীমারেখা কোথায় টানা উচিত! আপনাদের কী মনে হয়, অভিনেত্রী অভিযোগ যথাযথ?

You cannot copy content of this page