“মাত্র ৪০ মিনিটের জন্য এত টাকা?” চুক্তি মেনেই শেষের অনুরোধ! বনগাঁ কাণ্ডে মিমিই দোষী, দাবি আয়োজক পক্ষের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি! জানালেন, হাতে রয়েছে একাধিক ভিডিও, সত্য প্রমাণ হবে আদালতেই!

উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই পরিস্থিতি অস্বস্তিকর মোড় নেয় বলে অভিযোগ। অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশের পর বিষয়টি দ্রুতই আইনি জটিলতায় গড়ায়। অনুষ্ঠানকে ঘিরে তাঁর অভিযোগ এবং আয়োজকদের পাল্টা দাবি এখন প্রকাশ্যে আসায় ঘটনাটি ঘিরে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। সাংস্কৃতিক পরিসর থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া সব জায়গাতেই এই ঘটনা নিয়ে জোর চর্চা চলছে।

অভিনেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং পাল্টা আইনি নোটিস পাঠান অভিনেত্রীর কাছে। এই ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে। একদিকে অনুষ্ঠানে অসহযোগিতার অভিযোগ, অন্যদিকে সময়সূচি ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে আয়োজক পক্ষ। ফলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে যে আনন্দমুখর পরিবেশ থাকার কথা, তা বদলে গিয়ে এখন পরিণত হয়েছে আইনি লড়াইয়ের মঞ্চে।

এই বিষয়ে আয়োজক পক্ষের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অনুষ্ঠানে পৌঁছেছিলেন অভিনেত্রী এবং অনুমোদিত সময়সীমা মেনেই অনুষ্ঠান শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল এবং পুরো ঘটনাই নথিভুক্ত রয়েছে ভিডিওতে। আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর পৌঁছানোর নির্ধারিত সময় ছিল রাত সাড়ে দশটা, আর অনুষ্ঠান করার অনুমতি ছিল রাত বারোটা পর্যন্ত।

প্রথমত, তিনি এত বড় মাপের শিল্পী নন যে মাত্র ৪০ মিনিটের পারফরম্যান্সের জন্য ২.৬৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। দেড় ঘণ্টার অনুষ্ঠানের জন্যই এই অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তিনি যে অভিযোগগুলো তুলেছেন, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কারণ প্রতিটি ঘটনার ভিডিও প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনও অশোভন আচরণ করা হয়নি এবং অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

আইনজীবীর বক্তব্যে আরও উঠে এসেছে, অনুষ্ঠানে ওই দিন একাধিক শিল্পী উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের কেউই কোনও অভিযোগ জানাননি। ফলে একতরফা অভিযোগকে প্রশ্নের মুখে তুলছে আয়োজক পক্ষ। তাঁদের মতে, একজন শিল্পীর কাছ থেকে পেশাদার আচরণ প্রত্যাশা করা অন্যায় নয়। সময়সীমা মেনে অনুষ্ঠান শেষ করার অনুরোধ করা হয়েছিল বলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন হওয়ায়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

আরও পড়ুনঃ “খোরপোশ দয়া নয়, এটা জীবনের বিনিয়োগের স্বীকৃতি!” ৩৪ বছরের সম্পর্ক ভেঙে নতুন করে শুরু করা সহজ নয়! বিচ্ছেদের পর আত্মসম্মান ও বাস্তবতার প্রশ্নে মুখ খুললেন, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বৌদি মোম গঙ্গোপাধ্যায়! প্রাক্তনের দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক কেমন তাঁর?

ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ দর্শক এবং অনুরাগীদের মধ্যেও মতভেদ তৈরি হয়েছে। কেউ অভিনেত্রীর বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, আবার কেউ আয়োজক পক্ষের দাবি সমর্থন করছেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব বিরল বলেই মনে করছেন অনেকে। শেষ পর্যন্ত সত্য কোন দিকে দাঁড়াবে, তা নির্ভর করছে আদালতের রায়ের উপর। আপাতত এই বিতর্ক থামার কোনও লক্ষণ নেই এবং বিনোদন জগতের নজর এখন এই আইনি লড়াইয়ের দিকেই।

You cannot copy content of this page