স্টার জলসার পর্দায় এক সময় যাঁকে দর্শক চিনতেন ‘শান্টু গুণ্ডা’ নামে, সেই অভিনেতা ‘সৈয়দ আরেফিন’ (Syed Arefin) আজ বাংলা টেলিভিশনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ। নানান চরিত্রে তাঁকে দেখা গেলেও এই এক চরিত্রই যেন আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছিল দর্শকের মনে! সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘ইরাবতী চুপকথা’, ‘খেলাঘর’, ‘তুঁতে’ কিংবা ‘যোগমায়া’র মতো ধারাবাহিকে নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে জনপ্রিয়তা কেবল ভাগ্য দিয়ে আসে না, তার পেছনে থাকে দীর্ঘ লড়াই। তবে অভিনয়ের সাফল্যের আড়ালে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অধ্যায় এতদিন ছিল বেশ আড়ালেই।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে হঠাৎ করেই সামনে আসে এক সুখবর! গোপনে বিয়ে করেছেন সৈয়দ আরেফিন। জানা যায়, পাত্রীর পরিচয় হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে তানিয়া। যদিও এই বিয়েটা আসলে ২০২৩ সালেই সেরে ফেলেছিলেন দু’জনে। কোনও জাঁকজমক নয়, প্রচারের আলোও নয়, একেবারেই নিজেদের মতো করে জীবন শুরু করেছিলেন তাঁরা। দীর্ঘদিন ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেছেন অভিনেতা, তাই এই খবর প্রকাশ্যে আসতে সময় লেগেছে।
বিয়ের খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক আনন্দের খবর এলো, নতুন বছরের শুরুতেই। সদ্যই বাবা হয়েছেন সৈয়দ আরেফিন! তিন বছর পর দুজন থেকে তিন জন হয়েছেন তাঁরা। সমাজ মাধ্যমে তানিয়া শেয়ার করেন হাসপাতালের একটি ছবি, যেখানে সাদা চাদরে মোড়া একরত্তিকে কোলে নিয়ে দেখা যায় তাঁকে। শিশুর মুখ স্পষ্ট হলেও স্টিকার দিয়ে আংশিক ঢেকে রাখা। ছেলে না মেয়ে, সে বিষয়ে কোনও সরাসরি ঘোষণা না করলেও সূত্রের খবর অনুযায়ী পুত্রসন্তানের বাবা হয়েছেন অভিনেতা!
সন্তানের প্রসঙ্গ উঠতেই, স্ত্রী তানিয়ার পরিচয়ও ধীরে ধীরে সামনে এসেছে এবার। তানিয়া বর্তমানে একজন সরকারি কর্মী, প্রশাসনিক ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত। তবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে অভিনয় জগতের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল। সেখান থেকেই নাকি আলাপ, তারপর বন্ধুত্ব আর পরে সম্পর্ক গাঢ় হওয়া। দুই ভিন্ন জগতের মানুষ হয়েও বোঝাপড়ার জায়গাটা তৈরি হয়েছিল খুব স্বাভাবিকভাবেই, এমনটাই বলছেন তাঁদের ঘনিষ্ঠ মহল।
আরও পড়ুনঃ মায়ের কিছু বিষয়ে নিজস্ব স্পষ্ট মতামত থাকে, কিন্তু উনি কখনই কারর ওপর চাপিয়ে দেননা! মমতা শঙ্করের জন্মদিনে আবেগের স্বীকারোক্তি সন্তান রাতুলের
উল্লেখ্য, আরেফিনের জীবনের দিকে তাকালে বোঝা যায় যে পর্দার বাইরে তাঁর গল্পটাও কম ঘটনাবহুল নয়। ছোট শহর থেকে উঠে আসা, স্বপ্নের টানে কলকাতায় লড়াই, আর আজ পরিবার গড়ে ওঠা, সবটাই যেন ধীরে ধীরে নিজের জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। প্রচারের আলো এড়িয়ে, চুপচাপ নিজের মতো করে জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই পথটাই হয়তো তাঁর কাছে সবচেয়ে স্বস্তির। অভিনয়ের পাশাপাশি এখন তাঁর জীবনে যুক্ত হয়েছে এক নতুন পরিচয়। বাবা হওয়ার দায়িত্ব, যা নিঃসন্দেহে তাঁর জীবনের আর এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়!






