“গান চু’রিটা বাকি ছিল, এবার সেটাও হয়ে গেল!” “পকেট হবে ভর্তি, টাকায় হবে পথ চেনা!” অন্য রাজনৈতিক আদর্শের গান এখানে কেন? ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে ‘পথে এবার নামো সাথী’ গাইতেই, কবীর সুমনকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা নেটিজেনদের!

রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের আবহেই ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Mamata Banerjee)। ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক নাম বিচারাধীন থাকার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তিনি তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। এই ধর্নামঞ্চে রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত মানুষও। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন গায়ক-গীতিকার কবীর সুমন (Kabir Suman), কবি জয় গোস্বামী, প্রাক্তন পুলিশকর্তা রাজিব কুমার এবং বাবুল সুপ্রিয়।

কিন্তু মঞ্চে কবীর সুমনের উপস্থিতি এবং তাঁর গানই শেষ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। কিন্তু কেন? ধর্নামঞ্চে উঠে তিনি ভোটাধিকারকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে তুলে ধরেন এবং সেই অধিকার রক্ষার প্রশ্নে সরব হন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি নিজেকে তৃণমূল সমর্থক বলে দাবি করেন না, বরং দলকে নিয়ে তাঁর কিছু অভিযোগও রয়েছে! তবুও এতদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন, তা অস্বীকার করা যায় না বলেই তাঁর মন্তব্য।

কলকাতার অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথাও তিনি উল্লেখ করেন এবং সেই প্রসঙ্গ টেনে অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করেন। এই বক্তব্যের মধ্যেই এক সময় তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত “আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে” গেয়ে শোনান। পরে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে আরও একটি গান ধরেন “পথে এবার নামো সাথী”। ধর্নামঞ্চে সেই গান শোনার পর মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে দেখলেও, নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা!

সমালোচনার সুরে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন গানের প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও। কেউ লিখেছেন, “পকেট হবে ভর্তি, টাকায় হবে পথ চেনা!” আবার আরেকজনের মন্তব্য, “যেমন ধর্না তেমন গান, গান চুরিটা বাকি ছিল, এবার সেটাও হয়ে গেল!” অন্য এক নেটিজেনের বক্তব্য আরও কড়া, “অন্য রাজনৈতিক আদর্শের গান এখানে কেন গাইছেন? এই গান বিপ্লব ঘটিয়েছে, কিন্তু সুস্থ রুচির মানুষ, সমাজ সংস্কৃতি সম্পর্কে সদাজাগ্রত ও অঙ্গীকার সচেতন মানুষ, ত্যাগের আদর্শে অটল মানুষের মুখেই শোভা পায়। এই গানের মর্যাদা রক্ষায় সৎ, নির্ভীক হতে হয়!”

আরও পড়ুনঃ “আমি আ’ত্মহ*ত্যা করার কথাও ভেবেছিলাম…” বিপুল সাফল্যের পরও কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী? কোন সেই জীবনের দুঃসহ অধ্যায়, যা প্রকাশের ভয়েই ‘বায়োপিক’ করতে দিতে নারাজ অভিনেতা? আড়ালে লুকিয়ে থাকা অজানা তথ্য আনলেন সামনে!

আবার কেউ কেউ অতীতের প্রসঙ্গ টেনে সরাসরি আক্রমণও করেছেন। তাঁদের একজন লিখেছেন, “এই গানটা যখন আভয়ার জন্য সবাই রাস্তায় নেমেছিল তখন তো রাস্তায় এসে গাইতে দেখিনি এনাকে। আজকের রোজের টাকাটা পেতে এমনি বাংলা প্রেম জেগে উঠল!” ফলে ধর্নামঞ্চে একটি গান গাওয়ার ঘটনাই এখন রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন ইস্যু হয়ে উঠেছে। সমর্থন-সমালোচনার টানাপোড়েনের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।

You cannot copy content of this page