শহরে রাতের রাস্তায় হুলস্থুল! সামান্য পথকুকুরকে খাবার দেওয়ার অপরাধে মা’রমুখী জনতা! প্রাণ বাঁচাতে, পুলিশের দ্বারস্থ তারকা দম্পতি সায়ন্তনী-ইন্দ্রনীল! ঠিক কী ঘটেছে?

শহরের রাজডাঙার শান্ত রাত আচমকাই উত্তেজনায় থরথর করে উঠল যখন পথকুকুরকে খাওয়াতে গিয়েই বিপদে পড়লেন টেলিপর্দার জনপ্রিয় মুখ সায়ন্তনী মল্লিক এবং তাঁর স্বামী ইদ্রনীল মল্লিক। মানবিক কাজের উদ্দেশ্যে মাঝরাতে খাবার নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন তাঁরা কিন্তু মুহূর্তেই সেই স্নেহের উদ্যোগ রূপ নিল তীব্র অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে।

সায়ন্তনী পরে ফেসবুক লাইভে এসে জানান যে কয়েকজন বয়স্ক স্থানীয় মানুষের তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। কেন রাস্তায় কুকুরদের খাওয়ানো হচ্ছে তা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তোলা শুরু হয়। লাইভ ভিডিওতে দেখা যায় সায়ন্তনী আতঙ্কিত কণ্ঠে পুলিশকে অনুরোধ করছেন ও পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছেন আর অন্যদিকে উত্তেজিত জনতার ধাক্কাধাক্কি এবং তির্যক মন্তব্য ক্রমশ বাড়ছে।

ইন্দ্রনীলের দিকে কিছু লোক হাত তুলতে উদ্যত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সায়ন্তনী জানান তাঁদের দলের অন্য সদস্যরাও এই গোলমালের মধ্যে পড়েছিলেন। দর্শকেরা লাইভ কমেন্টে পাশে দাঁড়ান অভিনেত্রী-অভিনেতার এবং দ্রুত থানায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন। এর আগেই সায়ন্তনীর স্টোরিতে দেখা গিয়েছিল রাতের ডিনার শেষে পথকুকুরদের খাবার দেওয়ার আনন্দের মুহূর্ত কিন্তু সেই ভিডিওর পরই হঠাৎ শুরু হয় বিক্ষোভ।

স্থানীয়দের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার সেই দৃশ্য স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয় পরিস্থিতি কতটা অস্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এমন ঘটনার উদাহরণ শহরের নানা জায়গায় থাকলেও জনপ্রিয় দুই শিল্পীকে ঘিরে এই বিতর্ক নতুন করে বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এল। প্রশ্ন উঠল কেন নিরীহ প্রাণীদের প্রতি মানুষের বিরক্তি এত বেশি এবং কেন পথকুকুরকে একটু খাবার দেওয়াও অনেকের চোখে অপরাধ বলে মনে হয়।

আরও পড়ুনঃ মিথ্যে ধ’র্ষ’ণের নাটক থেকে স্বামী নির্যা’তন, ‘চিরসখা’-র বর্ষা চরিত্র সমাজের সেই শ্রেণীর নারীদের প্রতিচ্ছবি, যাদের জন্য সত্যিকারের নি’র্যাতি’তারা সুবিচার পায় না! বর্ষার মতো নারীদের জন্যই বহু পুরুষ আজও মিথ্যা অভিযোগের ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারেন না?

এই ঘটনার পরে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য যেখানে পথকুকুরদের অবস্থান ও মানবিক আচরণ নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। সমাজে প্রকৃত অপরাধীরা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ালেও নিরীহ পশু আর তাদের সাহায্য করতে গিয়ে মানুষকে কেন বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয় সেই প্রশ্নই এখন শহরবাসীর মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।