নতুন বছরে নক্ষত্র পতন! ঘুমের মধ্যেই চিরবিদায় বাঙালি অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরীর, শো’কস্তব্ধ টলিপাড়া

নতুন বছর শুরু হতে না হতেই ফের মৃ’ত্যু। আবার‌ও শো’কস্তব্ধ হলো টলিউড। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী। সোমবার ভোর সাড়ে ৩টা নাগাদ ঘুমের মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে আর্টিস্ট ফোরাম। ফোরামের পক্ষ থেকে অভিনেতা দিগন্ত বাগচী জানান, ঘুমের মধ্যেই হঠাৎ স্ট্রোক হয় তমাল রায়চৌধুরীর, এরপরই তিনি চিরনিদ্রায় চলে যান। এই খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিউডে।

অভিনেতার মরদেহ বিকেল ৪টে নাগাদ শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আনা হবে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে। সেখানে সহকর্মী ও অনুরাগীরা তাঁকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর সেখান থেকে তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়া হবে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে। সেখানেই সম্পন্ন হবে অভিনেতার শেষকৃত্য, এমনটাই জানিয়েছেন দিগন্ত বাগচী।

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে তমাল রায়চৌধুরীর অবদান উল্লেখযোগ্য। ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুই ধরনের চরিত্রেই তিনি সমান দক্ষতায় অভিনয় করেছেন। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’, ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘লে হালুয়া লে’, ‘বিন্দাস’, ‘জাতিস্মর’, ‘গোরস্থানের সাবধান’, ‘আমাজন অভিযান’ এবং ‘চাঁদের পাহাড়’-এর মতো বহু জনপ্রিয় ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

তবে গত কয়েক বছর ধরে তাঁকে আর বড় পর্দায় দেখা যাচ্ছিল না। এক সাক্ষাৎকারে তমাল রায়চৌধুরী জানিয়েছিলেন, শারীরিক সমস্যার কারণেই ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর বুকে পেসমেকার বসানো হয়েছিল। শুটিংয়ের জন্য দূরে দূরে যেতে হওয়ায় তিনি আর নতুন কাজ নেওয়ার আগ্রহ দেখাতেন না।

আরও পড়ুনঃ “দিদি, এত এনার্জি পান কোথা থেকে?” মুখ্যমন্ত্রীর অফুরন্ত এনার্জির রহস্য জানতে চাইলেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়! অভিনেত্রীর প্রশ্নে, জীবন দর্শনের কোন কথা শোনালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। স্কুলে পড়ার সময় নাটকে অভিনয় করতেন, এমনকি পাড়ার মঞ্চেও তাঁর অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছিল। ১৯৬২ সালের পর থেকেই থিয়েটারের প্রতি তাঁর ঝোঁক বাড়তে থাকে। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। আজ তিনি না থাকলেও তাঁর অভিনয় চিরকাল মনে রাখবেন সিনেমাপ্রেমীরা।

You cannot copy content of this page