ভারতীয় সঙ্গীতজগতে প্রায় দুই দশক ধরে নিজের কণ্ঠের জাদু ছড়িয়ে চলেছেন শ্রেয়া ঘোষাল (Shreya Ghoshal)। অসংখ্য হিট গান উপহার দিয়ে তিনি আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন। কিন্তু সম্প্রতি এক পডকাস্টে হাজির হয়ে সঙ্গীত ইন্ডাস্ট্রির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে সরব হলেন জনপ্রিয় এই গায়িকা। বিশেষ করে নারী শিল্পীদের উপস্থিতি ও সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, জনপ্রিয় চার্টে বা আলোচিত গানের তালিকায় নারী কণ্ঠের সংখ্যা আশ্চর্যজনকভাবে কমে গেছে, যা তাঁর মতে উদ্বেগের বিষয়।
পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে শ্রেয়া জানান, এই বৈষম্য আসলে সমাজের বৃহত্তর বাস্তবতারই প্রতিফলন। তাঁর মতে ভারতীয় সমাজ এখনও অনেকাংশে পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার প্রভাব বহন করে। সেই প্রভাব সঙ্গীত জগতেও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তিনি বলেন, যদি কেউ বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় গানের তালিকা খুঁটিয়ে দেখেন, তাহলে সহজেই বোঝা যাবে যে সেখানে নারী শিল্পীদের গাওয়া গানের সংখ্যা খুবই কম। অনেক সময় সেরা পঞ্চাশটি গানের তালিকায় মাত্র কয়েকটি গানই নারী কণ্ঠে শোনা যায়।
এই প্রসঙ্গে শ্রেয়া জানান, পরিস্থিতি সবসময় এমন ছিল না। তাঁর মতে অতীতে ভারতীয় সঙ্গীতজগতে গায়িকাদের প্রভাব অনেক বেশি ছিল এবং তাঁরা সমান গুরুত্ব পেতেন। শ্রেয়া উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন কিংবদন্তি শিল্পী Lata Mangeshkar এবং Asha Bhosle এর নাম। তাঁদের সময়ে অসংখ্য জনপ্রিয় গান নারী কণ্ঠে তৈরি হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই গায়িকারা জনপ্রিয়তার নিরিখে পুরুষ শিল্পীদের থেকেও এগিয়ে ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ অপেক্ষার অবসান! জ্যেষ্ঠপুত্র প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরেই টলিউডে নতুন করে রাজত্ব শুরু অনির্বাণের! ‘দশম অবতার’-এর জনপ্রিয় জুটি, কবে ফিরছে পর্দায়?
শ্রেয়ার মতে সেই সময়ে গায়িকারা বছরে বিপুল সংখ্যক গান গাইতেন এবং চলচ্চিত্রের সঙ্গীতে তাঁদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু গত এক দশকে পরিস্থিতি বদলেছে বলে মনে করছেন তিনি। এখন অনেক সময়েই বড় বাজেটের সিনেমা বা আলোচিত গানে পুরুষ কণ্ঠকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে নারী শিল্পীদের জন্য সুযোগ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়ছে বলেই তাঁর ধারণা।
তবে এই পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ নন শ্রেয়া ঘোষাল। বরং তিনি আশাবাদী যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসবে। তাঁর বিশ্বাস, সঙ্গীতপ্রেমী শ্রোতারা সবসময় ভালো কণ্ঠ এবং ভালো গানকেই গুরুত্ব দেন। তাই ধীরে ধীরে নারী শিল্পীদের জন্যও আবার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে সঙ্গীত জগতে নারী কণ্ঠের শক্তিশালী উপস্থিতি আবার ফিরে আসবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।






