বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chattopadhyay)। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে পরোক্ষভাবে বিজেপি বিরোধী এবং তৃণমূলপন্থী বলে কটাক্ষ করে আসছেন একাংশ। সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে অভিনেতাকে ঘিরে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে একটি তথাকথিত “ককরোচ জনতা পার্টি” নামের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে অনুসরণ করার অভিযোগ সামনে আসতেই বিতর্ক নতুন মোড় নেয়। সেই সংগঠনকে ঘিরে দাবি করা হচ্ছে, তারা নাকি ভারত, হিন্দু সমাজ এবং প্রধানমন্ত্রী বিরোধী প্রচারে সক্রিয়। এই প্রসঙ্গ টেনে একাধিক পোস্টে পরমব্রতকে নিয়ে চর্চা চলছে।
কোথাও লেখা হয়েছে, “পরমব্রত শুধু অভিনেতা নন, তিনি হিন্দু বিদ্বেষী ও দেশবিরোধী রাজনীতির অংশ।” আবার কারও বক্তব্য, “দেশ জুড়ে ভারত বিরোধী আন্দোলনের পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ মুখ পরমব্রত ও তাঁর গ্যাং।” যদিও এই সমস্ত অভিযোগের কোনও সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি, তবুও রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বিতর্ক দ্রুত ছড়িয়েছে। তবে, পরমব্রতকে নিয়ে এই ক্ষোভের পেছনে অতীতের নানান রাজনৈতিক অবস্থানও সামনে আনছেন অনেকে। বহুবার তাঁকে সরাসরি না হলেও বিজেপির বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি তাঁর নরম মনোভাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
অভিনেতা নিজেও একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে এবং কিছু মতাদর্শগত মিলও আছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে তৃণমূলের প্রচারেও দেখা গিয়েছিল। সেই সময় জোর গুঞ্জন উঠেছিল, প্রার্থী তালিকাতেও তাঁর নাম থাকতে পারে। যদিও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এর মধ্যেই সমাজ মাধ্যমে পুরনো কিছু রাজনৈতিক কর্মসূচির ছবিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে “নো ভোট টু বিজেপি” প্রচারে তাঁর অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করা হচ্ছে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, “পরমব্রতরা শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া আটকাতে বাঙালি-অবাঙালি বিভাজনের রাজনীতি করেছেন।”
অন্যদিকে রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিউডেও পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বিজেপির সরকার গঠনের পর শিল্পী মহলের একাংশ খোলাখুলি ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন। সম্প্রতি নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের উদ্যোগে ফেডারেশনের একটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরমব্রতও। সেই বৈঠকে অভিনেতা জানান, গত কয়েক মাস ধরে তাঁকে নাকি টলিউডে অলিখিতভাবে কাজ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। আগে তিনি বলেছিলেন, মতবিরোধের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে এবার তিনি রাজনৈতিক কারণের ইঙ্গিতও দেন। তাঁর কথায়, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই নাকি অনেক অপমান চেপে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হয়েছে তাঁকে।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে শিল্পীরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেননি। আর এই বক্তব্য সামনে আসতেই সমাজ মাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যে তৃণমূল সরকারকে একসময় সমর্থন করেছিলেন পরমব্রত, সেই দল ক্ষমতা হারানোর পরই কেন তাঁর বক্তব্যের সুর বদলাল? বিরোধীদের দাবি, এতদিন ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা না বললেও সরকার বদলের পর অভিনেতার অবস্থান পাল্টে গিয়েছে। একাধিক পোস্টে লেখা হয়েছে, “পরমব্রত কারও চাপে মাথা নত করেননি, তিনি স্বেচ্ছায় তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।” আবার কেউ কেউ ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনেও অভিনেতাকে আক্রমণ করেছেন।
আরও পড়ুনঃশরীরে ছড়িয়েছে গুরুতর সংক্র’মণ! অসহ্য যন্ত্র’ণায় হাসপাতালে ভর্তি দর্শনা বণিক! কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন, হঠাৎ অবস্থার অবনতি! উদ্বিগ্ন অনুরাগীরা, কেমন আছেন অভিনেত্রী?
আরও অভিযোগ উঠেছে, “হিন্দু ও আরএসএসকে আটকাতে স্বইচ্ছায় তৃণমূল করেছে।” যদিও এই সমস্ত বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক মতামত নির্ভর এবং পরমব্রত এই বিষয়ে আলাদা করে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে চর্চা এখন তুঙ্গে। এই বিতর্কের মধ্যেই টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে ইন্ডাস্ট্রিতে ‘ব্যান সংস্কৃতি’ বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমবে কি না, সেই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। শিল্পীদের একাংশ চাইছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে গিয়ে সবাই যেন সমান সুযোগ পান। কিন্তু পরমব্রতকে ঘিরে চলা এই বিতর্ক দেখিয়ে দিচ্ছে, বাংলার রাজনীতি ও বিনোদন জগতের সম্পর্ক এখনও কতটা জটিল।






