বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এক সময় বাংলা ছবির কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি একের পর এক কাজ করে ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সেই কারণেই ভালোবেসে অনেকে তাঁকে ‘মিস্টার ইন্ডাস্ট্রি’ বলে ডাকেন। আট থেকে আশি, বিভিন্ন প্রজন্মের দর্শকের কাছেই তাঁর জনপ্রিয়তা এখনও অটুট। এবার তাঁর সেই জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সামনে এল অভিনেতার মানবিক দিকও। এক খুদে ভক্তের সঙ্গে তাঁর দেখা করার ভিডিও ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে।
সম্প্রতি একটি পাপারাজ্জি পেজের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সেই ভিডিও। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে হাজির হয়েছিল তাঁর এক খুদে ভক্ত। রাস্তায় পেন বিক্রি করেই দিন কাটে ছোট্ট ছেলেটির। প্রিয় অভিনেতাকে একবার চোখের সামনে দেখার আশায় সে প্রায়ই ‘উৎসব’-এর সামনে দাঁড়িয়ে থাকত। সেই বিষয়টি জানতে পেরে প্রসেনজিৎ নিজেই বাইরে বেরিয়ে এসে তার সঙ্গে দেখা করেন। পছন্দের নায়ককে সামনে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে পড়ে খুদে ভক্তটি। এরপর সে অভিনেতার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে এবং প্রসেনজিৎও সস্নেহে তার মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, শুধু দেখা করেই থেমে থাকেননি অভিনেতা। তিনি খুদে ভক্তটির সম্পর্কে জানতে চান এবং তার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাও বলেন। প্রিয় তারকার কাছ থেকে এমন ব্যবহার পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি হয়ে ওঠে ছেলেটি। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর প্রসেনজিতের এই আচরণের প্রশংসা করেছেন নেটিজেনদের একাংশ। একজন তাঁকে ‘লিভিং লেজেন্ড’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্য একজন লিখেছেন, অনেকেই তাঁকে নিয়ে নানা কথা বলেন, কিন্তু উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর তিনিই টলিউডকে নতুন দিশা দেখিয়েছেন। আরেক নেটিজেনের কথায়, তিনি ‘মিস্টার ইন্ডাস্ট্রি’। খুদে ভক্তের সঙ্গে অভিনেতার এই সাক্ষাৎ তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে তাঁর প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা বাড়িয়েছে।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় জীবনও যথেষ্ট দীর্ঘ এবং সমৃদ্ধ। অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র প্রসেনজিৎ ছোটবেলাতেই অভিনয় জগতে পা রাখেন। তাঁর শৈশবও খুব একটা সহজ ছিল না। ১৯৭০-এর দশকে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। তারও আগে ১৯৬৮ সালে ঋত্বিক ঘটকের সহকারী পরিচালক বিমল রায়ের ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে ছোট্ট বুম্বাকে দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীকালে ১৯৮৭ সালে তরুণ মজুমদারের ‘অমর সঙ্গী’ তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ছবির ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ গানটি আজও বাঙালির কাছে জনপ্রিয়। এরপর ঋতুপর্ণ ঘোষ, সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং গৌতম ঘোষের মতো পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ নেপালে বিধ্বং’সী হড়পা বান, আটকে পড়েছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়! ফেরার সব পথ বন্ধ, ভাগ্যক্রমে কলকাতায় ফিরেছেন রজতাভ দত্ত! শহরে ফিরতেই নেপালের চিন সীমান্তের ভ’য়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে কী জানালেন অভিনেতা?
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ৩৫০ থেকে ৪০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। শুধু বাণিজ্যিক ছবিই নয়, বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অভিনয় দক্ষতারও প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ২০০৭ সালে ‘দোসর’ ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড পান অভিনেতা। এরপর ২০২৬ সালে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মশ্রীতে সম্মানিত হন তিনি। এমন দীর্ঘ কেরিয়ারের পরেও এক খুদে ভক্তের ভালোবাসাকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এনেছে অভিনেতাকে। তাই পর্দার ‘ইন্ডাস্ট্রি’র পাশাপাশি তাঁর এই মানবিক ব্যবহারের ভিডিওও এখন নেটপাড়ায় প্রশংসা কুড়োচ্ছে।






