“তাঁকে অন্তিম বিদায় জানানো ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত!” “পাশে না থাকলেও, তাঁর শেখানো মূল্যবোধই এবার আমার পথ দেখাবে!” অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই ভেঙেছিল দাম্পত্য, সমাজের কটূক্তি ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও একাই মেয়েকে বড় করেছেন সানন্দা বসাক! জীবনের একের পর এক কঠিন আ’ঘাত সামলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো অভিনেত্রীর জীবনে ফের কেন নেমে এল শোকের ছায়া?

বিনোদন জগতের ঝলমলে পর্দার আড়ালে অনেক সময়ই লুকিয়ে থাকে এমন কিছু গল্প, যার খবর দর্শকের কাছে পৌঁছয় না। হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে থাকা তারকার ব্যক্তিগত জীবনেও কখনও নেমে আসে একের পর এক কঠিন পরীক্ষা। তেমনই এক আবেগঘন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন ছোটপর্দার পরিচিত মুখ সানন্দা বসাক। ‘গোয়েন্দাগিন্নি’, ‘নেতাজী’, ‘জয়ী’, ‘এসো মা লক্ষ্মী’, ‘বয়ে গেল’–সহ একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে প্রায় কয়েক বছর ধরেই অভিনয় জগতের আলো থেকে দূরে সানন্দা।

এরই মধ্যে বাবাকে হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবাকে শেষ বিদায় জানানোর কথা জানিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, বাবাকে অন্তিম বিদায় জানানো তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন মুহূর্ত। শারীরিকভাবে বাবা পাশে না থাকলেও তাঁর শেখানো মূল্যবোধ ও নৈতিক আদর্শ সারাজীবন পথ দেখাবে বলে জানিয়েছেন সানন্দা। কলকাতার এক যৌথ পরিবারে জন্ম সানন্দার। ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি চাকরি শুরু করেছিলেন তিনি।

পরে মডেলিংয়ে আসেন এবং সেখান থেকেই অভিনয়ের সুযোগ। ২০১২ সালে ‘তাই বলে কি প্রেম দিবো না’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় তাঁর পথচলা শুরু। এরপর একের পর এক ধারাবাহিকে কাজ করে জনপ্রিয়তা পান। ২০১৯ সালে ‘নেতাজী’ ধারাবাহিকেই শেষবার তাঁকে পর্দায় দেখা যায়। অভিনয়ের সূত্রেই সিনেমাটোগ্রাফার অভিষেক চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর পরিচয়। অল্প দিনের আলাপের পর ২০১৫-১৬ নাগাদ বিয়ে করেন তাঁরা। কিন্তু বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই দাম্পত্যে ভাঙন ধরে। এমনকী অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই স্বামীর থেকে আলাদা হয়ে যেতে হয় সানন্দাকে।

পরে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। জীবনের সেই কঠিন সময়ে একা মেয়েকে নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেছেন অভিনেত্রী। নিজের সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে সানন্দা জানিয়েছিলেন, স্বামীর সঙ্গে তাঁদের ঠিকমতো মিল হয়নি এবং একসঙ্গে খারাপ থাকার চেয়ে আলাদা থাকাই ভালো বলে মনে করেছিলেন তিনি। মেয়েকে বড় করে তুলতে বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সহযোগিতাও পেয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। ধীরে ধীরে মেয়েকে ঘিরেই নিজের জীবন গুছিয়ে নিয়েছেন সানন্দা।

আরও পড়ুনঃ বিগ বসে গ্যাসের বার্নার চু’রি করে সারাদিন সকলকে না খাইয়ে রাখলেন নিরঞ্জন! ‘শিক্ষা’ দিতে গিয়ে করলেন এমন নোং’রামি, যার যুক্তি একেবারেই মানতে নারাজ দর্শক! “এতটা নিচে নামার কী দরকার ছিল?” “যেটুকু শ্রদ্ধা ছিল, সেটাও হারালাম!” “কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ভালো লাগত, এটা আশা করিনি!” আপনারাও কি দর্শকদের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

বর্তমানে অভিনয় থেকে দূরে সরে কাপড়ের ব্যবসায় মন দিয়েছেন তিনি। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য এখন মেয়েকে মানুষ করা। কিন্তু জীবনের সেই কঠিন লড়াইয়ের মধ্যেই এবার বাবাকে হারানোর শোক যেন পুরনো ক্ষতকে আরও গভীর করে দিয়েছে। পর্দার পরিচিত মুখ সানন্দার জীবনের এই অধ্যায় তাই ফের মনে করিয়ে দেয় আলোর আড়ালেও তারকাদের জীবনে থাকে অসংখ্য না-বলা গল্প, লড়াই আর আবেগ।

You cannot copy content of this page