বাংলার রাজনীতিতে আজ এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হতেই গোটা রাজ্যের নজর এখন ফলাফলের দিকে। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আসতে শুরু করেছে প্রাথমিক প্রবণতা, আর তাতেই তৈরি হচ্ছে উত্তেজনা, চর্চা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর। কোথাও এগিয়ে শাসকদল, কোথাও আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বিরোধীরা, সব মিলিয়ে আজকের দিনটি যে বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
এই আবহেই মনে পড়ছে ভোটের দিনকার এক বিতর্কিত মন্তব্য, যা করেছিলেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলী, স্বামী রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে ভোট দিয়ে বেরিয়েই তিনি বলেছিলেন, “প্রতিবার মা দুর্গার সঙ্গে বহু মহিষাসুর লড়াই করতে আসে, কিন্তু জয় হয় মা দুর্গারই।” সেই সময় তাঁর এই মন্তব্য স্পষ্টভাবেই রাজনৈতিক বার্তা বহন করেছিল।
শুধু তাই নয়, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জিকে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ আখ্যা দিয়ে বিজেপিকে ‘মহিষাসুর’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন শুভশ্রী গাঙ্গুলী। পাশাপাশি যোগীরাজ্য উত্তর প্রদেশ থেকে আসা এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকেও একই প্রেক্ষাপটে নিশানা করে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। বাংলার সংস্কৃতি ও মাতৃশক্তির প্রতীক তুলে ধরে করা এই মন্তব্য একদিকে সমর্থকদের মধ্যে আবেগ তৈরি করলেও, অন্যদিকে বিরোধীদের তরফে তা ‘অতিরঞ্জিত’ ও ‘রাজনৈতিক আক্রমণ’ বলেই সমালোচিত হয়েছিল।
কিন্তু ভোট গণনার এই মুহূর্তে ছবিটা যেন কিছুটা উল্টো দিকেই ইঙ্গিত করছে। প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী, ব্যারাকপুর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী পিছিয়ে পড়েছেন বিজেপি প্রার্থী কৌস্তব বাগচির কাছে। পোস্টাল ব্যালট এবং প্রথম দফার গণনার পর থেকেই এই কেন্দ্রে বিজেপির এগিয়ে থাকার খবর সামনে আসছে। ২০২১ সালে জয়ের পর এবার শুরুতেই কিছুটা চাপে পড়েছেন রাজ, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুনঃ সুখবর! ভোটের ফল নিয়ে উত্তেজনার মাঝেই চুপিসারে ছাদনাতলায় উন্মেষ! বিয়ে সারলেন ‘বাঁকুড়া মিমস’-এর ঘোতন! প্রিয় মুখের শুভপরিণয়ে চমকে গেলেন অনুরাগীরা! পাত্রী কে জানেন?
এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে,তাহলে কি ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র সেই আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরছে? না কি এটা শুধুই শুরুর ট্রেন্ড, যা পরবর্তী রাউন্ডে বদলে যেতে পারে? শুভশ্রীর সেই মন্তব্য এখন নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। একদিকে তাঁর প্রতীকী ভাষণ, অন্যদিকে বাস্তবের ভোটের অঙ্ক, এই দুইয়ের সংঘাতই এখন বাংলার রাজনীতিতে তৈরি করছে এক নতুন নাটকীয়তা। ফলাফল শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার।






