“মদিনায় নয়, সায়নী ঘোষকে পাঠাতে হবে অযোধ্যায়, ওর নৌকার পাল কেটে ফেলতে হবে” তী’ব্র কটা’ক্ষ হাস্যকৌতুক অভিনেতা সঞ্জয় বিশ্বাসের! মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ হয়ে রাজনৈতিক সুবিধা পেতেই কি নিজের অবস্থান বদলেছিলেন সায়নী ঘোষ, কী অভি*যোগ তুললেন অভিনেতা?

সম্প্রতি রাজ্যের রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক সামনে আসছে। বিশেষ করে তৃণমূল সরকারের আমলে বিনোদন জগতের একাংশের সঙ্গে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা এবং বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীরা সরব। সাম্প্রতিক নানা তদন্ত ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ধারণা জোরদার হয়েছে যে, রাজনীতি ও বিনোদন জগতের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বহু প্রশ্নের উত্তর এখনও অমীমাংসিত। এই আবহেই অভিনেত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সায়নী ঘোষকে নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন হাস্যকৌতুক অভিনেতা সঞ্জয় বিশ্বাস।

সায়নী ঘোষ বাংলা টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ। অভিনয় জগত থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। উল্লেখ্য গতকাল অর্থাৎ ১৩ জুন তাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে, এবং বিরোধী তৃণমূল দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নিয়ে তাকে ঘিরে জোর জল্পনা চলছে। তবে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশের পর থেকেই তাঁকে ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের পাশাপাশি বিনোদন জগতের কিছু ব্যক্তিত্বও সময়ে সময়ে তাঁর ভূমিকা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এবার সেই তালিকায় নাম যোগ করলেন সঞ্জয় বিশ্বাস।

আরও পড়ুন: “অন্ধের মতো ভালোবেসেছি, সে পিছনে অতিরিক্ত সম্পর্কে জড়িয়েও নিজেকে সাধু প্রমাণ করতে চাইছে” সারাজীবন এই ক্ষ’তর জ্বালায় জ্বলতে হবে! প্রবাহ মুখ খুলতেই বি’স্ফোরক দেবলীনা নন্দী! দাম্পত্য তিক্ততার নেপথ্যে তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি, সেটা ঢাকতেই দোষী সাজানো হয়েছে মাকে? সামনে উঠে এল কার নাম?

এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় বিশ্বাস দাবি করেন, একসময় সায়নী ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের আগে দলের সমালোচকদের মধ্যে ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, পরে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেন। সঞ্জয় বলেন, “যাঁরা একসময় সরকারের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন, তাঁদের অনেকেই পরবর্তীতে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সায়নী ঘোষও সেই পথেই এগিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত সাংসদ পদে পৌঁছেছেন। যদিও এই মন্তব্যের পক্ষে তিনি কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরেননি, তবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি একাধিক কটাক্ষ করেন।

সাক্ষাৎকার চলাকালীন সঞ্জয় বিশ্বাস সায়নী ঘোষের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, “একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করার পরিবর্তে তিনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতেই বেশি থাকেন।” সায়নী ঘোষের বিভিন্ন জনসমক্ষে উপস্থিতি, রাজনৈতিক অবস্থান এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়েও কটাক্ষ করতে শোনা যায় তাঁকে। এমনকি তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কারণেই এখন অনেক রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী প্রকাশ্যে বেরোতে অস্বস্তি বোধ করেন। এই প্রসঙ্গে সায়নী ঘোষকে উদ্দেশ্য করে তিনি একাধিক ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন “মদিনায় নয়,সায়নী ঘোষকে পাঠাতে হবে অযোধ্যায়। ওর নৌকার পাল কেটে ফেলতে হবে।” এছাড়াও অভিনেতা জানিয়েছেন, “জনগণের স্বার্থে কাজ করলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না।”

সঞ্জয় বিশ্বাস আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় যেসব সরকারি বা রাজনৈতিক সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তার অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর মতে, “রাজনৈতিক নেতাদের একটি অংশ নিজেদের স্বার্থ রক্ষাতেই বেশি ব্যস্ত থেকেছেন।” যদিও সায়নী ঘোষ বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সঞ্জয় বিশ্বাসের এই মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি। তবে তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। আগামী দিনে এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের জেরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

You cannot copy content of this page