চোখে থেবড়ে লাগানো কাজল, ঠোঁটে গাঢ় করে লিপস্টিক! বয়স ঢাকতে উগ্রতাকে হাতি’য়ার ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের? “নতুন সরকারের কাছে আবেদন, ওনারা ভয়ঙ্কর মেকআপ আর্টিস্টকে ব্যান করুন” “ভুতের মতো, রানু মন্ডলের বোন” ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নেটপাড়ায় তুমুল সমালোচনা!

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ‘ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত’ (Rituparna Sengupta) ফের সোশ্যাল মিডিয়ার চর্চার কেন্দ্রে। একসময় বাংলা ছবির বক্স অফিসে তাঁর নামই ছিল সাফল্যের বড় ভরসা। বিশেষ করে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-এর সঙ্গে তাঁর জুটি আজও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয়। একের পর এক সুপারহিট ছবি উপহার দিয়ে বহু বছর ধরে বাংলা সিনেমায় নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন তিনি। দেশ থেকে বিদেশ, সর্বত্রই তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা কম নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়ের চেয়ে বেশি তাঁর ব্যক্তিগত সাজপোশাক এবং মেকআপ নিয়েই আলোচনা তৈরি হচ্ছে।

রাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিতি থেকেও বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে তাঁর সাম্প্রতিক উপস্থিতি এবং লুক নিয়ে। প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগেই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পরা পোশাক নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দাবি করেছিলেন, শাড়ির আঁচল সরিয়ে ক্লিভেজ দেখাচ্ছিলেন অভিনেত্রী, যা নিয়ে বিস্তর ট্রোলিং শুরু হয়। এরপর আবার তাঁর একটি ছবি ভাইরাল হয়, যেখানে অতিরিক্ত মেকআপ নিয়ে নেটিজেনদের নানান মন্তব্য সামনে আসে। কেউ তাঁকে “রানু মন্ডলের বোন” বলেও কটাক্ষ করেন।

আবার অনেকের দাবি ছিল, “যাত্রায় ছেলেরা মুখে রং মেখে মেয়ে সাজে, ঠিক তেমনই লাগছে।” সেই বিতর্ক কিছুটা থিতিয়ে যাওয়ার আগেই ফের একটি ভিডিও ঘিরে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নতুন সরকারের কাছে তাঁর কী প্রত্যাশা, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেই ভিডিও একটি সংবাদ মাধ্যম প্রকাশ করতেই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে অভিনেত্রীর মেকাপ দেখে কার্যত হাসির রোল, আবার কেউ কেউ কড়া ভাষায় সমালোচনাও করছেন। এদিন দেখা যায় ওনার চোখে অপটু হাতে পরা কাজল, যেটা দেখতে অত্যন্ত খারাপ লাগছে বা বলা ভালো থেবড়ে গেছে!

সেই সঙ্গে একই রকম ভাবে লিপস্টিক, তাও আবার উগ্র লাল রং! সব মিলিয়ে নেটপাড়া ফের একবার কটাক্ষে মুখর। অনেকেই দাবি করেছেন, পুরো সাজটাই অত্যন্ত বেমানান লেগেছে। কেউ কেউ সরাসরি লিখেছেন, “আগে চর্চা হতো অভিনয়ের, এখন শঙ্খ বাজানোর। আর যাই করুন, আমি নতুন সরকারের কাছে আশা করবো, ওনারা যেন ঋতুর ভয়ঙ্কর মেকআপ আর্টিসকে ব্যান করেন” আবার একজন দীর্ঘ পোস্টে লিখেছেন, “মানসিক রোগী তো উনি নন। শ্বেত পাথরের থালা দেখে সেই ঋতুপর্ণার ফ্যান হয়েছিলাম। সুপার, ব্লকবাস্টার ছবি দিয়ে মানুষের হৃদয় অন্তরে জায়গা করে নিয়েছিলেন। আজকাল ওনাকে দেখলে দুঃখ লাগে। এত রুচিহীন সাজ ওনাকে মানায় না, সেটা ওনার বোঝা উচিত। বয়স হয়েছে সেটা মেনে নিতে হবে।”

অন্য এক নেটিজেনের বক্তব্য, “আসলে বয়স ঢাকতে এই উগ্রতাকে হাতিয়ার করেছেন। বয়সের যে একটা আলাদা মাধুর্য আছে সেটা তো মানতেই হবে।” একই পোস্টে তিনি উদাহরণ হিসেবে অপর্ণা সেন-এর কথাও তোলেন। তাঁর দাবি, “অপর্ণা সেনকে দেখুন, কতো আধুনিকা লাগে। চেষ্টা নেই বয়স ঢাকার।” আরেকজন লিখেছেন, “সাজগোজ সবসময় নিজস্ব। তবে একটা বয়েসে এসে খানিকটা পরিমিতি বোধ, রুচি এসবের বড়োই প্রয়োজন।” আরও এক ব্যক্তি অভিনেত্রীর রুচিবোধ এবং অতীতের ছবির প্রসঙ্গ তুলে লেখেন, “একজন মানুষের পরিমিতি বোধ আসে রুচি থেকে আর রুচি আসে শিক্ষা থেকে।

আরও পড়ুনঃ টলিউডে ফের তোলপাড়! শ্লী’লতাহানির চেষ্টার অভিযোগ করেছিলেন অঙ্কিতা চক্রবর্তী! এবার পাল্টা ৩ কোটির আইনি নোটিশ পাঠালেন দেবালয় ভট্টাচার্য! আত্মপক্ষ সমর্থনে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ প্রকাশ্যে আনলেন পরিচালক?

যেখানে শিক্ষার অভাব সেখানে এমন বাহ্যিক প্রকাশ।” তিনি আরও দাবি করেন, “শ্রদ্ধেয় তরুণ মজুমদার অথবা ঋতুপর্ণ ঘোষ-এর পরিচালিত সিনেমায় ওনাকে যেরকম দেখা গেছে সেখানে সবটুকু কৃতিত্ব পরিচালকদের।” একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “সিনেমার পর্দার বাইরে ওনার ব্যক্তিগত রুচি বরাবরই সাজপোশাকে ফুটে উঠেছে। আগে বয়স কম ছিল বলে অতটা চোখে লাগতো না, এখন বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেটাই দৃষ্টিকটু লাগে।” সব মিলিয়ে, বহু সফল ছবির অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত আবারও নেটমাধ্যমে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। তবে এই বিতর্কের মধ্যেও তাঁর অভিনয় দক্ষতা নিয়ে এখনও দর্শকদের এক বড় অংশের আলাদা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে।

You cannot copy content of this page