“ভোটে টিকিট পাওয়ার জন্য অভিনয় করতে হয় ?”, “দেব মেগাস্টার বলে ভিড় হতো, জননেতা হিসেবে নয়” টলিউডের তারকা-রাজনীতিদের একহাত নিলেন অভিনেত্রী মৌসুমী ভট্টাচার্য

একসময় বাংলার বিনোদন জগতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাব নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। টলিউডের একের পর এক অভিনেতা-অভিনেত্রী ও শিল্পীকে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা গিয়েছিল। কেউ সাংসদ, কেউ বিধায়ক, কেউ আবার সরাসরি দলের প্রচারের মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই সময়ের বহু শিল্পীই প্রকাশ্যে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ বলেছেন চাপের মুখে রাজনীতিতে এসেছিলেন, কেউ আবার ‘ব্যান কালচার’-এর ভয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন। এই আবহেই আবারও নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিলেন অভিনেত্রী মৌসুমী ভট্টাচার্য। শিল্পী এবং রাজনীতি এই দুইয়ের সম্পর্ক নিয়ে তাঁর একাধিক মন্তব্য এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মৌসুমী ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একজন শিল্পীর পক্ষে একসঙ্গে দুই নৌকায় পা দিয়ে চলা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, অভিনয় এবং সক্রিয় রাজনীতি দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ক্ষেত্র। তবে তিনি কোথাও সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করেননি। বরং মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও লড়াইকে তিনি সম্মান জানান। কিন্তু সেই সঙ্গে রাজ্যের কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়ন এবং ‘চা-শিল্প’, ‘চপ-শিল্প’ নিয়ে অতীতে হওয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্নও তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, একজন শিল্পীর কাজ শিল্পচর্চা করা, রাজনৈতিক পরিচয়কে সামনে এনে জনপ্রিয়তা অর্জন করা নয়।

সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন ফেলেছে তাঁর করা একটি প্রশ্ন। মৌসুমী বলেন, “আমি অভিনয় করছি কেন? ভোটে টিকিট পাওয়ার জন্য?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কার্যত সেই সমস্ত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উদ্দেশেই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, যাঁরা অভিনয়ের জগৎ থেকে সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। তাঁর মতে, দর্শক একজন শিল্পীকে ভালোবাসেন তাঁর অভিনয়, প্রতিভা এবং পরিশ্রমের জন্য। সেই জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক মূলধন হিসেবে ব্যবহার করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। একজন শিল্পী কি শুধুমাত্র শিল্পী হিসেবেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারেন না? রাজনীতির মঞ্চে নামলেই কি তাঁর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণিত হয়? এই প্রশ্নগুলিই এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এখানেই থেমে থাকেননি অভিনেত্রী। তিনি সরাসরি অভিনেতা ও সাংসদ দেবের নাম উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনী প্রচারে দেবকে দেখতে যে বিপুল জনসমাগম হতো, তার মূল কারণ তিনি একজন জনপ্রিয় মেগাস্টার। মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল তাঁর তারকাখ্যাতিকে ঘিরে, রাজনৈতিক পরিচয়কে ঘিরে নয় বলেই মত মৌসুমীর। তাঁর বক্তব্য, জনপ্রিয় অভিনেতা হওয়া এবং সফল রাজনীতিবিদ হওয়া এক জিনিস নয়। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক মঞ্চে ওঠার মাধ্যমে কেউ সমাজসেবক হয়ে যান না। এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক এবং বিনোদন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘তারকা রাজনীতি’র সংস্কৃতিকেই চ্যালেঞ্জ জানালেন মৌসুমী ভট্টাচার্য?

আরও পড়ুনঃ ঘুম উড়ল দেবরাজ-অদিতির! প্রাক্তন বিধায়িকার পার্টি অফিসে হঠাৎ হানা পুলিশের! উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণে সরকারি ত্রাণসামগ্রী, পাশের কার্যালয়ে মিলল একাধিক ধারালো অ’স্ত্র!

নিজের বক্তব্যের পক্ষে উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি শিল্পীদের নাম। সুচিত্রা সেন, উত্তম কুমারসহ অতীতের বহু তারকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মৌসুমী বলেন, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজেদের নাম জড়াননি, অথচ তাঁদের জনপ্রিয়তা ও সম্মান আজও অমলিন। তাঁরা ভোট দিতেন, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শও নিশ্চয়ই ছিল, কিন্তু কখনও সেটাকে জনসমক্ষে এনে নিজেদের শিল্পীসত্তার সঙ্গে মিশিয়ে দেননি। পাশাপাশি তিনি বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার সম্পর্কেও মন্তব্য করে বলেন, আজ যারা ক্ষমতায় রয়েছে, তারাও যদি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আগামী নির্বাচনে তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে। অর্থাৎ কোনও রাজনৈতিক দলই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়, এই বার্তাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। আর সেই কারণেই তাঁর মন্তব্য এখন রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে বিনোদন জগত সবখানেই তুমুল চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page