“ওঁর সাহস ও অস’ভ্যতা বেড়ে গিয়েছিল দিনে দিনে, সব রেকর্ডিং আছে, কল্যাণদা মহিলাদের সঙ্গে…” “নিচু স্তরের লোকেদের ভাষায় গা’লাগা’লি, দিদিকে কমপ্লেন করতেই…” লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হতেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একের পর এক বি*স্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন শতাব্দী রায়!

বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার চলতি বাদল অধিবেশনে মহিলা সাংসদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে তাঁকে গোটা অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই মুখ খুলেছেন এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনি দাবি করেছেন, এমন আচরণ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে নতুন নয়। বহুদিন ধরেই তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে, বিশেষ করে মহিলা সাংসদদের সঙ্গে, অশালীন ব্যবহার করে আসছেন বলে অভিযোগ করেন শতাব্দী। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শতাব্দী রায় বলেন, “কল্যাণদা এটা সবসময় করেন। সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। মহিলাদের গালাগালি দেন। গালাগালি মানে গালাগালিই। একদম নিচু স্তরের লোকেরা যে গালাগালি করে থাকেন, সেই গালাগালি করেন। সেটা ভাবা যায় না যে কোনও ভদ্রলোকের মুখ থেকে বেরয়।” তিনি আরও জানান, এই ধরনের আচরণের বিষয়ে আগেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছিল। তাঁর কথায়, “এই নিয়ে আগে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হয়েছিল দিদিকে। তিনি বারবার ছেড়ে দাও, আর হবে না বলতেন। ওঁর সাহস বেড়ে গিয়েছে দিনে দিনে। উনি ভাবছেন, সবাই ওঁর চাকর-বাকর। অন্য কোনও দলের মহিলারাও ওঁকে সমর্থন করেন না। আমরা স্পিকারের কাছে অভিযোগ করেছি। স্পিকারকে ধন্যবাদ। এটাই ওঁর যোগ্যতা, এটাই পাওয়ার কথা।”

সাসপেনশনের দিনের ঘটনাও বিস্তারিত তুলে ধরেছেন শতাব্দী রায়। তাঁর দাবি, ওই দিনও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এক মহিলা সাংসদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছিলেন। তিনি বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময়ই অসভ্যতা করেন। ওঁর নামের সঙ্গে অসভ্য নামটা জড়িত। এত খারাপ ব্যবহার করেন সবার সঙ্গে। গালাগালি করেন সবাইকে। এটা তো সবাই শুনতে অভ্যস্ত নন বা শোনার কথাও নয়। বাড়ির লোকের সঙ্গে কী করেন, জানি না। কিন্তু ওঁর সহকর্মী হিসাবে দেখেছি, সবাইকে গালিগালাজ করেন। একসঙ্গে থাকলেও তাই করত। কংগ্রেস, বিজেপি, প্রত্যেকটা সাংসদ তিতিবিরক্ত। আজকেও মিতালীর সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করছিল। দেখছিল যে আমরা কতক্ষণ চুপ থাকি। তারপরে সবাই প্রতিবাদ করেন। তখন উনি স্বভাবসিদ্ধভাবে চেঁচাতে শুরু করেন।”

শতাব্দী আরও দাবি করেন, এই ধরনের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। তাঁর কথায়, “এমনও হয়েছিল যে সেন্ট্রাল হলে একবার উনি কাকলিদিকে এমন গালিগালাজ করেছিলেন, দিদিকে কমপ্লেন করার পর দিদি আমাদের সেন্ট্রাল হলে বসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন যে তোমরা বসো না, দলের মধ্যে ঝগড়া করছো, লোকে দেখছে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একই দলে থাকার সময়ও এই অভিযোগ উঠেছিল। তাই বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এই অভিযোগ আনা হয়েছে, এমনটা ঠিক নয় বলেই তাঁর দাবি।

এনসিপিআই সাংসদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু তাঁদের দল নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদরাও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণে বিরক্ত ছিলেন। তাঁর দাবি, একাধিক সাংসদ এই বিষয়ে অভিযোগ করেছেন এবং অনেকের কাছেই তাঁর দুর্ব্যবহারের রেকর্ডিংও রয়েছে। এমনকি যারা বাংলা ভাষা বোঝেন না, তাঁরাও ঘটনার পরে এগিয়ে এসে জানতে চেয়েছেন কী ঘটেছে। শতাব্দীর মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই আচরণের পর অবশেষে লোকসভার সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে দিয়েছে যে অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “শুভশ্রী সেরার সেরা স্ত্রী, শুভশ্রীকে ১০-এ ১০ দিলেও কম হবে, ওর জন্যই তো…” দাবি রাজ চক্রবর্তীর, বর্তমান সুখের সংসারে স্ত্রীর অবদান নিয়ে মুখ খুলতেই বিতর্ক! শুরুর কঠিন সময়ে পাশে থাকা প্রথম স্ত্রী শতাব্দী মিত্রের অবদান কি আজ বিস্মৃত? সাফল্য পেতেই ভুলেছেন সংগ্রামে পাশে থাকা নারীকে! ভিডিও ভাইরাল হতেই সমাজ মাধ্যমে ফের কটা’ক্ষবিদ্ধ পরিচালক!

এদিকে লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। একদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে শতাব্দী রায়ের বিস্ফোরক মন্তব্যও সমানভাবে শিরোনামে উঠে এসেছে। মহিলা সাংসদদের সঙ্গে আচরণ, সংসদের পরিবেশ এবং রাজনৈতিক সৌজন্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এখন এই বিতর্কে পরবর্তী সময়ে কী অবস্থান নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

You cannot copy content of this page