‘বিগ বস’-এর ঘর থেকে এবার বিদায় নিলেন অভিনেতা ও প্রভাবশালী সায়ক চক্রবর্তী। তৃতীয় সপ্তাহেই অ্যালেক্সজান্দ্রা টেলর এবং সায়কের যাত্রা শেষ হল এই জনপ্রিয় বাস্তবধর্মী অনুষ্ঠানে। তবে ঘর থেকে বেরোনোর সময় সায়কের মুখে হতাশার ছাপ খুব একটা দেখা যায়নি। হাসিমুখেই তিনি বিদায় নিয়েছেন ‘বিগ বস’-এর ঘর থেকে। এর আগে নিয়ম না মানার কারণে অনুষ্ঠানের সব সদস্যকেই মনোনীত করেছিলেন ‘বিগ বস’। সেই পর্বে প্রতি দু’জন সদস্যের মধ্যে একজনকে নিরাপদ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল প্রতিযোগীদেরই। কে নিরাপদ থাকবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাঁদের নিজেদের মধ্যেই নিতে বলা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতেই সায়ক ও নন্দিনীর মধ্যে আলোচনা হওয়ার আগেই নিজেকে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেন সায়ক। এরপর দর্শকদের ভোটের ফলেই তাঁকে ‘বিগ বস’-এর ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হয়। বিদায়ের পর নিজের খেলা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, হয়তো তিনি এই অনুষ্ঠানের খেলার ধরনটা ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারেননি। কারণ এখানে প্রত্যেককেই নিজের জন্য নিজেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং নিজের জায়গাটা তৈরি করতে হয়। তবে ঘরের নানা কাজে তিনি যথেষ্ট সাহায্য করেছেন বলেই জানিয়েছেন সায়ক। কোমরে চোট এবং ধুলোর অ্যালার্জির কারণে শুধু ঘর পরিষ্কারের কাজটি তিনি করতে পারেননি।
সায়কের বক্তব্য, ঘরের অন্যান্য প্রায় সব কাজেই তিনি নিজের মতো করে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি সেখানে থেকে রান্নারও অনেক কিছু শিখেছেন তিনি। সোনামণি এবং সৃজলার কাছ থেকেই রান্নার বেশ কিছু বিষয় শেখার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান অভিনেতা। ঘরের মানুষের সঙ্গে তাঁর কোনও বড় ধরনের ঝামেলাও হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। বরং এই অনুষ্ঠানে থাকার সময় অনেকেই তাঁকে বলেছেন, তাঁরা সায়কের আসল স্বভাবকে চিনতে পেরেছেন। বাইরে থেকে কাউকে দেখে যেমনটা মনে হয়, কাছ থেকে জানলে সেই মানুষটি অন্যরকমও হতে পারেন বলেই মনে করেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে সায়ক জানান, এই ঘরে থেকে সেই বিষয়টি তিনিও বুঝেছেন।
নিজের খেলার পাশাপাশি কোন প্রতিযোগীরা এখনও ভালো করছেন, সেই নিয়েও মত জানিয়েছেন সায়ক। তাঁর মতে, সৃজলা, নন্দিনী, রাজবীর এবং জিতু ভালো খেলছেন। তাঁরা হয়তো এই খেলায় আরও অনেকটা পথ এগিয়ে যেতে পারেন বলেই মনে করেন তিনি। তবে নিজের বিদায় নিয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় আক্ষেপ, খুব তাড়াতাড়িই তাঁকে খেলা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছে। বিশেষ করে নিজের জন্মদিনের পরিকল্পনাটি আর বাস্তবায়িত না হওয়ায় খারাপ লেগেছে তাঁর। সোনামণি তাঁর জন্মদিনে সুজি দিয়ে কেক বানানোর পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানান সায়ক। কিন্তু ঘর থেকে আগেই বেরিয়ে আসায় সেই পরিকল্পনা আর পূরণ হল না।
আরও পড়ুনঃ “ছায়াদেবীর মতো দক্ষ অভিনেত্রীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেভাবে ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে কাজ করেছিল তা ভোলার নয়!” বয়সে ছোট হলেও পর্দায় অতুলনীয়, একসঙ্গে ‘মৌচাক’ থেকে ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, জুটিতে কাঁপিয়েছিলেন গোটা বাংলা, আজ সেই নায়িকার চিরবিদায়ে ভেঙে পড়লেন রঞ্জিত মল্লিক! শো’কাহত বর্ষীয়ান অভিনেতা স্মৃতির পাতা হাতড়ে শোনালেন, মিঠু মুখার্জির সঙ্গে কাজের চোখে জল আনা অভিজ্ঞতা!
তবে অনুষ্ঠানে থাকার সময় মায়ের জন্যও তাঁর খুব মন খারাপ করত বলে জানিয়েছেন সায়ক। মা-বাবার বয়স বাড়ছে এবং এই সময়ে তাঁদের পাশে থাকতে চান তিনি। তাই ‘বিগ বস’-এর ঘর থেকে বেরিয়ে আসার মধ্যে একদিকে যেমন খেলার আক্ষেপ রয়েছে, অন্যদিকে পরিবারের কাছে থাকার ইচ্ছাটাও রয়েছে। নিজের বিদায়কে অবশ্য শুধুমাত্র হার হিসেবে দেখছেন না অভিনেতা। তাঁর মতে, খেলায় হার-জিত থাকবেই এবং সেটাই এই ধরনের প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক অংশ। সব মিলিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ‘বিগ বস’-এর ঘরে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বেরিয়ে এলেন সায়ক। খেলাটা পুরোপুরি বুঝে উঠতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও, ঘরের মানুষগুলির সঙ্গে তৈরি হওয়া স্মৃতি এবং পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাই এখন তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।






