বিনোদন জগতের শিল্পীদের জীবন বাইরে থেকে যতটা রঙিন ও ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে তার পিছনে লুকিয়ে থাকে বহু সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা এবং নানা ধরনের অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত মঞ্চে গান বা নাচ পরিবেশন করেন, তাঁদের অনেক সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় যা সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে পারেন না। কখনও আয়োজকদের অব্যবস্থা, কখনও দর্শকদের অসৌজন্যমূলক আচরণ, আবার কখনও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় শিল্পীদের। সম্প্রতি এমনই কিছু অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলিভাবে শেয়ার করলেন জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত শিল্পী পৌষালী ব্যানার্জী।
পশ্চিমবঙ্গের লোকসঙ্গীত জগতের অন্যতম পরিচিত নাম পৌষালী ব্যানার্জী। শান্তিনিকেতন থেকে উঠে আসা এই শিল্পী আজ বাংলা গানের জগতে নিজের একটি আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। মাত্র চার বছর বয়সে মায়ের হাত ধরে তাঁর গানের যাত্রা শুরু হয়। পরে বাংলা লোকগানের কিংবদন্তি কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের সান্নিধ্য তাঁর শিল্পীজীবনে নতুন দিশা এনে দেয়। একসময়ের সাধারণ গৃহবধূ থেকে আজকের জনপ্রিয় শিল্পী হয়ে ওঠার পিছনে রয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের গল্প। লোকগানের পাশাপাশি বর্তমানে তিনি সিনেমার গানও করছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের নানা অজানা অধ্যায় তুলে ধরেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে পৌষালী জানান, অনেকেই তাঁকে প্রথমে ‘মাচাশিল্পী’ হিসেবেই চিনতেন। কিন্তু সেই পরিচয়ের গণ্ডি ভেঙে নিজেকে বারবার নতুনভাবে তৈরি করেছেন তিনি। নিজের চেষ্টাতেই আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন বলে জানান গায়িকা। শুধু গান নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি অত্যন্ত সৌখিন। নিজের বাড়ির সাজসজ্জার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কোনও ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের সাহায্য ছাড়াই নিজের পছন্দ ও পরিকল্পনায় বাড়ির প্রতিটি অংশ সাজিয়েছেন। তাঁর মতে, শিল্পচর্চার পাশাপাশি সৃজনশীলতা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সময়ে বিনোদন জগতে ‘থ্রেট কালচার’ ও ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেই বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় পৌষালীকে। বিশেষ করে অভিযোগ ওঠে, অতীতে সরকারের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করলে অনেক শিল্পীকেই সরকারি অনুষ্ঠান বা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মঞ্চে সুযোগ দেওয়া হতো না। এই প্রসঙ্গে গায়িকা জানান, তিনি কখনও সরাসরি কোনও হুমকির মুখে পড়েননি। বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতে গিয়ে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হলেও সেগুলি নিজেই সামলে নিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে সরকারি অনুষ্ঠান থেকে তাঁর খুব একটা ডাক আসত না। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে তিনি কখনও প্রকাশ্যে কোনও অভিযোগ করেননি।
আরও পড়ুনঃ “আমি আর চুপ থাকব না, এবার সব বলব!” “দেবলীনা আমার গায়ে হাত তুলেছে…দেবলীনার মা ব্ল্যাক’মেইল করতেন…৭৮ টা ওষুধের ঘটনাটা…” ৬ মাস পর মুখ খুললেন পাইলট প্রবাহ নন্দী! হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন, দেবলীনা নন্দী ও মায়ের! প্রকাশ্যে আনলেন একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য!
তবে সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ ছিল তাঁর মঞ্চজীবনের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা। পৌষালী জানান, এমনও সময় গেছে যখন তিনি টানা দু’ঘণ্টা গান গাওয়ার পরেও কিছু মদ্যপ ব্যক্তি এসে তাঁকে আরও গান গাওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন। শুধু একটি ঘটনা নয়, বহু রাতের অনুষ্ঠানে তাঁকে এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই মদ্যপ অবস্থায় থাকা দর্শক বা আয়োজকদের অসৌজন্যমূলক আচরণ সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। তবুও তিনি সেই খারাপ স্মৃতিগুলো আঁকড়ে না ধরে এগিয়ে যাওয়ার পথই বেছে নিয়েছেন। তাঁর কথায়, কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা থাকলেও অসংখ্য মঞ্চ থেকে তিনি যে ভালোবাসা ও সম্মান পেয়েছেন, সেটাই আজও তাঁর চলার শক্তি। সেই ভালোবাসাকেই মনে রেখে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে চলেছেন জনপ্রিয় এই লোকসঙ্গীত শিল্পী।






