“হঠাৎ পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে নেয়, ভিডিও করে!” ভালোবাসা থাকুক, কিন্তু ভদ্রতাও থাকুক! তারকা মানেই কি ব্যক্তিগত পরিসর নেই? সোশ্যাল মিডিয়ার যুগের এই অভ্যাস নিয়ে বি’স্ফোরক সোহিনী সেনগুপ্ত! সংস্কৃতির পক্ষেই সওয়াল, কী স্পষ্ট বার্তা অভিনেত্রীর?

বাংলা থিয়েটার এবং টেলিভিশনের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী ‘সোহিনী সেনগুপ্ত’ (Sohini Sengupta) বরাবরই নিজের অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং স্পষ্ট মতামতের জন্য আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তিনি কখনও অপ্রয়োজনীয় প্রচারের পথে হাঁটেননি। বরং নিজের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়েই এগিয়ে গিয়েছেন। সম্প্রতি মাতৃত্ব নিয়ে তাঁর ভিন্নধর্মী ভাবনা যেমন আলোচনায় এসেছিল, তেমনই এবার তিনি কথা বললেন এমন একটি বিষয় নিয়ে, যা বর্তমান সময়ে প্রায় সব শিল্পীকেই কমবেশি অস্বস্তিতে ফেলে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ব্যক্তিগত পরিসর কতটা সম্মান পাওয়া উচিত, সেই প্রসঙ্গেই নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী।

এক সময় বড়পর্দা বা ছোটপর্দার শিল্পীদের নিয়ে মানুষের কৌতূহল ছিল অন্যরকম। দর্শকরা তাঁদের মূলত পর্দাতেই দেখতেন, ফলে শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন অনেকটাই আড়ালে থাকত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া এবং প্রতিদিনের নানান আপডেটের কারণে শিল্পীদের জীবনের অনেকটাই সাধারণ মানুষের সামনে চলে আসে। ফলে অনেক সময় এমন ঘটনাও ঘটে, যেখানে কোনও শিল্পীর ব্যক্তিগত মুহূর্তকে গুরুত্ব না দিয়েই হঠাৎ ছবি তুলে নেওয়া বা ভিডিও করা হয়। এই অভ্যাস নিয়েই নিজের অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন সোহিনী।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হঠাৎ পাশে দাঁড়ানো একজনকে বিনা অনুমতিতে ক্যামেরাবন্দি করে নিলাম, এটা আমার একেবারে পছন্দ না।” তাঁর মতে, কোনও মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা অত্যন্ত জরুরি। কেউ পরিচিত মুখ হলেই যে তাঁকে যে কোনও সময় ক্যামেরায় ধরে ফেলা যায়, এমন ভাবনা তিনি সমর্থন করেন না। শিল্পীদেরও ব্যক্তিগত জীবন রয়েছে, সেই জায়গাটুকু রক্ষা করা দর্শকদের দায়িত্ব বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সম্মান ও সৌজন্যের গুরুত্ব।

তবে সব দর্শকের আচরণ যে একই রকম নয়, সেটাও উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, অনেকেই ছবি তোলার আগে ভদ্রভাবে অনুমতি চান। সেই ব্যবহার তাঁর খুব ভালো লাগে। তিনি বলেন, “বরং অনেকেই খুব সুন্দর ভাবে জিজ্ঞেস করেন আগে, এইটার মধ্যে একটা আদর আছে, একটা আন্তরিকতা আছে।” অর্থাৎ, ছবি তুলতে আপত্তি নয়, আপত্তি রয়েছে অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করার মানসিকতায়। একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের ভদ্র ব্যবহারই তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান।

আরও পড়ুনঃ ২৪ বছর পর ফের একসঙ্গে ‘সাথী’ জুটি! নস্টালজিয়া উস্কে ফের একসঙ্গে হিট মেশিন জিৎ-প্রিয়াঙ্কা! আবার কী একসঙ্গে জুটি বাঁধছেন তাঁরা?

সোহিনী সেনগুপ্তর এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের হাতে ছবি বা ভিডিও তোলার সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে অন্যের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করার দায়িত্বও। শিল্পীরা দর্শকদের ভালোবাসাতেই জনপ্রিয় হন, কিন্তু সেই ভালোবাসার প্রকাশ যদি সৌজন্য ও সম্মানের মাধ্যমে হয়, তাহলে সেটাই সম্পর্ককে আরও সুন্দর করে তোলে। অভিনেত্রীর এই মন্তব্য তাই শুধুমাত্র শিল্পীদের জন্য নয়, বরং বর্তমান সময়ের সামাজিক আচরণ নিয়েও নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে।

You cannot copy content of this page