ছাত্র আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি কুরুচিকর কার্টুন আঁকা পোস্টার প্রকাশ্যে প্রদর্শনের অভিযোগকে ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। গত ২৪ জুলাই কলকাতায় নিটের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে হওয়া ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সেই সময় তাঁর হাতে থাকা একটি পোস্টার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর একটি আপত্তিকর ছবি ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি বিধাননগর সাইবার অপরাধ থানা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন থানাতেও শ্রীলেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে।
ঘটনার পর অভিনেত্রী নিজেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া একাধিক মামলা ও অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করেন। বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বিষয়টি নিয়ে আদালতের অবস্থান স্পষ্ট করেন। আদালত জানায়, শ্রীলেখার হাতে থাকা পোস্টারটি অত্যন্ত কুরুচিকর এবং বিষয়টি আদালতকেও স্তম্ভিত করেছে। এমনকি বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এটি নিছক কোনও সাধারণ কার্টুন নয় এবং এই ধরনের কাজ করা উচিত হয়নি। তবে একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, পোস্টারটি যতই আপত্তিকর হোক না কেন, শুধুমাত্র এই ঘটনার ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৩(২) ধারা প্রয়োগ করা যায় না। অর্থাৎ ওই ধারায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।
শ্রীলেখার হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি জানান, অভিনেত্রী তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং ইতিমধ্যেই তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, শ্রীলেখার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা কোনও অপরাধের আওতায় পড়ে না। আদালতে অবশ্য প্রশ্ন ওঠে, কেন এমন একটি পোস্টার প্রকাশ্যে আনা হল। বিচারপতির বক্তব্যে পোস্টারটির ভাষা ও ধরন নিয়ে স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ পায়। তবে আদালত একই সঙ্গে জানায়, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলতে পারে। অর্থাৎ শ্রীলেখাকে পুরোপুরি মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি, কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া যাবে না।
এদিন কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আদালতের অনুমতি ছাড়া শ্রীলেখার বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর জন্য অভিনেত্রীকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে হাজির হতে হলে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে সমন দিতে হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শ্রীলেখা তদন্তে সহযোগিতা না করলে এই সুরক্ষা তুলে নেওয়ার আবেদন করা যেতে পারে বলেও আদালত জানিয়েছে। এর আগে অভিযোগকারীদের তরফে অভিনেত্রীকে গ্রেফতারের দাবিও উঠেছিল। কেয়া ঘোষের অভিযোগ ছিল, প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই ওই ধরনের পোস্টার প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “মাত্র ৫ হাজার থেকে এক লাফে ১ লক্ষ!” সুচিত্রা সেনের সেই এক ফোনে কীভাবে রাতারাতি বদলে গেল উত্তম কুমারের পারিশ্রমিকের অঙ্ক? ১৯৫৮ সালে ‘ইন্দ্রাণী’-র জন্য এমন কী করেছিলেন মহানায়িকার, যা বদলে দিয়েছিল মহানায়কের পরিচিতি?
এই ঘটনার পর শ্রীলেখার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় অভিযোগ জমা পড়ার বিষয়টিও সামনে আসে। আনন্দপুর থানায় কেয়া ঘোষের অভিযোগের পাশাপাশি বিধাননগর সাইবার অপরাধ থানা এবং অন্যান্য জায়গাতেও অভিযোগের খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার বিষয়টি নিয়েই অভিনেত্রী হাইকোর্টে যান। তাঁর দাবি ছিল, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারবার মামলা ও নোটিসের কারণে তাঁকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশে আপাতত সেই পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি পেলেন অভিনেত্রী। তবে তদন্ত চলবে এবং ২৪ ডিসেম্বরের পর মামলাটির পরবর্তী গতিপথ কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।






