“বাঙালি যেভাবে মাথায় তুলেছে, সেভাবেই নামিয়ে দিতেও সময় লাগবে না!” “নন্দিনীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করুন, এভাবে চললে ট্রফি ও জনপ্রিয়তা হারাবেন!” “নন্দিনীর জন্যই বারবার সবার সঙ্গে ঝামেলা, এইভাবে নিজের খেলাটা নষ্ট করছেন কেন?” যা করেছে তারপরও ঘনি*ষ্ঠতা কেন? দূরত্ব রাখলেই ভালো, বাথরুমে চু*মুর দৃশ্যের পর রাজবীরকে সতর্ক করলেন দর্শকরা!

জমে উঠেছে খেলা, ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে রাজবীর দে ও নন্দিনী দত্তের সম্পর্ক নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে। বিচ্ছেদের জল্পনার মাঝেই দুজনকে আরও ঘনিষ্ঠ হতে দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি বাথরুমের সামনে রাজবীরকে জড়িয়ে ধরেন নন্দিনী। এরপর তাঁর গালে ও ঠোঁটে চুমুও দেন তিনি। নন্দিনীর এমন আচরণে রাজবীরকে বেশ খুশি দেখায়। আনন্দে নানা অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় তাঁকে, মুখ দিয়েও নানা শব্দ করেন তিনি। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে দর্শকমহলে। রাজবীর ও নন্দিনীর ঘনিষ্ঠতা অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে একই বিছানায় সময় কাটানো থেকে শুরু করে দীর্ঘক্ষণ নিজেদের মধ্যে কথা বলতে দেখা গিয়েছে দুজনকে।

কখনও মান অভিমান, কখনও ঝগড়া, আবার কখনও ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত, সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। একসময় নন্দিনী রাজবীরকে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, তিনি যেন তাঁকে স্পর্শ না করেন। পরে অবশ্য সেই দূরত্ব অনেকটাই কমে যায় এবং দুজনকে ফের কাছাকাছি দেখা যায়। এমনকি তাঁদের সম্পর্ক বন্ধুত্ব, ভালোবাসা নাকি খেলার কৌশল, তা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে নানা মত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতার পর নন্দিনীকে নিয়ে রাজবীরের সিদ্ধান্ত নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। এর মধ্যেই দর্শকদের একাংশ নন্দিনীর আগের কিছু আচরণের কথাও তুলে ধরছেন। তাঁদের বক্তব্য, সৃজলার সঙ্গে যা ঘটেছিল, তা এত সহজে ভুলে যাওয়ার মতো নয়। সৃজলার ব্যক্তিগত চিঠি সবার সামনে ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও দর্শকদের মনে রয়েছে।

শুধু তাই নয়, সৃজলার দুধে অ্যালার্জি রয়েছে জেনেও তাঁকে দুধ খাওয়ানোর পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। দর্শকদের একাংশের মতে, এমন মানসিকতার একজন মানুষের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রাজবীর আসলে নিজেরই ক্ষতি করছেন। তাঁদের দাবি, নন্দিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে রাজবীরের নিজের খেলার দিকটিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই কারণেই সম্পর্কের বাইরে থেকে খেলাটাকে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন দর্শকদের একাংশ। দর্শকদের একাংশ আরও বলছেন, বাঙালি দর্শক যেভাবে রাজবীরকে মাথায় তুলেছেন, সেভাবেই প্রয়োজন হলে তাঁকে নিচেও নামিয়ে দিতে পারেন। তাঁদের মতে, রাজবীর যদি দ্রুত নন্দিনীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি না করেন, তাহলে তাঁর জনপ্রিয়তায় প্রভাব পড়তে পারে।

এই মুহূর্তে রাজবীরের ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে তাঁর খেলার দিকে মন দেওয়া বেশি জরুরি বলেই মনে করছেন তাঁরা। দর্শকদের মধ্যে এমনও মত রয়েছে যে নন্দিনীর থেকে দূরে থাকলে রাজবীর আরও ভালোভাবে খেলতে পারবেন। তাঁদের বক্তব্য, নন্দিনীকে ঘিরে আবেগ এবং ঝামেলা থেকে বেরিয়ে এলে রাজবীর নিজের কৌশলের দিকে বেশি মন দিতে পারবেন। তাহলে তাঁর সামনে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। ফলে নন্দিনীর সঙ্গে রাজবীরের সম্পর্ক এখন শুধু ব্যক্তিগত সমীকরণ নয়, তাঁর খেলার উপরও প্রভাব ফেলছে বলে আলোচনা চলছে। এদিকে দর্শকদের একাংশের আরও দাবি, ‘বিগ বস’-এর ঘরে যে ঝগড়া এবং অশান্তিগুলি বারবার তৈরি হচ্ছে, তার অনেকগুলির সঙ্গেই কোনও না কোনওভাবে নন্দিনীর নাম জড়িয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ “বাবা আর নেই, মাত্র ১৫ দিনেই সবটা শেষ হয়ে গেল…” পিতৃহারা হয়ে শো’কস্তব্ধ শতাব্দী রায়! কোনও পুরনো অ’সুখ ছিল না কিন্তু হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি হন! যাঁর হাত ধরে জীবনের কঠিন অধ্যায় পার, সেই আজ নেই! কী হয়েছিল অভিনেত্রীর বাবা শৈলেন রায়ের?

সেই কারণেই রাজবীরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে একইসঙ্গে আগ্রহ এবং সংশয় দুটোই রয়েছে। একদিকে তাঁদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত দর্শকদের নজর কাড়ছে, অন্যদিকে নন্দিনীর আগের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, রাজবীর যদি এই সমীকরণ থেকে নিজেকে কিছুটা সরিয়ে রাখতে পারেন, তাহলে তাঁর খেলা আরও পরিষ্কারভাবে সামনে আসবে। তাঁদের মতে, রাজবীরের মধ্যে ভালো খেলার সম্ভাবনা রয়েছে এবং নন্দিনীর সঙ্গে দূরত্ব রাখলে সেই সুযোগ আরও তৈরি হতে পারে। এখন দেখার, ঘনিষ্ঠতার এই সম্পর্কই কি রাজবীরের খেলাকে প্রভাবিত করবে, নাকি তিনি ব্যক্তিগত সমীকরণ থেকে বেরিয়ে নিজের খেলাতেই মন দেবেন। তবে সাম্প্রতিক চুমুর ঘটনাকে ঘিরে রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্ক যে ফের আলোচনার কেন্দ্রে, তা স্পষ্ট।

You cannot copy content of this page