“শমীক ভট্টাচার্যকে ভীষণই ভালো লাগে…মানুষেরা এবার নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন” তৃণমূলী কাঞ্চনের প্রাক্তন স্ত্রীর মুখে বিজেপি স্তুতি! তবে কী এবার রাজনীতিতে নাম লেখাতে চলেছেন পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়?

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর বদলেছে নানা সমীকরণ, আর সেই আবহেই টলিপাড়ার শিল্পীদের বক্তব্যও উঠে আসছে আলোচনায়। সম্প্রতি ইমপা-র সভাপতি পদকে ঘিরে টলিউডে যে টানাপোড়েন দেখা গিয়েছে, তা নিয়েও সরগরম ছিল শিল্পীমহল। এরই মধ্যে অভিনেত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন সরকারকে নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করেছেন। যদিও তিনি এখনই উচ্ছ্বসিত প্রশংসার পথে হাঁটতে চান না। পিঙ্কির কথায়, “আমি সবটা লক্ষ করছি। খুব বেশি আশা করে, আশাহত হতে চাই না। তবে ওঁরা যা করছেন, খুব দ্রুত করছেন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শিল্পীমহলের মনোভাব নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন পিঙ্কির বক্তব্য আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এবং উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে একাধিক পোস্টও করেছেন পিঙ্কি। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতে কি তিনি সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামতে চলেছেন? এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজনীতির জটিল সমীকরণ তিনি খুব একটা বোঝেন না। তাঁর মতে, তিনি মূলত একজন শিল্পী এবং সেই পরিচয়েই থাকতে স্বচ্ছন্দ। তবে সাধারণ মানুষের মতো তিনিও চারপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ভাল এবং মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাই কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য না হয়েও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজের মতামত প্রকাশ করতে দ্বিধা করছেন না।

কথোপকথনের সময় সোনারপুরের বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের কাজেরও প্রশংসা করেন পিঙ্কি। তিনি বলেন, “ফেসবুকেই দেখলাম, রূপাদি রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এই গরমে তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছেন, সেটা তো প্রশংসনীয়।” শুধু রূপা গঙ্গোপাধ্যায় নন, বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য সম্পর্কেও নিজের ভাল লাগার কথা খোলাখুলি জানান অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “শমীক ভট্টাচার্যকে ভীষণই ভাল লাগে। ওঁর মতো শব্দচয়ন বহুদিন কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে শুনি।” সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতী ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে শমীকের বক্তব্যও তিনি মন দিয়ে শুনেছেন বলে জানান। পিঙ্কির দাবি, “এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি যে, ফোনটা স্ক্রল করে চলে যাই।”

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও আশাবাদী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিশ্বাস, আগামী দিনে এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে রাতারাতি সব বদলে যাবে, এমন প্রত্যাশা তিনি রাখেন না। বরং যা কিছু ভাল ছিল, সেগুলিকে আবার ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে বলেই মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে আগের সরকারের সময় শিল্পীদের কাজ না পাওয়া এবং অনেককে ‘নিষিদ্ধ’ করে রাখার যে অভিযোগ উঠেছিল, সেই প্রসঙ্গও উঠে আসে আলোচনায়। পিঙ্কি জানান, তাঁর সঙ্গে সরাসরি তেমন কিছু না ঘটলেও অনেক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকেও। তাঁর কথায়, অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং অনেক বিষয় নীরবে সহ্য করতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি অন্যভাবে দেখছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘তবু মনে রেখো’ থেকে বাস্তবের প্রেম, হঠাৎ কেন আলাদা হয়ে গেলেন ফারহান ইমরোজ ও প্রত্যুষা পাল? অব’সাদে ভুগে হারিয়ে গেলেন অভিনেতা, পর্দায় অনিয়মিত অভিনেত্রী! ধর্মের বাধা নাকি অন্য কোনও কারণেই ভেঙে যায় অন্যতম জনপ্রিয় জুটির সম্পর্ক?

বর্তমান সময়ে নিরপেক্ষ মানুষদের মানসিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন অভিনেত্রী। পিঙ্কির বক্তব্য, “নিরপেক্ষ মানুষেরা এ বার নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন। এটা আগে মিস্ করতাম। এরকম মানুষের সমাজে প্রয়োজন রয়েছে। তাঁরা এখন নিশ্চিন্ত বোধ করছেন।” ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গেও প্রশ্ন ওঠে। পিঙ্কির প্রাক্তন স্বামী কাঞ্চন মল্লিক একসময় তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন। তবে সেই বিষয় নিয়ে এখন আর কোনও মন্তব্য করতে চান না অভিনেত্রী। অন্যদিকে, ভবিষ্যতে বিজেপির হাত ধরে তাঁকে রাজনীতিতে দেখা যেতে পারে কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন তিনি। পিঙ্কির সাফ বক্তব্য, “মানুষের জীবন অনিশ্চিত। এখনই তো তেমন কোনও পরিকল্পনা নেই। কারণ, আমি ওই জগতের মানুষ নই। কিন্তু এই সরকার যা যা ভাবছে, তা নিয়ে আশাবাদী।” ফলে আপাতত রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা না থাকলেও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়েও দেননি তিনি।

You cannot copy content of this page