“চাকরি ছেড়ে জিমে কাজ…ভোর থেকে রাত অবধি অডিশনে দৌড়!” একদা স্বপ্ন পূরণের নেশায় মুম্বইয়ে একা লড়াই করেছেন সুমন দে! কতটা ত্যাগ, অপমান আর কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে? অবশেষে অতীতের সেই অজানা সংগ্রামের গল্প সামনে আনলেন অভিনেতা!

বিনোদন জগতের আলো ঝলমলে দুনিয়া বাইরে থেকে যতটা আকর্ষণীয় মনে হয়, ভেতরে ঢুকলে ততটাই কঠিন বাস্তব চোখে পড়ে। একজন শিল্পীর সাফল্যের পিছনে থাকে অগণিত না বলা গল্প, নিরন্তর পরিশ্রম আর মানসিক লড়াই। অনেকেই স্বপ্ন নিয়ে এই জগতে পা রাখেন, কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, তা খুব কম মানুষই জানেন। ঠিক তেমনই এক গল্প লুকিয়ে আছে অভিনেতা সুমন দে-র জীবনে।

বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ সুমন দে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। ‘নকশি কাঁথা’, ‘বধূবরণ’, ‘মিঠিঝোরা’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মনে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর কেরিয়ার শুরু হয় সাহারা ওয়ানের ‘মাতা কি চৌকি’ দিয়ে, তারপর সানন্দা টিভি, স্টার জলসা ও জি বাংলার মতো বড় প্ল্যাটফর্মে কাজ করে তিনি টলিউডের টেলিভিশন জগতে নিজের জায়গা পাকা করেন।

তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। কলেজের পর থেকেই সুমনের জীবনে শুরু হয় এক কঠিন লড়াই। স্বপ্ন ছিল অভিনয় জগতে নিজের পরিচয় তৈরি করা, কিন্তু সেই পথে এগোতে গিয়ে তাঁকে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়। প্রথমে বেঙ্গালুরুতে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর তিনি মুম্বইয়ে যান সুযোগের খোঁজে। কিন্তু সেখানে গিয়ে সহজে কাজ মেলেনি, বরং শুরু হয় টিকে থাকার লড়াই।

মুম্বইয়ের মতো ব্যয়বহুল শহরে টিকে থাকতে সুমন দে বাধ্য হয়ে জিম ট্রেনারের কাজ শুরু করেন। ভোরবেলা উঠে জিম খুলতেন, সারাদিন ট্রেনিং দিতেন, আর ফাঁকে ফাঁকে অডিশন দিতে যেতেন। এই কঠিন রুটিনের মধ্যেই তিনি নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। পরিবারের আর্থিক চাপ, বাবার অবসর নেওয়ার চিন্তা সবকিছু মিলিয়ে তখন তাঁর উপর দায়িত্বও ছিল অনেক। তবুও তিনি হার মানেননি, বরং প্রতিদিন আরও বেশি করে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন।

আরও পড়ুনঃ শুরুতেই বিপত্তি! প্রথম দিনেই বন্ধ, প্রয়াত অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবনভিত্তিক ছবি ‘গুনগুন করে মহুয়া’র শুটিং! সেটে হঠাৎ উত্তেজনা, পুলিশ ডাকার মতো পরিস্থিতি! তোলপাড় টলিউড! নেপথ্যে কারণ কী?

বর্তমানে তার নাম, বাড়ি, গাড়ি হয়েছে। আজকের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সেই কঠিন দিনগুলোর স্মৃতি। সুমন দে নিজেই মনে করেন, বড় স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি জীবনকে সহজ রাখা খুব জরুরি। নিজের চেষ্টায় বাড়ি ও গাড়ি কেনার স্বপ্ন তিনি পূরণ করেছেন, কিন্তু কখনও নিজের শিকড় ভুলে যাননি। তাঁর এই যাত্রা প্রমাণ করে, সত্যিকারের পরিশ্রম আর বিশ্বাস থাকলে স্বপ্ন একদিন বাস্তব হয়ই।

You cannot copy content of this page