স্বরূপ বিশ্বাসের ব্যবহৃত চশমার ভেতরে লুকোনো থাকত ক্যামেরা! তো’লাবাজি এবং যৌ’ন হেন’স্থার পর, স্বরূপকে ঘিরে আদালতে নতুন করে বিস্ফোরক অভিযোগ! কী কারণে এমনটা? সামনে এল আরও বড় রহস্য?

টলিপাড়ার প্রভাবশালী নাম স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে বিতর্কের পারদ ক্রমশ চড়ছে। তোলাবাজি এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগের পর এবার মামলায় যুক্ত হয়েছে আরও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি। আদালতে অভিযোগ তোলা হয়েছে, স্বরূপ এমন একটি বিশেষ চশমা ব্যবহার করতেন যার মধ্যে ক্যামেরা বসানো ছিল। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযোগের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মামলার নানা অজানা দিকও সামনে আসছে। নিউ আলিপুর থানায় দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে এই বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। ফলে গোটা ঘটনাকে ঘিরে কৌতূহল আরও বেড়েছে।

তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে, টলিউডে কাজের সুযোগ পাওয়া কিংবা কোনও প্রজেক্টে টেকনিশিয়ানদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে স্বরূপ বিশ্বাসের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ। সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল দাবি করেন, বিভিন্ন পরিচালকের অভিযোগ অনুযায়ী কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়া হত। এমনকি একাধিক ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, টেকনিশিয়ানস স্টুডিওর ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি হিসেবে নিজের প্রভাব ব্যবহার করেই এই ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই অভিযোগের কথা ইন্ডাস্ট্রির একাংশের মধ্যে ঘুরে বেড়ালেও এখন তা আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আওতায় এসেছে। সেই কারণেই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

শুনানির সময় আরও একটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আদালতে তোলা হয়। তদন্তকারী পক্ষের দাবি, কোভিডের সময় ফেডারেশনের তরফে প্রায় ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থের মধ্যে ৭৫ লক্ষ টাকার স্পষ্ট হিসেব এখনও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ফেডারেশনের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতে জানানো হয়, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগও রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সেই অস্ত্র এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে দু’জন ব্যক্তির গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং সেখানে অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকে গত ৪ জুন তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এরপর অভিযোগের তালিকা আরও দীর্ঘ হয়েছে। গত ১৪ জুন এক মহিলা নিউ আলিপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে তোলাবাজি ও যৌন হয়রানির অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারিণী, যিনি টলিউডে অভিনেত্রী হিসেবেও কাজ করেন, দাবি করেছেন যে তিনি নিউ আলিপুর এলাকায় একটি স্ট্রিট ফুড কার্ট চালু করতে চেয়েছিলেন। সেই ব্যবসার অনুমতি ও সহযোগিতার বিনিময়ে তাঁর কাছে ৮০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পাশাপাশি সুরুচি সংঘের দুর্গাপুজোর জন্য ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা চাঁদাও চাওয়া হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগকারিণীর আরও দাবি, পরবর্তীকালে তাঁকে সুরুচি সংঘের ক্লাবে একা দেখা করার জন্য ডাকা হয়েছিল। এই অভিযোগ সামনে আসার পর রিজেন্ট পার্ক থানার তোলাবাজির মামলাতেও স্বরূপ বিশ্বাসকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়েছে। একইসঙ্গে আদালতে আরও একটি ১০ লক্ষ টাকার তোলাবাজির অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগকারীর আইনজীবী দাবি করেন, কোভিড তহবিলের বিপুল অর্থের সম্পূর্ণ হিসেব এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফেডারেশনের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ৭৫ লক্ষ টাকার কোনও স্পষ্ট আর্থিক নথি তাঁর হাতে নেই। এছাড়াও ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্তে বিভিন্ন স্তরে উঠে এসেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ টলিপাড়ায় চাঞ্চল্য! প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উঠল চু’রির অভিযোগ! ‘বিবেকের কাছে একবারও মনে হল না?’ খোলা চিঠিতে বি’স্ফোরক পরিচালক সুমন ঘোষ! ঠিক কী ঘটেছে?

তবে আদালতে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে ক্যামেরাযুক্ত চশমার অভিযোগ। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, মহিলাদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত ও ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছে। একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বরূপ তাঁর অবস্থানকে কাজে লাগাতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের মধ্যেও আতঙ্কের পরিবেশ ছিল বলে আদালতে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন স্বরূপ বিশ্বাসের আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগই আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আলিপুরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালত স্বরূপ বিশ্বাসকে আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এখন নজর তদন্তের দিকে, কারণ আদালতে ওঠা এই বিস্ফোরক অভিযোগগুলির সত্যতা শেষ পর্যন্ত কতটা প্রমাণিত হয়, সেটাই দেখার।

You cannot copy content of this page