বিনোদন জগতে সিনেমার ধরন নিয়ে বরাবরই নানা মত রয়েছে। কারও কাছে সিনেমা মানে বাস্তব জীবনের গল্প, আবার কারও কাছে সিনেমা হল এমন এক জগৎ, যা দর্শককে কিছুক্ষণের জন্য বাস্তবতা থেকে দূরে নিয়ে স্বপ্ন দেখায়। বিশেষ করে বাণিজ্যিক বা মেইনস্ট্রিম সিনেমা নিয়ে এই বিতর্ক আরও বেশি। কারণ এই ধরনের ছবিতে গল্পের পাশাপাশি থাকে তারকা আকর্ষণ, গান, অ্যাকশন, আবেগ, চমক এবং দর্শককে বিনোদন দেওয়ার নানা উপাদান। ফলে একটি ইন্ডাস্ট্রিকে সচল রাখতে কমার্শিয়াল সিনেমার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়।
এই প্রসঙ্গেই নিজের মতামত স্পষ্ট করলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জিৎ মদনানি। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা বাণিজ্যিক ছবির অন্যতম পরিচিত মুখ তিনি। তাঁর ছবি মুক্তি পেলেই অনুরাগীদের মধ্যে তৈরি হয় আলাদা উন্মাদনা। মূলত কমার্শিয়াল ছবির মাধ্যমেই নিজের জায়গা তৈরি করেছেন অভিনেতা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলা সিনেমার ধরন, ইন্ডাস্ট্রিতে বাণিজ্যিক ছবির গুরুত্ব এবং সিনেমা সম্পর্কে তাঁর ব্যক্তিগত ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন জিৎ।
সাক্ষাৎকারে জিৎ নাম না করে এক পরিচালকের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। সেই প্রসঙ্গে বলা হয়েছিল, স্বপন সাহা হিট সিনেমা দিলে ঋতুপর্ণ ঘোষের ঘর চলত। এই উদাহরণের মাধ্যমে জিৎ বোঝাতে চেয়েছেন, কমার্শিয়াল এবং মেইনস্ট্রিম সিনেমা শুধু দর্শকদের বিনোদন দেয় না, গোটা ইন্ডাস্ট্রির অর্থনৈতিক ভিতকেও শক্ত করে। তাঁর মতে, পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গাতেই মেইনস্ট্রিম সিনেমাকে ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে ছবি তৈরির সময় অনেক সময় সেই জায়গাটি পিছনের সারিতে চলে যায়। নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করে অভিনেতা জানান, তিনি এই ভাবনার পক্ষেই রয়েছেন।
সিনেমা বলতে তিনি ঠিক কী বোঝেন, সেটিও সাক্ষাৎকারে ব্যাখ্যা করেছেন জিৎ। তাঁর কথায়, “রোজ যা দেখি, তা সিনেমা নয়। সিনেমা মানে এক বিশেষ আকর্ষণ, বিশেষ উত্তেজনা। জীবনের থেকে বড় কিছু।” অর্থাৎ তাঁর কাছে সিনেমা শুধুমাত্র দৈনন্দিন জীবনের প্রতিচ্ছবি নয়। বরং এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা দর্শককে কিছুক্ষণের জন্য বাস্তবতার বাইরে নিয়ে গিয়ে স্বপ্নের জগতে পৌঁছে দেবে। আর সেই কারণেই বাণিজ্যিক ছবির চমক, বিনোদন এবং তারকা আকর্ষণকে তিনি সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করেন। জিৎ আরও জানান, বাণিজ্যিক ছবি ছাড়া কোনও ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।
আরও পড়ুনঃ ক্যা*ন্সারের পাশাপাশি কিডনিও অকেজো, মহানায়কের সঙ্গে পর্দা ভাগ করা অভিনেত্রীর শেষ জীবন কেটেছিল চরম ক’ষ্টে! মায়ের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে সন্তানরা, হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া পাশে দাঁড়ায়নি ইন্ডাস্ট্রিরও! আজ প্রথম মৃ’ত্যুবার্ষিকীতে বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়কে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি! জানুন, তাঁর জীবনের শুরু থেকে অন্তিম দিন পর্যন্ত সবটা!
অনেকেই মুখে এই কথা বললেও বাস্তবে কাজ করার সময় সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন সবসময় দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনও মূলত বাণিজ্যিক ছবির সঙ্গে জড়িত। তাই তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে অভিজ্ঞতার জায়গা। জিৎ-এর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ফের সামনে এল বাংলা সিনেমায় কমার্শিয়াল বনাম অন্য ধারার ছবির পুরনো বিতর্ক। একইসঙ্গে স্বপন সাহা ও ঋতুপর্ণ ঘোষের উদাহরণ টেনে তাঁর বক্তব্য যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তা বলাই যায়।






