“আমার ছেলেটা বাংলা বলতে বা পড়তে জানে না…এটা গর্বের বিষয় নয়!” নিজের শিকড়ই হারিয়ে ফেলছে নতুন প্রজন্ম, মাতৃভাষা ভুলে যাওয়াকেই ‘স্ট্যাটাস’ ভাবছে ‘মডার্ন’ বাঙালি? “দক্ষিণ ভারতের মানুষ নিজের ভাষায় গর্ব করেন, বাঙালিরা কেন নয়?” বাঙালির মাতৃভাষাকে অবহেলা নিয়ে সরব অভিনেতা সুদীপ মুখোপাধ্যায়! আপনারাও কী একমত?

বাংলা ভাষা শুধু একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বাঙালির সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বায়নের প্রভাবে ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষার ব্যবহার বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু মাতৃভাষার প্রতি টান এবং তার চর্চা নিয়ে প্রশ্নও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষার ব্যবহার কমে যাওয়া নিয়ে বহু বিশিষ্ট মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি অভিনেতা সুদীপ মুখার্জীও বাংলা ভাষার বর্তমান অবস্থান এবং বাঙালিদের ভাষাচর্চা নিয়ে নিজের স্পষ্ট মতামত তুলে ধরেছেন, যা ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ সুদীপ মুখার্জী অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও বরাবরই নিজের মতামত তুলে ধরতে পিছপা হন না। সামাজিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং ভাষা নিয়ে তাঁর বক্তব্য বহুবার মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলা ভাষার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা অনেক বাঙালির মনেই থাকা দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে সামনে এনে দিয়েছে। তাঁর মতে, ভাষা কেবল কথা বলার মাধ্যম নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

সাক্ষাৎকারে সুদীপ মুখার্জী বলেন, বর্তমানে এমন অনেক মা-বাবাকে দেখা যায়, যারা গর্ব করে বলেন তাঁদের সন্তান বাংলা বলতে পারে না। তাঁর কথায়, এটি কোনো গর্বের বিষয় হতে পারে না। তিনি মনে করেন, নিজের মাতৃভাষা না জানাকে সমাজের একাংশ আজ আধুনিকতার পরিচয় হিসেবে তুলে ধরছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। শুধু বাইরের সমাজের কথা নয়, তিনি নিজের পরিবার এবং আশপাশের মানুষদের মধ্যেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন বলেও জানান। তাঁর মতে, বাংলা ভাষায় কথা বলতে লজ্জা পাওয়া বা বাংলা না জানাকে বিশেষ কৃতিত্ব হিসেবে দেখানো এক ধরনের সাংস্কৃতিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করে।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য ভাষাভাষী মানুষেরা নিজেদের মধ্যে কথোপকথনের সময় গর্বের সঙ্গে নিজেদের মাতৃভাষাতেই কথা বলেন। দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য হোক বা দেশের অন্য কোনো প্রান্ত, মানুষ নিজের ভাষাকে গুরুত্ব দিতে জানেন। অথচ অনেক বাঙালিই নিজেদের মধ্যে ইংরেজিতে কথা বলাকে সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখেন। সুদীপ মুখার্জীর মতে, ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষা শেখা অবশ্যই প্রয়োজন এবং তা শেখার বিরোধিতা করার কোনো প্রশ্নই নেই। কিন্তু সেই কারণে মাতৃভাষাকে অবহেলা করা বা নিজের ভাষার ব্যবহার থেকে দূরে সরে যাওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তাঁর বক্তব্য, একজন মানুষ যত বেশি ভাষা জানবেন, ততই তা তাঁর সমৃদ্ধির পরিচয়। কিন্তু নিজের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলা কোনোভাবেই উন্নতির লক্ষণ নয়। এছাড়াও তিনি ভাষানীতি নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, দেশের সরকারি ভাষা হিসেবে হিন্দি এবং ইংরেজির ব্যবহার রয়েছে, কিন্তু তার পাশাপাশি প্রতিটি অঞ্চলের মাতৃভাষাকেও যথাযথ মর্যাদা দেওয়া উচিত। যে রাজ্যের মানুষ, সেই রাজ্যের ভাষায় সরকারি ও প্রশাসনিক কাজের গুরুত্ব থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, আজকের দিনে আমরা যে বাংলা ভাষা ব্যবহার করি, তা অনেকটাই তার মূল রূপ থেকে সরে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ ৩৩ বছরের দাম্পত্য জীবন, কোনদিনও নাকি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়কে বিয়ে করতে চাননি চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়? বরং ছোটবেলা থেকেই অন্য এক পথেই হাঁটার ইচ্ছে ছিল তাঁর! সারাজীবন অবিবাহিত থেকে কী করতে চেয়েছিলেন? কী ছিল অভিনেত্রীর সেই অজানা স্বপ্ন? জানলে চমকাবেন!

ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বাংলা ভাষা এবং বাংলার ভৌগোলিক বিভাজনের প্রভাব ভাষার উপরও পড়েছে। তাঁর কথায়, “অরিজিনাল বাংলা” বা শুদ্ধ বাংলার ব্যবহার এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে এবং আমরা ক্রমশ নিজেদের ভাষার শিকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং মাতৃভাষার চর্চাকে আরও বেশি উৎসাহিত করাই এখন সময়ের দাবি। আপনারাও কি অভিনেতার সঙ্গে একমত? সত্যিই কি মাতৃভাষা ভুলে যাওয়াকেই ‘স্ট্যাটাস’ ভাবছেন অনেক বাঙালি?

You cannot copy content of this page