“আমি সেদিন পা ছড়িয়ে বসে কাঁদতে কাঁদতে ভেবেছিলাম…” “লোডশেডিং হলে খাট থেকে পা নামাতেও ভয় পেতাম, যদি…” স্বামীর মৃ’ত্যুর পর ভেঙে পড়া থেকে নতুন করে বাঁচার লড়াই! শোককে শক্তিতে বদলে, কীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন মালবিকা সেন? চোখ ভেজানো অধ্যায়ের স্মৃতি ভাগ করলেন অভিনেত্রী!

মালবিকা সেন যিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য, সঙ্গীত এবং অভিনয়ের জগতে এক পরিচিত ও সম্মানিত নাম। দীর্ঘদিন ধরে নিজের প্রতিভা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা মালবিকা ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। তাঁর বাবা-মায়ের উৎসাহেই সেই প্রতিভার বিকাশ ঘটে। তবে পেশাগত সাফল্যের আড়ালে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও ছিল নানা আবেগ, সংগ্রাম এবং কঠিন বাস্তবতার সাক্ষী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় ঘোরানো মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে তিনি এমন কিছু অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন, যা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার হয়ে উঠতে পারে।

ব্যক্তিগত জীবনে মালবিকা সেনের জীবনসঙ্গী ছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-র কলকাতা ব্যুরোর প্রাক্তন রেসিডেন্ট এডিটর সুমিত সেন। বয়সে প্রায় দশ বছরের বড় সুমিত সেনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল গভীর বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধায় ভরা। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে একে অপরের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তাঁরা। কিন্তু ২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর সুমিত সেনের মৃত্যু মালবিকা সেনের জীবনে এক বিরাট শূন্যতা তৈরি করে। সেই সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নেওয়ার লড়াই শুরু করেছিলেন তিনি।

সেই কঠিন সময়ের কথাই সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে অকপটে তুলে ধরেছেন মালবিকা। তাঁর কথায়, স্বামী ছিলেন অত্যন্ত মেথডিক্যাল মানুষ। সংসারের প্রায় সব দায়িত্ব তিনিই সামলাতেন। তাই হঠাৎ করে তাঁর চলে যাওয়া যেন মালবিকাকে একেবারে খোলা আকাশের নিচে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “আমি পা ছড়িয়ে বসে কাঁদতে কাঁদতে ভাবছিলাম, আমি কি কিছুই জানি না? আমি কি কিছুই পারব না? এভাবেই কি আমার জীবন কেটে যাবে?” সেই অসহায় মুহূর্তই ধীরে ধীরে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, আর ভেঙে পড়ে থাকবেন না। নিজের শক্তিতেই আবার নতুন করে জীবনকে গুছিয়ে তুলবেন।

এরপরই বদলে যেতে থাকে তাঁর মানসিকতা। মালবিকা জানান, আগে তিনি ভীষণ ভীতু ছিলেন। অন্ধকারে একা থাকতে ভয় পেতেন, লোডশেডিং হলে খাট থেকে পা নামাতে সাহস হতো না। রক্ত দেখলে ভয় লাগত, এমনকি ওষুধের গন্ধ পেলেও অজ্ঞান হয়ে যেতেন। কিন্তু সময় এবং পরিস্থিতিই তাঁকে সম্পূর্ণ অন্য মানুষে পরিণত করেছে। স্বামী, মা এবং বাবার চিকিৎসার সময় দিনের পর দিন হাসপাতালে কাটাতে কাটাতে তিনি বুঝেছেন, ভয়কে সঙ্গে নিয়েই বাঁচতে হয়। এখন আর কোনও পরিস্থিতিকেই তিনি আগের মতো ভয় পান না। তাঁর উপলব্ধি, জীবনের কোন মুহূর্ত মানুষকে কোথায় নিয়ে যাবে, তা আগে থেকে কেউ জানে না।

আরও পড়ুনঃ ‘একটা বড় ইমার্জেন্সি হয়ে গেছে…হাতজোড় করে আপনাদের বলছি, আমাদের পাশে থাকুন” নতুন ভিডিও ঘিরে ফের সমালোচনার মুখে মধুবনী গোস্বামী! ‘রাখালের গল্পটা শুনেছ তো? সত্যি যেদিন বাঘ পড়বে, কেউ বিশ্বাস আর করবে না!’ মানুষের আবেগ নিয়ে সস্তা নাটক, সমালোচনায় মুখর ক্ষু’ব্ধ নেটিজেনরা!

মালবিকা সেনের এই অভিজ্ঞতা শুধু একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ নয়, বরং জীবনের কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প। স্বামীকে হারানোর শোক তাঁকে ভেঙে দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই শোকই তাঁকে আরও দৃঢ় এবং আত্মনির্ভর করে তোলে। বাস্তব জীবনে তাঁর কোনও জৈবিক সন্তান না থাকলেও, নিজের নাচের স্কুলের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী এবং শুটিং সেটের সহকর্মীদের মধ্যেই তিনি মাতৃত্বের আনন্দ খুঁজে পান। তাই তাঁর জীবন বারবার প্রমাণ করে, মানুষ চাইলে সবচেয়ে অন্ধকার সময় থেকেও নতুন আলো খুঁজে নিতে পারে, আর সেই সাহসই জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

You cannot copy content of this page